তদন্তে দোষী ম্যানচেস্টার সিটি
ভুয়া চুক্তি ও ভুয়া হিসাব দিয়েছিল ক্লাবটি !

ম্যানচেস্টার সিটির ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে প্রিমিয়ার লিগ এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছে। প্রিমিয়ার লিগের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘৯টি মৌসুম ধরে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মনীতি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবকে দোষী হিসেবে রায় দিয়েছে একটি স্বাধীন কমিশন।’
তবে এখনো ম্যানচেস্টার সিটির ওপর কোনো শাস্তি আরোপ করা হয়নি। ক্লাবটি ৯ বছর ধরে (২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে) নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব লুকিয়ে রেখেছিল, বলা হয়েছে স্বাধীন কমিশনের রায়ে। কৃত্রিমভাবে তাদের আয় ৯২০.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি করে দেখিয়েছিল তারা। তবে ম্যানসিটির আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
গত শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস ছিল এমনই। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের প্রতিটিতেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ছাড় পায়নি কোনোটিতেও। স্বাধীন কমিশন উল্লেখ করেছে, ‘নিজেদের এই ধরনের আচরণের মাধ্যমে ক্লাবটি যে স্পষ্টতই প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম-কানুনকে পাশ কাটাতে চেয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে।’ ম্যানচেস্টার সিটি বিভিন্ন বাণিজ্যিক সহযোগীদের সঙ্গে ভুয়া চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ভুয়া হিসাব জমা দিয়েছিল এবং ব্যয়ের নির্দিষ্ট সীমা ব্যাপকভাবে অতিক্রম করেছিল। এ ছাড়া তদন্তে ক্লাবটি কোনো রকম সহযোগিতা করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই রায়ে।
প্রকাশিত প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের এই রায়ে ম্যানচেস্টার সিটি অত্যন্ত হতাশ ও বিস্মিত। এসব অভিযোগ উড়িয়ে ক্লাবটি নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছে। তাদের সব অকাট্য ও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ আছে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড মাস্টার্স বলেছেন, ‘এই ডিসিপ্লিনারি বা শৃঙ্খলাজনিত মামলা এবং তার রায় প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। মামলার বেশ কিছু দিক এখনো সমাধান হওয়া বাকি। বিশেষ করে এই নিয়ম ভঙ্গের কারণে কী ধরনের শাস্তি আরোপ করা হবে, সেটা এখনো ঠিক হয়নি। যেহেতু আমরা এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত পেয়ে গেছি, তাই লিগ, ক্লাবগুলো ও ফুটবল ভক্তদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা এই প্রক্রিয়ার বাকি অংশ দ্রুত শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’



