প্রাণ বাঁচাতে টুপটুপ রিসোর্টের দরজা-জানালা ভেঙে বের হন পর্যটকরা

টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় আগুন। ছবি: আগামীর সময়
রাতভর সমুদ্রের পাশে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটিয়েছেন তারা। এরপর সকালে কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন, কেউবা নতুন দিনের পরিকল্পনা করছিলেন। কেউ কেউ সমুদ্রে গোসল করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ আগুন। প্রাণ বাঁচাতে কেউ দরজা ভেঙে, কেউ জানালার কাচ ভেঙে, আবার কেউ রিসোর্ট থেকে লাফ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। উদ্ধার করা হয়েছে আটজনকে।
আজ সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকায় সমুদ্রসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে রিসোর্টে মোট কতজন পর্যটক ছিলেন এবং তাদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ জন পর্যটক ছিলেন। তাদের কেউ কেউ সকালে সমুদ্রে গোসল করতে গিয়েছিলেন। আগুন লাগার সময় রিসোর্টের বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।
অন্যদিকে রিসোর্টের ভেতরে থাকা কয়েকজন পর্যটক দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ওপর থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। তবে আগুন লাগার সময় যারা ঘুমিয়ে ছিলেন, তাদের কী অবস্থা হয়েছিল, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এক পর্যটক বললেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী দোতলা থেকে পাশের নালায় লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসি। রিসোর্টটিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ছিলেন। আমরা প্রায় ৯ জন বের হতে পেরেছি।’
রিসোর্টের এক কর্মচারীর ধারণা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত ব্যক্তিরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। সমুদ্রের কাছাকাছি নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা সেখানে আসেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।




