সৌদিতে শিরশ্ছেদ, গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন নজরুল
আগামীর সময় প্রতিবেদক

ফেসবুক থেকে
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলাম মাহিন গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন ও আক্ষেপের কথা লিখেছিলেন। তার পুরোনো পোস্টগুলো সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন অনেকে।
নজরুলের ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩ মে তিনি লিখেছিলেন, ‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয় মধ্যবিত্ত সন্তানদের।’ এর আগে সৌদি আরবে যাওয়ার সময়ও নিজের প্রবাসজীবন ও পরিবারের আর্থিক সংকট নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা দেখছে বিরোধী দল
২০ অক্টোবর ২০২৬
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ করে ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে তোলা একটি ছবি দিয়ে তিনি বিদায়ের কথা জানান এবং সবার কাছে দোয়া চান।
সৌদি আরবে যাওয়ার পরও ফেসবুকে নিজের জীবনযাপন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তবতা নিয়ে বিভিন্ন কথা লিখতেন তিনি। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর এক পোস্টে তিনি নিজেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে অর্থের গুরুত্ব নিয়েও একটি পোস্ট দেন।
পরবর্তীতে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান নজরুল। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাবা শরিফের সামনে কর্মস্থলের পোশাকে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সেই পোস্টেও এখন অনেকে শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কার একটি মসজিদে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নজরুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এরপর তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, কারাগারে থাকার সময় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন তার ছেলে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়নি। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তারা প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন।
নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন তিনি। সংসারের হাল ধরার আশায় ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সে কারাগারে যায়। এ সময় মাত্র দেড় লাখ টাকা পরিবারের কাছে পাঠাতে পেরেছিল নজরুল।





