ডুলির আজব খেয়ালে ‘স্ট্রাইকার’ বিশ্বনাথ

আধুনিক ফুটবলে এখন এমন স্ট্রাইকারদের চাহিদা বাড়ছে, যারা গোল করার পাশাপাশি রক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলাদেশ অবশ্য বছরের পর বছর শুধু গোল করতে পারা একজন স্ট্রাইকারের খোঁজে আছে। থমাস ডুলি হয়তো সে চিন্তা থেকেই একজন পুরোদস্তুর ডিফেন্ডারকে হুট করেই বানিয়ে দিলেন স্ট্রাইকার! সেটাও মাত্র তিন-চার দিনের প্রস্তুতিতে, সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে।
থমাস ডুলি দায়িত্ব নিয়ে এমন অনেক কিছুই করছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই বলে যিনি কখনোই আক্রমণভাগে খেলেননি, সেই বিশ্বনাথ ঘোষকেই তিনি বানিয়ে দিলেন স্ট্রাইকার! ভুটান ম্যাচের পর সে সিদ্ধান্তের পেছনে ডুলির যুক্তিটা এমন— ‘সামনে থেকে বিশ্বনাথ যে এনার্জিটা দেয়, সেটা যেকোনো ডিফেন্ডারের জন্য সামলানো কঠিন। কারণ সে পূর্ণ শক্তি দিয়ে একনাগাড়ে প্রেস করে যায়, আর ওর এই দিকটাই আমার পছন্দ। গত সপ্তাহে আমি তাকে বলেছিলাম যে, তাকে নিয়ে আমার একটা পরিকল্পনা আছে।’
কোচের এই পরিকল্পনায় দলের প্রায় সবাই অবাক হয়েছিলেন। তবে কোচ যেহেতু সর্বেসর্বা, তাই এ নিয়ে কেউই কথা বলেননি। বিশ্বনাথও নিজের নতুন দায়িত্বটা ঠিকঠাক করায় মনোযোগী হয়েছিলেন। তাই বলে প্রশ্ন তো থেমে থাকবে না। জাতীয় দলে স্ট্রাইকার সংকট নতুন নয়। ঘুরেফিরে তাই অনেককেই এই পজিশনে খেলতে দেখা গেছে। রাকিব হোসেন যেমন একজন। মূলত রাইট উইঙ্গার হলেও সাবেক কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তাকে অনেক ম্যাচেই নাম্বার নাইনে খেলিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বনাথের বদলি নেমে দলকে জেতানো মোহাম্মদ ইব্রাহিমও হতে পারতেন ডুলির প্রথম পছন্দ।
তিন-চার দিনের প্রস্তুতিতে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ হয়ে গেলেন স্ট্রাইকার
ইব্রাহিমে আস্থা না থাকার কথা নিজেই ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন ডুলি— ‘বিশ্বনাথকে তুলে ইব্রাহিমকে ১০ নম্বর পজিশনে পাঠাই এবং শমিতকে একটু সামনে ঠেলে দিই। সত্যি বলতে, আমি ভাবিনি যে ইব্রাহিমই গোল করে ফেলবে; আমি ভেবেছিলাম সে কাউকে দিয়ে গোল করাবে।’
আসলে কোন পজিশনে কে সঠিক, সেটা এতদিনেও বুঝে উঠতে পারেননি ডুলি। তাই তো, ২৮ জনের স্কোয়াড গড়ার অবারিত সুযোগেও তিনি সম্ভাব্য স্কোরার দলে নেননি। শাহরিয়ার ইমনকে বাদ দিয়েছেন, ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিক গোল পাওয়া সৌরভ দেওয়ান, রাফায়েল টুডো, মোহাম্মদ সাব্বিররা ডুলির ‘মরচে ধরা’ রাডারেই ধরা পড়েননি।
গোল সমস্যা সমাধানে ডুলি আস্থা রেখেছিলেন দুই বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার রোনান সুলিভান ও মাহি খানে। রোনান চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। আর মাহি ক্যাম্পে পারেননি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। দলের অনেকেই জানিয়েছেন, মাহি কোনোভাবেই জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত নন। এক ফুটবলার তো বলেই দিলেন— ‘ছয় গজ দূর থেকেই যে শট নিতে জানে না, তাকে কীভাবে জাতীয় দলে কোচ সুযোগ দেয়, বুঝি না।’ অথচ এই মাহিতেই ভীষণ মজেছিলেন ডুলি। আবার বাস্তবতা বুঝে তাকে ভুটানের বিপক্ষে সেরা ২৩-এ-ই রাখেননি।
সামনে থেকে বিশ্বনাথ যে এনার্জিটা দেয়, সেটা যেকোনো ডিফেন্ডারের জন্য সামলানো কঠিন -থমাস ডুলি, বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ
বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার বানানোর ভাবনার আগে তিনি ইব্রাহিম, রাকিবের পাশাপাশি ভাবতে পারতেন তরুণ স্বাধীনকে নিয়েও। সেটাও ডুলি ভাবেননি। তাই গোলের পুরনো ব্যামোটা রয়েই গেছে। দুর্বল বলেই ভুটান বাধা পেরোনো গেছে, তাই বলে ডুলির আজব খেয়ালে সাফ শিরোপা জয় অনেকের কাছেই অসম্ভব।
এখন একটাই আশা— হামজা চৌধুরী। ক্যারিয়ার জুড়ে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা এই তারকা বাংলাদেশে এসে বনে গেছেন গোল মেশিন। লাল-সবুজে ১১ ম্যাচ খেলে এর মধ্যেই চার গোল করেছেন, অ্যাসিস্টও আছে একাধিক। শেফিল্ড ইউনাইটেড ছাড়েনি বলে ভুটানের বিপক্ষে ছিলেন না। থাকবেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১ নভেম্বরের ম্যাচে। তার সঙ্গী হয়ে আসবেন তরুণ ফারহান আলী ওয়াহিদও।
দুই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আসার পর নিশ্চয় বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার বানানোর আজব সিদ্ধান্ত নেবেন না ডুলি।



