সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: দেশে নজরুলের পরিবারে শোকের মাতম, হৃদরোগে ফুফুর মৃত্যু

নজরুল ইসলাম
পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য চার বছর আগে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম। সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে তার পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। এর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ফুফু।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় বলে জেনেছে তার পরিবার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে নজরুল ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। চার ভাই-বোনের দরিদ্র কৃষক পরিবারে তিনি ছিলেন বড় সন্তান।
সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ নিয়ে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী এ যুবক।
গতকাল রবিবার নজরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়। পরিবারের সদস্যরা শোক আর বিলাপ করছিলেন নজরুলের জন্য।
ভাইয়ের ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে বুধবার রাতে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে জানালেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। নজরুলের মা রহিমা বেগমের কান্নাও থামছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে সৌদি আরব যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে নজরুল এবং সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর থেকে বন্দি ছিলেন তিনি।
রহিমা বেগম বলেছেন, কারাগারে থাকলেও প্রতি রবিবার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন তার ছেলে। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি পান। বিষয়টি পরিবারের কাউকে আগে জানানো হয়নি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তার স্বজনরা।
নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমার ছেলে কী করেছে, তা আমি জানি না। একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।’
নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি বাংলাদেশ সরকারকেও আগে জানানো হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর গতকাল ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
নজরুলের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।
নজরুলের গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন প্রবাসে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সৌদি আরব বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদার নীতি গ্রহণ করছে। সে বিবেচনায় বিচারব্যবস্থায়ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে পরিবারের যে অভিযোগ, সে বিষয়টিও সামনে আনেন তারা। নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশের সরকারের সহযোগিতা চাইছেন এলাকাবাসী।





