হ্যারি কেইনের উত্তরসূরি পেয়ে গেছে ইংল্যান্ড?

হ্যারি কেইনের বয়স এখন ৩৩। ইংল্যান্ডের হয়ে ১২৫ ম্যাচে ৯১ গোল করা এই স্ট্রাইকার এখনো দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। কিন্তু ২০২৮ ইউরোতে তার বয়স হবে ৩৫। তাই প্রশ্নটা ক্রমেই বড় হচ্ছে—কেইনের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন কে?
হ্যারি কেইন ছাড়া ইংল্যান্ডকে কল্পনা করা এখনো কঠিন। প্রতিটি ম্যাচে নতুন কোনো রেকর্ড, নতুন কোনো মাইলফলক ছুঁয়ে যেন সেই প্রশ্নটাকে আরও কঠিন করে তুলছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতে চেকিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন কেইন। এই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোল এখন ৯১টি, ম্যাচ ১২৫।
ক্লাব ফুটবলেও তার ফর্ম অবিশ্বাস্য। গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল, জিতেছেন লিগ ও কাপের ডাবল। ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও বেশ ভালোভাবে আছেন। কিন্তু সময় তো থেমে নেই। ২০২৮ সালের ইউরোতে কেইনের বয়স হবে ৩৫। এরপরও যদি তিনি খেলেন, সেটি হবে ইংল্যান্ডের জন্য বড় প্রাপ্তি। তবে তার উত্তরসূরি নিয়ে ভাবতে হবে এখন থেকেই। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও সেটিই জানেন। তার ভাষায়, ‘আরেকজন হ্যারি কেইন পাওয়া যাবে না। আমাদের ভিন্ন কিছু বিকল্প ও সমাধান খুঁজতে হবে।’ কেইনের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত নামটি সম্ভবত জুড বেলিংহাম। টুখেল ইতিমধ্যেই তাকে স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ইংল্যান্ড কোচের চোখে বেলিংহাম এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি ৯ নম্বর ও ১০ নম্বর—দুই ভূমিকাই একসঙ্গে সামলাতে পারেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে বেলিংহামের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও টুখেলকে আশাবাদী করে তুলছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের হয়ে ১২ ম্যাচে তার গোল ১০টি। অথচ এর আগের ৪৮ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ছয় গোল। বেলিংহামকে নিয়ে টুখেল বলেছেন, ‘আমি ওকে ৯ নম্বর হিসেবে পছন্দ করি। সে স্বাভাবিক গোলস্কোরার। গোল করার ক্ষুধাও আছে।’
রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও বেলিংহাম দেখিয়েছেন, আক্রমণভাগের সামনে খেলতে তার আপত্তি নেই। ক্লাবটির হয়ে প্রথম মৌসুমে বেশ কয়েকবার ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলেছেন। দুই প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগো আক্রমণে উঠে আসায় বেলিংহাম তখন মাঝখান থেকে যেমন খেলেছেন, তেমনি গোলও করেছেন। কেইনও ইংল্যান্ডের হয়ে অনেকটা এমনভাবেই খেলেন। মাঝমাঠে নেমে এসে আক্রমণ তৈরি করেন, সতীর্থদের খেলান, আবার সুযোগ বুঝে বক্সে ঢুকে গোল করেন। এই দিক থেকে দেখলে বেলিংহামকে কেইনের জায়গায় ভাবা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে আপত্তিও আছে। ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসনের মতে, বেলিংহাম আসলে প্রকৃত ৯ নম্বর নন। তিনি বরং অন্যদের পেছন থেকে খেলতে বেশি স্বচ্ছন্দ। অর্থাৎ, বেলিংহাম হয়তো কেইনের হুবহু বিকল্প নন। বরং কেইন-পরবর্তী ইংল্যান্ডকে খেলতে হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আক্রমণাত্মক কাঠামোয়।
কেইনের বিকল্প হিসেবে সেন্টার-ফরোয়ার্ডের তালিকাটা খুব একটা লম্বা নয়। ডমিনিক কালভার্ট-লিউইন কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছেন। গত মৌসুমে লিডসে যোগ দেওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগে ৪০ ম্যাচে তার গোল ১৭টি। কিন্তু ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে কেইনের দীর্ঘমেয়াদি উত্তরসূরি বলা কঠিন। এর বাইরে ইংল্যান্ডের তরুণ স্ট্রাইকারদের মধ্যে এখনো কেউ ধারাবাহিকভাবে জাতীয় দলের দরজা ভাঙতে পারেননি।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ইংলিশ সেন্টার-ফরোয়ার্ডদের মোট গোল মাত্র পাঁচটি। মজার ব্যাপার হলো, ইংলিশ লেফট-ব্যাকদের গোলই ছয়টি! ড্যানি ওয়েলবেক গত মৌসুমে ১৩ গোল করে আবারও আলোচনায় এসেছিলেন। কিন্তু তার বয়স এখন ৩৫। আইভান টোনি ও অলি ওয়াটকিনসও ত্রিশের কোঠায় এবং সৌদি প্রো লিগে খেলছেন। সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড দলে তাদের জায়গা হয়নি।
সমস্যার একটা সমাধান অবশ্য টুখেলের হাতে আছে—স্ট্রাইকার ছাড়াই খেলা। চেলসির কোচ থাকার সময় টুখেল নিয়মিত কাই হাভার্টজকে আক্রমণের কেন্দ্রে ব্যবহার করেছেন। তার অধীনে সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে ৩৩ লিগ ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন হাভার্টজ। স্পেনও সাম্প্রতিক সময়ে এমন কৌশলের সফল উদাহরণ। বিশ্ব ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা কখনো মিকেল ওইয়ারসাবাল, কখনো ফেরান তোরেসের মতো উইঙ্গারকে সামনে এনে খেলিয়েছে। অর্থাৎ, কেইনের পর ইংল্যান্ডকে হয়তো নতুন কোনো ‘কেইন’ খুঁজতে হবে না। বরং পুরো আক্রমণ কৌশলই বদলে ফেলতে হতে পারে।








