১৯৮২ সালের পর আবার ৯ গোলের লজ্জা

আধুনিক যুগের ফুটবলে এখন আর ৯ গোল হজমের লজ্জা খুব একটা দেখা যায় না। গোল খাওয়ার পর পাল্টা গোল দিতে দেখা যায় দলগুলোকে। নয়তো সর্বোচ্চ রক্ষণাত্মক খেলে গোল আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার যা দেখিয়েছে, তাতে দেশের নতুন ফুটবল জাগরণে বিরাট ধাক্কা লাগল। সেই ১৯৮২ সালের পর আবার ৯ গোলে হজম করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে লাল-সবুজদের হার ৯-২ গোলে।
প্রথমবার ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই সুযোগে হলো ফুটবলের কালো ইতিহাস। ম্যাচ জুড়ে বাংলাদেশের খেলা যে কারও বিরক্তি ধরিয়ে দিতে বাধ্য। কোচ থমাস ডুলি আসলে কি পরিকল্পনা করে শিষ্যদের ম্যাচ খেলিয়েছেন তা নিজেই বলতে পারেন। দল যখন একের পর এক গোল হজম করছে, তখনো তিনি রক্ষণ শক্ত না করে মাঠে নামিয়েছেন একজন ফরোয়ার্ডকে।
বাংলাদেশের সব ফুটবলার মিলে ইন্দোনেশিয়ার গতিময় আক্রমণ সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার মতো অবস্থা। আক্ষরিক অর্থেই ত্রাহি মধুসূধন অবস্থা ছিল ৩৬ বছর বয়সী জামাল ভূঁইয়ার। তবুও এই ফুটবলারকে বদলির চিন্তা করেননি কোচ ডুলি।
বয়সের ভারে গতি হারানো জামাল হারিয়েছেন বল পজেশন, বল পাসের ক্ষমতাও! একই রকম বাজে খেলেছেন শুকি ইতোফুসা। বল পাস-রিসিভ, প্রতিপক্ষকে ট্যাকল- সবকিছুতেই অপটু এই ফুটবলার। আসলে ভালো খেলার নজির কারও নেই।
আর সবচেয়ে বড় ভুল কোচ ডুলির। ইন্দোনেশিয়ান ফুটবলারদের নিয়ে কোনো কাজই করেননি। কার স্ট্রেন্থ কোথায়, কাকে কীভাবে থামানো যাবে, কোন ধরনের রক্ষণে স্বাগতিকদের আটকে দেওয়া যায়; সেসব কিছুই ছিল না কোচের পরিকল্পনায়।
আর তাই ভারডুবিটাও বিশাল। ১১ মিনিট থেকে শুরু, এরপর ২০, ৩২, ৩৬, ৩৭, ৪২, ৪৫, ৯০ এবং ইনজুরি সময়ের প্রথম ষষ্ঠ ও সপ্তম মিনিটে গোল হজম করে বাংলাদেশ। মিচেল বাকের একাই করেছেন ৫ গোল।
শেষবার ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে ৯-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এর আগেও এমন লজ্জা ছিল। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৯-০, এবং ১৯৭৫ সালে হংকংয়ের বিপক্ষে ৯-১ গোলের হার ছিল। এ ছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ২০১৬ সালে জর্ডানের কাছে ৮-০, ১৯৯৩ সালে একই প্রতিযোগিতায় জাপানের কাছে ৮-০ গোলের হার বাংলাদেশের বড় হারগুলোর তালিকায় ওপরে।



