সাক্ষাৎকারে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
মুখে বলছে রবীন্দ্রবিরোধী, লিখছে রবীন্দ্রনাথের ভাষায়

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯ অক্টোবর ১৯২৪ - ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮)
কবিকে আমি চিনেছি তার কবিতা দিয়ে। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ করার সৌভাগ্য আমার হয়নি এবং সে সৌভাগ্য হবে— এমন কোনো আশা ছিল না। তবে যে কবি ‘কবিতাকে কল্পনালতা’ মনে করেন না এবং চারপাশের ঘটমান বাস্তবতা থেকেই আহরণ করে নেন নিজের সোনার টুকরাসম সব কবিতা, বাস্তবে তাকে পাওয়া এক সৌভাগ্যই বটে; অন্তত নব্বইয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো একজন কবির নখের বয়সী একজনের কাছে তা চাঁদ হাতে পাওয়ার মতোই।
৩ এপ্রিল, ২০১৪ সালের বিকেলে প্রথম জানলাম কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এসেছেন বাংলাদেশে, সাক্ষাৎকার দেবেন শুধুমাত্র মহাকুলীন দুই খবরের কাগজকে এবং টেলিভিশন ক্যামেরা উনি পছন্দ করেন না, একটানা ১০ মিনিটের বেশি কথা বলতে পারেন না, খুব ব্যস্ত শিডিউল এবারের সফরে... ইত্যাদি ইত্যাদি নৈরাশ্যকর খবরাখবর পাচ্ছি আর ভাবছি দুর্ভাগা আমার আর প্রিয় এই কবির মুখোমুখি দাঁড়ানো হবে না। শেষমেষ সেটা হলো এবং তা কালি ও কলমের শ্রদ্ধেয় সম্পাদক আবুল হাসনাতের ঐকান্তিক চেষ্টায় ও সৌজন্যে। আমার ধারণা একজন কবির একটি সাক্ষাৎকারের জন্য কেউ এ বর্ষীয়ান সম্পাদককে এত বিরক্ত করেনি।
ছোট্ট একটা সাক্ষাৎকার নেবার অনুমতি সঙ্গে নিয়ে আমরা বলে রাখা সময়ের ঘণ্টাটার আগেই হাজির হলাম গ্রিন রোডের পারিল গ্রিনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা জুড়ে থাকা ছিমছাম আবাসিক অতিথিশালায়। ডাক পড়ল একটু পরই। কাঙ্ক্ষিত সময়ের অনেক আগেই। তখন ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে তিন। আগে থেকেই জানি সাড়ে ছয়টায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে কবি ‘কবিতার দিকদিগন্ত’ শিরোনামে বক্তৃতা করবেন। ঘরে তখন কবি ছাড়াও তিনজন মানুষ আরও। কবির পুত্রবধু, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের তাজমি নূর ভাই, কবির একজন ভক্ত পাঠিকা আসমা আক্তার যিনি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একই উপন্যাসের দুই কপি নিয়ে এসেছেন কবির আত্মচিত্রণে পুস্তকদুখানিকে ধন্য করবেন বলে।
আমি নমষ্কার করে ঢুকতেই কবি বললেন, একটু বসো, ওদের বিদায় করে নেই, বসব তোমার সঙ্গে। আমি কবিকে বললাম, উনারা থাকলেও সমস্যা নেই। আমার সাথে থাকা ভিডিওগ্রাফার সঞ্জীত কুমার সাহা সেট করলেন ক্যামেরা। অটোগ্রাফরত কবিকে ধারণ করলেন, আমি বুঝিয়ে দিলাম অল্প কথায় কি করতে হবে! হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে কবি ভরাট গলায় বলে উঠলেন, বলো, কি জিজ্ঞেস করবে? নাম কি তোমার?
আমি নাম বলে আলাপচারিতা শুরু করলাম, প্রথমেই বললাম, আমি তো আপনার নখের বয়সী, কি ডাকব, দাদা মানে যেমন ভাই, তেমনি আমরা পিতামহকেও দাদা বলি। আমি কি নীরেনদা বলতে পারি?
ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন
ও (অমলকান্তি) যে রোদ্দুরই হতে চেয়েছিল। গরীব ঘরের ছেলে, বস্তিতে থাকত। এমন একটা বস্তিতে থাকে যেখানে রোদ্দুর ঢুকতো না। ফলে ওর কাছে রোদ্দুর একটা প্রিয় জিনিস। কিন্তু সেই রোদ্দুরটা সে পাচ্ছে না। সে নিজেই রোদ্দুর হয়ে যেতে চাইছে
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: কবিতা লেখো তুমি?
