দলবদলে টাকা ওড়ানোর রেকর্ড গড়ল প্রিমিয়ার লিগ

ইউরোপীয় ফুটবলের দলবদলের বাজারে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এবারের উইন্ডোতে দলবদলে ক্লাবগুলোর মোট খরচের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৩.৪৬ বিলিয়ন পাউন্ড।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবল ট্রান্সফার্স ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা পল ম্যাকডোনাল্ডের দেওয়া তথ্য বলছে—মাত্র পাঁচ বছর আগেও লিগটির ক্লাবগুলোর মোট খরচ ছিল ১.১৩ বিলিয়ন পাউন্ড। সেখান থেকে বর্তমান এই পাহাড়সমান অংকে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ইংলিশ ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি এবং বিশ্বমঞ্চে যেকোনো খেলোয়াড়কে আকর্ষণ করার ক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
এবারের ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এভারটন থেকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে ইলিমান এনদিয়াইয়ের ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগদানের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগের আগের রেকর্ড (৩.১৪ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে যায়। এরপর উইন্ডো বন্ধের ঠিক পরপরই চেলসি থেকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে এনজো ফার্নান্দেজের ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার খবর নিশ্চিত হয়। দলবদলের শেষ দিনেই ক্লাবগুলো খরচ করেছে রেকর্ড ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১০টি চুক্তির মধ্যে তিনটিই হয়েছে এই গ্রীষ্মে, যার সবগুলোই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোতে। এনজো ফার্নান্দেজের পাশাপাশি নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে এবং অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্সকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবগুলো। এছাড়া পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাথমিক ফি (যা ১২৩ মিলিয়নে উঠতে পারে) দিয়ে দলে নিয়েছে লিভারপুল।
ম্যানচেস্টার সিটি: নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে দল পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে সিটিজেনরা। দলবদল বাবদ তাদের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড, যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক উইন্ডোতে সর্বোচ্চ খরচের নতুন রেকর্ড। অবশ্য খেলোয়াড় বিক্রি করে তারা আয়ও করেছে ৩০৪ মিলিয়ন পাউন্ড।
চেলসি: ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্লুজরা। তবে খেলোয়াড় বিক্রি করে তারা ৩৮২ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করায় শেষ পর্যন্ত তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড। টটেনহ্যাম হটস্পার: স্কোয়াডের শক্তি বাড়াতে ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে টটেনহ্যাম। দলে ভিড়িয়েছে সন্দ্রো তোনালি (১০০ মিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে), মাতেউস ফার্নান্দেজ এবং স্যাভিওদের মতো তারকাদের।
ইপসউইচ টাউন ও অন্যান্য: প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসা নবউত্থিত ক্লাব ইপসউইচ টাউন অবনমন এড়াতে খরচ করেছে ১৭১ মিলিয়ন পাউন্ড। তাদের এই খরচ বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস এবং পিএসজির মতো ইউরোপিয়ান জায়ান্টদেরও ছাড়িয়ে গেছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খরচ করেছে ১৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড।
এবারের দলবদলের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর নিজেদের মধ্যেই বেশি লেনদেন করেছে। ট্রান্সফার ফি যুক্ত চুক্তির ৩৫ শতাংশই হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের এক ক্লাব থেকে অন্য ক্লাবে। এর মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি লিগ থেকে বেশি দামে খেলোয়াড় এনে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। বিপরীতে প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখা নিরাপদ। তাছাড়া, ইংলিশ ক্লাবগুলোর আর্থিক সামর্থ্য দেখে বিদেশি ক্লাবগুলো অনেক সময় অতিরিক্ত মূল্য দাবি করায় নিজেদের লিগের খেলোয়াড়দের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন ক্লাব কর্তারা।









