সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর জয়ী
ভোটিংয়ে মেসিকে পেছনে ফেললেন রোনালদো

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির দ্বৈরথ যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না। মাঠের লড়াই অনেকটাই পেছনে ফেলে এসেছেন দুজন। তবে সর্বকালের সেরা কে- সেই বিতর্কে এখনো মুখোমুখি তাঁরা। এবার ব্যালন ডি’অরের এক বিশেষ ভোটাভুটিতে মেসিকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো।
ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আয়োজিত এই ভোটাভুটিতে বেছে নেওয়া হচ্ছে ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ীকে। একই সঙ্গে নির্ধারণ করা হচ্ছে পুরস্কারটির কোন সংস্করণটি সবচেয়ে স্মরণীয়। ভোটের ফল অনুযায়ী, রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের পক্ষে পড়েছে ৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে মেসির ২০১২ সালের সংস্করণের পক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৯ শতাংশ। আগামী ২৭ অক্টোবর ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন রোনালদো। গত শনিবারও তার পক্ষে ভোট ছিল ৬২ শতাংশ, বিপরীতে মেসির ২০১২ সালের সংস্করণের পক্ষে ছিল ১৩ শতাংশ। ২০০৮ সালটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সময়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সেবার প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতেছিলেন তিনি। পাশাপাশি জিতেছিলেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সেবার ৪২ গোল করেছিলেন রোনালদো। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরও ওঠে তার হাতে। ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের পথে সেটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের বড় টার্নিং পয়েন্ট। অন্যদিকে মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ২০১৩ সালে ঘোষিত ওই পুরস্কার ছিল টানা চতুর্থবারের মতো মেসির ব্যালন ডি’অর জয়। ২০১২ সালে বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা এক পঞ্জিকাবর্ষে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। গোল করার অবিশ্বাস্য সেই ধারাবাহিকতা তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তবু সমর্থকদের এই ভোটে আপাতত অনেকটাই পিছিয়ে মেসি।
ভোটাভুটিতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রোনালদোর ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অর জয়। এই সংস্করণের পক্ষে ভোট পড়েছে ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও স্প্যানিশ লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বেও তার গোল করার ক্ষমতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই পঞ্চমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী সংস্করণটিও ভোটের তালিকায় রয়েছে। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর ওই বছর অষ্টমবারের মতো পুরস্কারটি জিতেছিলেন তিনি। তবে প্রকাশিত ভোটের হিসাবে সেটি রোনালদোর ২০১৭ সালের সংস্করণকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।
এই ভোটাভুটিতে জায়গা পেয়েছেন অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জেতা ১০ ফুটবলার। রোনালদো ও মেসির বাইরে তালিকায় রয়েছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো। রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন। ফন বাস্তেনের জয় ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে। প্লাতিনি টানা তিনবার—১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে—ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ক্রুইফের জিতেছিলেন ১৯৭১, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাকি আট কিংবদন্তির পক্ষে সম্মিলিত ভোটের হার মাত্র ০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এই ভোটাভুটিতে রোনালদো ও মেসিকে ঘিরেই সমর্থকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভোট দিতে অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। প্রতিটি ভোটের জন্য দিতে হচ্ছে এক ইউরো। একই খেলোয়াড়কে আবার ভোট দেওয়া কিংবা তালিকার অন্য কোনো সংস্করণ বেছে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটের শতকরা হার দেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ভোটাভুটি চলবে ২৭ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একজনকে আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের টিকিট দেওয়া হবে। এদিকে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের মূল পুরস্কারের জন্য মনোনীত ৩০ জনের তালিকায় রয়েছেন মেসি। সেই দৌড়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে রোনালদো এবার সেই মূল পুরস্কারের দৌড়ে নেই।







