সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। প্রবাসীদের জীবন, নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার সুরক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে জোটটি বলছে, এ ঘটনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটিয়ে জাতীয় মর্যাদা ও নাগরিকের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ রবিবার গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে আগাম অবহিত না করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময়, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তারা আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা, কনস্যুলার সহায়তা পেয়েছিলেন কিনা এবং তাদের পরিবারকে যথাসময়ে জানানো হয়েছিল কিনা- এসব প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো গুরুতর ঘটনায় স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন উপেক্ষা করা যায় না।
১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক নাগরিকদের নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসকে অবহিত না করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও ব্যাখ্যা আদায়ের দাবি জানান তারা।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট মনে করে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর শুধু তথ্য চাওয়ার মধ্যে সরকারের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে দূতাবাস কোনো তথ্য পেয়েছিল কিনা, দুই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ ছিল কিনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে কোনো গাফিলতি হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।
‘সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য শিক্ষা’, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয় বিবৃতিতে। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনভিপ্রেত।
বিবৃতিতে সৌদিতে বাংলাদেশি নারী অভিবাসী কর্মীদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং বেতন না দেওয়ার মতো অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়। নেতারা বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে সক্রিয় ও দৃঢ় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।