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: জ্বি, চেষ্টা করি।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তাহলে অবশ্যই বলতে পার। আরে দাদা তো আমাদের কথার, সম্বোধনের একটি ভিন্ন মাত্রাও দেয়। আর সামনের অক্টোবরে নব্বইয়ে পড়ব, শরীরটাও খুব সায় দেয় না, কিন্তু মনের বয়স কিন্তু আমার এখনো তোমারই মতোন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, বাংলাদেশ তো আপনাকে স্বাগত জানাল প্রাণখুলে। গতকাল আপনি কালি ও কলমের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কবিতা শুনিয়ে বলছিলেন মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন সেই পথে নতুন লেখকরা যেন না যায়। নতুন পথ যেন তারা তৈরি করে। তারপর আজ কবিতা বিষয়ে বক্তৃতা দেবেন। বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক, সাহিত্যপাতার সম্পাদকরাও দেখলাম আপনার সাক্ষাৎকার নেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, এই যে এলেন, কেমন লাগছে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: দেখো, এটা আমার দেশ। আমার ট্র্যাজেডি এই যে আমার দেশ আমার মাতৃভূমি বটে কিন্তু জন্মভূমি নয়। আমার জন্ম ফরিদপুরে। মানে তো বাংলাদেশে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমার দেশ ভারতবর্ষ। বাংলাদেশও আমার দেশ, জন্মভূমি অর্থে। আর আমি যখন জন্মেছি তখন তো পুরোটাই ভারতবর্ষ। তো আমার দেশে আমি এসেছি, স্বাগত জানানোর তো আপাতপক্ষে কিছু নেই। যেটুকু তোমরা হইচই করছ, আমার মনে হয় সে আমার কবিতা তোমরা গ্রহণ করেছ সেজন্য।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি জন্মেছেন ১৯২৪ সালে (১৯ অক্টোবর), বাংলা তখন ১৩৩১ (২ কার্তিক), বাংলাদেশের ফরিপুর জেলার চন্দ্র গ্রামে, এখন ২০১৪ সাল। জীবনের দিকে ফিরে তাকালে কোন কোন ঘটনাগুলো সবার আগে চোখে ভেসে ওঠে? শৈশব থেকে অদ্যাবধি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তুমিতো আমার পুরো আত্মজীবনী জানতে চাইছ। সেটার একটা অংশ আমি লিখেছি। তবে জীবনের দিকে তাকালে সবার আগে নিজের বিষাদগুলোর কথা মনে পড়ে। ব্রিটিশরাজ দেখেছি, ভারতবর্ষের খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়া, আমাদের স্বাধীনতা লাভ, স্বাধীন বাংলাদেশকে দেখা, পশ্চিমবঙ্গের এক ধরনের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির দিকে যাওয়া এসবই আমার জীবনের বড় ঘটনা। ব্যক্তি হিসেবে বড় ঘটনা বলতে হবে ধরো আমার প্রথম কবিতার বইটা যখন বেরোল সেটা। এর চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত পারসোনালাইজড ঘটনাগুলোর কথা নাই বা বলি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হা হা হা। দাদা, আপনার ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তো আনন্দবাজারের রবিবাসরীয়কে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন ‘আমার মনে হয় কবিতাই আমার মাতৃভাষা।’ সারা জীবনে তো গদ্যও লিখেছেন প্রচুর। খবরের কাগজে কাজ করেছেন—
