সাক্ষাৎকার
আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য কোপা আমেরিকা জয়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর দীর্ঘ ২৪ দিন কানাডায় অবকাশ যাপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি রিও ডি জেনিরোয় ফিরেছেন। সিবিএফের সদর দপ্তরে ‘গ্লোবো স্পোর্ত’কে এক দীর্ঘ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত, এবং আগামী দিনে সেলেসাওদের নতুন রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর এই সময়টা কীভাবে কেটেছে এবং আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি কেমন ছিল?
কার্লো আনচেলত্তি: পরাজয়ের বিষয়টি হজম করা সহজ ছিল না। এটা কোনো স্বাভাবিক পরাজয় নয়, কারণ মঞ্চটি ছিল বিশ্বকাপের। ক্লাব ফুটবলের মতো এখানে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কোনো ম্যাচ পাওয়া যায় না, তাই এই ক্ষত অনেক দিন মনে থাকে। হতাশা এবং দুঃখ কাটিয়ে উঠতেই আমি কানাডায় পরিবারের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে শান্তিতে বসে কোচিং স্টাফ ও সিবিএফের সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছি।
প্রশ্ন: নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের কৌশল এবং আপনার খেলোয়াড় পরিবর্তন নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। ওই ম্যাচে কি কোনো ভুল হয়েছিল?
কার্লো আনচেলত্তি: ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগে পর্যন্ত দল দারুণ গোছানো ফুটবল খেলেছে। আমাদের সামনে পেনাল্টি এবং এন্দ্রিকের গোলের সুযোগও ছিল। তবে আমি নিজেই ম্যাচের পর স্বীকার করেছি যে, বিরতির পর যে পরিবর্তনগুলো এনেছিলাম, তাতেই আমরা খেলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। নেইমারকে নামানো হয়েছিল আক্রমণভাগে আরও ধার বাড়াতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত দলের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশ্ন: সিনিয়র খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ এবং নতুন দল গঠন নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
কার্লো আনচেলত্তি: এই বিশ্বকাপে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক প্রজন্মের ইতি ঘটেছে। নেইমার নিজেই ঘোষণা দিয়েছে যে, তার জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ। এর পাশাপাশি দানিলো, কাসেমিরো—যারা এই বিশ্বকাপে ৩০ বছরের বেশি বয়সী ছিলেন, তাদের সবারই জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য একটি নতুন প্রজন্ম তৈরি করা, যারা ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকার প্রথম লক্ষ্য অর্জনে দলের নেতৃত্ব দিতে পারবে।
প্রশ্ন: এর অর্থ কি এই যে আপনি সম্পূর্ণ নতুন দল গড়বেন? কোনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কি দলে থাকবেন না?
কার্লো আনচেলত্তি: না, আমি একসাথে ২৬ জন খেলোয়াড় বদলে ফেলব না। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য মারকুইনহোসদের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে থাকবেন। তবে মূল ধারণাটি হলো, পরিবর্তন আনা এবং একটি নতুন প্রজন্মকে সুযোগ করে দেওয়া। বিশেষ করে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের মিডফিল্ডে নতুন প্রতিভা খুঁজতে হবে।
প্রশ্ন: ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আপনি কেন ব্রাজিলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন?
কার্লো আনচেলত্তি: ইতালিয়ান ফেডারেশন থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। আসে এটি চুক্তির কোনো বিষয় নয়, এটি প্রতিশ্রুতির বিষয়। ব্রাজিল আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছে এবং আমি এক বছর ধরে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি এই প্রতিশ্রুতি ভেঙে যেতে দিতে পারি না। আমি ব্রাজিলের সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।
প্রশ্ন: ব্রাজিল তো আক্রমণাত্মক ও বলের দখল ধরে রাখার ফুটবলে অভ্যস্ত। নরওয়ের বিপক্ষে বলের দখল কম থাকা নিয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী?
কার্লো আনচেলত্তি: বর্তমান দলটির খেলোয়াড়দের যে বৈশিষ্ট্য, সেটার সঙ্গে পজেশন বেজড ফুটবল মানানসই নয়। আমাদের সামনে ভিনিসিয়ুস, এন্দ্রিক, এস্তেভাও এবং রাফিনিয়ার মতো খেলোয়াড়রা আছে, যারা দ্রুত আক্রমণ করতে পছন্দ করে। তাই আমাদের আরও বেশি ভার্টিক্যাল বা সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে। অবশ্যই আমরা যদি ভবিষ্যতে এমন কোয়ালিটিসম্পন্ন মিডফিল্ডার পাই, তখন পজেশন গেমের কথা ভাবা যাবে।
প্রশ্ন: আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। এই নতুন দল নিয়ে আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য কী?
কার্লো আনচেলত্তি: প্রীতি ম্যাচগুলোতে আমরা নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাব এবং প্রতিভা যাচাই করে নেব। ক্লাবগুলোর সঙ্গে মিলে এই তরুণদের গ্রুমিং করতে হবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপ হলেও, প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা জয় করা।









