রহিমের ‘মানবতার সদাইঘর’

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন মানবতার সদাইঘরের স্বেচ্ছাসেবীরা
আব্দুর রহিম সরকারের বয়স ৪০ পেরিয়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তিনি। গাছের চারা বিতরণ, ক্ষুধার্তের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, গরিব পরিবারের হাতে নিত্যপণ্য পৌঁছানো, এমনকি এতিম মেয়ের বিয়েতে পাশে দাঁড়ানো— সবখানেই তার সাহায্যের হাত পৌঁছে গেছে।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রহিম সরকার ১৫ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। নার্সারির চারা তিনি বিনামূল্যে বিলিয়ে দেন দেশের নানা প্রান্তে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার চারা পৌঁছে গেছে বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ নানা এলাকায়। তার লক্ষ্য, এক লাখ চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য রহিম সরকার গড়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানবতার সদাইঘর’। সংগঠনের সদস্য ২৫ জন। সংগঠনের পরিচালক হিসেবে তিনি ইউনিয়নের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নিজের টাকা এবং সংগঠনে দেওয়া মানুষের অনুদানের টাকায় তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকার নিত্যপণ্য। অসুস্থতা আর অভাবে যারা স্বাভাবিক জীবন চালাতেই হিমশিম খান, তাদের পরিবারের জন্য এ সহায়তা বড় ভরসা। এ ছাড়া দুস্থ ও দরিদ্রদের ১০ টাকায় দেওয়া হয় প্রায় ৮০০ টাকার পণ্য।
কোথাও কেউ অভুক্ত আছেন— এমন খবর পেলে এক ঘণ্টার মধ্যে তার কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে মানবতার সদাইঘর।
স্থানীয় কান্তনগর বাজারের একটি নির্দিষ্ট হোটেলেও রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কারও কাছে খাবার কেনার টাকা না থাকলে সংগঠনের অর্থায়নে তার বিল পরিশোধ করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই— টাকার অভাবে কেউ যেন খালি পেটে ফিরে না যান।
গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়ে অনেক সময় বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতিম মেয়ের ক্ষেত্রে সেই সংকট আরও গভীর। এমন পরিবারের পাশে দাঁড়াতেও মানবতার সদাইঘর নিয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
সংগঠনটির মাধ্যমে এতিম কন্যার বিয়েতে মাত্র ২০০ টাকায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাব দেওয়া হয়।
সাদুল্ল্যাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত দশলিয়া গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন সরকারের ছেলে আব্দুর রহিম সরকার। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের সেবা করাকে তিনি জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তার স্বপ্ন, বাকি জীবন এভাবেই মানুষের পাশে থেকে কাটিয়ে দেওয়া।
আব্দুর রহিম সরকার জানালেন, এ পর্যন্ত ৭৪ জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাঁচজন এতিম মেয়ের বিয়েতে ৪০ হাজার টাকা করে আসবাব দেওয়া হয়েছে।
সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মরিয়ম বললেন, ‘আমার স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আমাকে ২০ টাকায় ২ হাজার ৬০০ টাকার খাদ্যসামগ্রী দেওয়ায় খুবই উপকৃত হয়েছি।’
সাদুল্ল্যাপুর উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি সফিউল ইসলাম স্বপনের ভাষ্য, রহিমের মানবিক কাজে এলাকার দুস্থ-অসহায় মানুষের অনেক উপকার হয়। মানবতার সদাইঘরের এসব কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



