আত্মপ্রচার
নিজেকে ‘পেলে-ম্যারাডোনার সমকক্ষ’ ঘোষণা রোনালদোর

পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ ডেনমার্ক ছাড়ার নেপথ্য কারণ অবশেষে খোলসা করেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এক দীর্ঘ বিবৃতিতে কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব প্রতিশ্রুতভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা। একইসঙ্গে নিজেকে কিংবদন্তি পেলে এবং দিয়েগো ম্যারাডোনার সমকক্ষ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন!
বিবৃতির একপর্যায়ে রোনালদো জানান, নরওয়ে ম্যাচে তাকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলে মাঠে নামানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের এই সিদ্ধান্তকে নিজের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিআরসেভেন। তার দাবি, নরওয়ে ম্যাচের পর বিষয়টি নিয়ে কোচের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে কোচ কথা দিয়েছিলেন যে, সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি ভুল স্বীকার করবেন এবং বলবেন- ‘পেলে বা ম্যারাডোনার সমকক্ষ একজন খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম-আপ করিয়েও ম্যাচে না নামানো আমার একটি ভুল ছিল।’
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে কোচ তার সেই কথা রাখেনি এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ক্যাম্প ছেড়ে মাদ্রিদে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্প এভাবে ছেড়ে আসার জন্য দেশের সাধারণ মানুষ, সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন রোনালদো। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দলের অধিনায়ক হিসেবে তার আচরণ আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তার এই শাস্তিমূলক অপরাধের জন্য যে শাস্তিই নির্ধারণ করুক না কেন, তিনি তা মাথা পেতে মেনে নিতে প্রস্তুত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের গুঞ্জন উঠলেও বিবৃতিতে তিনি শুনিয়েছেন কিছুটা আশার বাণী। সিআরসেভেন জানান, ফেডারেশন থেকে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যদি শরীর ফিট থাকে এবং ক্লাবের হয়ে মাঠে পারফর্ম করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে দেশের হয়ে আবারও মাঠে লড়াই করতে প্রস্তুত। তবে নরওয়ের বিপক্ষে ওই ঘটনা এবং কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পর্তুগাল ফুটবলে এই মুহূর্তে এক চরম অস্বস্তিকর ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।




