ইশরাক ইস্যুর মধ্যেই পুলিশকে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজের নামে মাদকবিরোধী অভিযান

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে দেশ জুড়ে আলোচনা-উত্তেজনার মধ্যেই পুলিশকে না জানিয়ে ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের অফিস থেকে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় আরিফ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে মারধর ও মাথা ফাটানো হয়েছে।
ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, তখন মোহাম্মদপুরে এ ধরনের অভিযানের পদ্ধতি এবং এক যুবককে আহত করার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত ১১টায় জেনেভা ক্যাম্পের কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের অফিস থেকে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এতে ববি হাজ্জাজের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধানের নেতৃত্বে সুদীন, জিসানসহ চার-পাঁচজন যুবক অংশ নেয়। যারা সংসদ সদস্যের লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
যদিও অভিযানের কথা অস্বীকার করেছেন মাশুক প্রধান। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্যের অফিস থেকে কোনো অভিযান ছিল না। ওখানে একটা নাগরিক সংগঠন আছে, ওরা মাঝেমধ্যে এরকম অভিযান চালায়। তিনি আরও বললেন, ‘ওটা (অভিযান) এমপি মহোদয়ের না। এমপি মহোদয়ের তরফ থেকে এরকম কোনো অভিযান চালানো হয়নি।’
জানা গেছে, অভিযানের সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় আরিফকে আটক করা হয়। পরে তাকে মারধরের একপর্যায়ে মাথায় আঘাত লেগে ফেটে যায়। আহত অবস্থায় পুলিশে তুলে দিলে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় নেওয়া হয়। আরিফের মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে।
জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় অভিযানের বিষয়ে থানাকে জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের আগে থানাকে জানানো হয়নি। তবে একজনের মাথা ফাটার পর পুলিশকে ফোন দিয়ে আহত অবস্থায় তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আরিফ নামে ওই যুবককে ডোপ টেস্টের জন্য চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাকে মাদক সেবন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অস্ত্র উঁিচয়ে ইশরাক যে স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন, সেখানে গতকাল সোমবার বিকালে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকার রেলস্টেশন-সংলগ্ন কয়েকটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ডিএনসি ১৫ জনকে আটক করেছে।
ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, আটক হওয়া ১৫ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ড ও জনপ্রতি ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম।




