বিদায়ী ম্যাচ
মাঠে নামার আগে যেসব সম্মানে ভূষিত হলেন মেসি

জাতীয় সঙ্গীতের সময় অশ্রুসজল মেসি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নেই। আধঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচটি হয়ে উঠেছে মহামানবকে দেওয়া দেশটির কোটি মানুষের অফুরান ভালোবাসার প্রতীক। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক বিদায়ী সন্ধ্যায় অভূতপূর্ব সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র।
ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটের সম্মানসূচক সদস্যপদ তুলে দেওয়া হয় মেসির হাতে। ক্লাবটির সভাপতি স্তেফানো দি কার্লো মেসির হাতে বিশেষ এই কার্ড ও স্মারক জার্সি তুলে দেন। কার্ডটিতে কোনো সাধারণ নম্বর না রেখে ব্যবহার করা হয়েছে এক ঐতিহাসিক কোড— ‘এআরজি ১৮১২২০২২’, যা মনে করিয়ে দেয় ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কাতারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সেই সোনালী মুহূর্তটিকে। রিভার প্লেটের ঘরের মাঠ মনুমেন্তালে মেসি এর আগে ২৮ ম্যাচ খেলে একটিতেও হারেননি এবং করেছেন ১৯টি গোল। শৈশবে এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার কাছাকাছি গিয়েও বার্সেলোনায় চলে যাওয়া মেসির সাথে রিভার প্লেটের এই মেলবন্ধন এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। রিভার প্লেটের সম্মান ছাড়াও এদিন বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেসিকে দেওয়া হয়েছে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি, যা ফুটবল জাদুকরের বিশ্বজুড়ে তার অসামান্য প্রভাবের স্বীকৃতি।
ম্যাচ শুরুর আগের মুহূর্তগুলোও ছিল চরম আবেগঘন। তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং সিরোকে সাথে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন মেসি। এ সময় মাঠের কর্মীরা ১০ নম্বর জার্সি খচিত এক বিশাল জার্সি মাঠে মেলে ধরেন, যেখানে মেসির নামের নিচে লেখা ছিল ‘গ্রেসিয়াস’, যার অর্থ ‘ধন্যবাদ’। গ্যালারির হাজারো দর্শকের কণ্ঠে সমস্বরে ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান এবং আতশবাজির ঝলকানিতে কেঁপে ওঠে পুরো মনুমেন্তাল।ফকল্যান্ডস বা মালভিনাস যুদ্ধের বীর ফ্যাবিও সান্তানার কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। বিদায়বেলায় স্টেডিয়ামের বক্সে হাজির তার পুরো পরিবার। স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জে, তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো, মা সেলিয়া ও ভাই-বোনেরা মাতিয়াস, রদ্রিগো ও মারিয়া সোল), সঙ্গে ভাগ্নে-ভাতিজারাও আছেন। শুধু মেসির বাবা হোর্হে মেসি নেই। দু মাস আগে তিনি প্রয়াত হয়েছেন।





