‘অনলাইন গেমের জন্য আজ আমার জীবন দিতে হলো’

নিহত অলিপ বিশ্বাস
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অলিপ বিশ্বাস (২২) নামে ব্র্যাকের এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারসংলগ্ন শ্রীনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইলে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত অলিপ বিশ্বাস মাগুরার শালিখা উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের ছেলে।
তিনি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা এলাকায় ব্র্যাকের একটি শাখায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১০ মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
ময়েনদিয়া বাজারসংলগ্ন শ্রীনগর গ্রামের একটি বাড়িতে সহকর্মী আমরেন্দ্র মন্ডলের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন তিনি।
পুলিশ জানায়, সহকর্মী আমরেন্দ্র মন্ডল ছুটিতে বাড়িতে থাকায় ঘটনার সময় বাসায় একাই ছিলেন অলিপ। শনিবার সকালে আমরেন্দ্র ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরের আড়ার সঙ্গে অলিপের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন তারা।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটে অলিপ লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী। অনলাইন গেমের কারণে আজ আমার জীবন দিতে হলো। বোন, আমাকে মাফ করে দিস। তোদের কথা না শোনার কারণে আজ আমার জীবন দিতে হলো। বাবা-মার কথা খুব মনে পড়ছে। আমি আমার জীবনের পরাজয় মেনে নিতে পারলাম না। তাই জীবন দিয়ে শেষ করলাম।’
স্থানীয়রা জানান, অলিপ খেলাধুলা নিয়ে অনলাইন জুয়া খেলতেন। এতে বিপুল টাকা হেরে তিনি দেনাগ্রস্ত হন।
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুর রহমান বলেন, অলিপের ব্যবহৃত মোবাইলে অনলাইন জুয়ায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে অনেক টাকা ধার নিয়েছিলেন। এ ছাড়া অফিসের কিছু টাকাও জুয়ায় লোকসান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সব মিলিয়ে অনেক দেনাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অলিপের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