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আমি মনেই করি কবিতা আমার মাতৃভাষা। কবিতার ভাষাই। গদ্য নয়। গদ্য আমি বাধ্য হয়ে লিখি। খবরের কাগজে কাজ করার কারণে লিখতে হয়েছে প্রচুর। কিন্তু কেবলই মনে হয়, কবিতাকে ফাঁকি দিয়ে, তার থেকে সময় চুরি করে নিয়ে আমি গদ্যকে দিচ্ছি। গদ্য লিখতে আমার ভালো লাগে না শিমুল।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অর্থাৎ এই নিঠুর নব্বইতে এসেও আপনি এত কবিতা লেখার পর আরো কবিতা লিখতে চান। আপনার মনে হয়, যে সময়টুকু জীবনের কবিতাকে দিলেন, আরো বেশি দেওয়া উচিত ছিল? বাংলাভাষার কবি হিসেবে নিজেকে কত নম্বর দেন আপনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: অবশ্যই। আরো অনেক বেশি দেওয়া উচিত ছিল। যত সময় দেবার দরকার ছিল তা দিতে পারিনি। তবে আমার মনে হয় না আমি কম লিখেছি। নম্বরপ্রথায় আমার আস্থা নেই। যা করেছি, তা পাঠকেরাই, অনুজ কবিরাই, তোমরা বলবে। নম্বর তুমিই দাও।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার প্রায় সব কবিতাই একটা না একটা গল্প বলে। অথচ যখন শুরু করেছিলেন, বাংলা ভাষায় তখনো সেভাবে কবিতায় গল্প বলার প্রচলন ছিল না। যদি না আমরা রবিঠাকুরের ‘দুই বিঘে জমি’ কিংবা ‘ক্যামেলিয়া’র মতো কিছু কবিতাকে আলাদা রাখি। নিজের কবিতায় গল্প বলবেন এটা কবে ঠিক করলেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: সুন্দর প্রশ্ন করেছ। তবে কবিতায় গল্প বলার বিষয়ে কি জানো, সম্পূর্ণগল্পটা তো আর আমি কবিতায় ধরে দিতে পারব না। গল্পের একটা আভাস আছে, একটা ইঙ্গিত আছে আমার কবিতায়। একটা আন্দাজ দিতে পারব। এই্ প্রসঙ্গে একটা কথা বলি, আমাদের বাংলা সাহিত্যের কবিতা সেই গোড়া থেকেই গল্প বলে। মহাভারত পুরোটা জুড়েই গল্প আর গল্প। একগাদা গল্পের সমষ্টি। আমাদের মঙ্গলকাব্য গল্প ছাড়া আর কি! আর সেগুলো তো পদ্যেই লেখা। ছন্দে লেখা গল্প। কেমন!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আমাদের ময়মনসিংহ গীতিকা কিংবা পাঁচালি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: হ্যাঁ, পাঁচালি গল্প ছাড়া আর কি! দেখো পাঁচালিতে কি রয়েছে! আসলে মানুষ হচ্ছে ভোগবাদী। তকমাপ্রিয়। আমি তকমা চাই না। কবিতায় গল্প বলার ব্যাপারটা নতুন নয়।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তাহলে দাদা আপনার স্বাতন্ত্র্যটা কোথায়? কবিতার?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: দাঁড়াও পাঁচালির গল্পটা বলে নেই। বলছি আমি যা করেছি তা-ও। পাঁচালিতে কি রয়েছে! একটা পরিবার খুব অশান্তিতে ভুগছে, পরিবারের যিনি শ্বশ্রুমাতা, শাশুড়িঠাকরুন, তিনি বনে গেছেন আত্মহত্যা করতে। তারপর সেখানে বনলক্ষ্মীর সঙ্গে দেখা। বনলক্ষ্মী জিজ্ঞেস করছে, বনে এসেছ কেন? শাশুড়ি ঠাকরুন বলছে, আমি আত্মহত্যা করতে এসেছি। কেন? বলছে যে আমার সাতটা ছেলে, সাতপুত্র, কর্তা হয়ে, সাতপুত্র সাতহাঁড়ি হয়েছে এখন, সতত বঁধুরা মোরে করে জ্বালাতন। কেমন! বনলক্ষ্মী বললেন, তুমি বাড়ি ফিরে যাও। বুড়িবারে সন্ধ্যাকালে মিলি বামাগন, বুড়িবার মানে বৃহস্পতিবার, বামাগণ মানে নারীগণ, সকলে লক্ষ্ণীর পূজা করো আয়োজন। তাহলে দেখবে সংসারে আবার শান্তি ফিরে আসবে। এটা গল্প ছাড়া আর কি! গল্প পুরনো ব্যাপার আর কবিতার মধ্যে গল্প বলাটা নতুন কিছু না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কিন্তু আপনার কথনভঙ্গি! গদ্যের চলনে অন্তমিলের মৌলিক খেলা!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আসল কথাটা তা নয়। আসল কথাটা হচ্ছে, লিরিক কবিতা, লিরিক কবিতায় গল্প বলার চলনটা ছিল না। লিরিক কবিতার আমরা একটা ভুল ব্যাখ্যা করি। লিরিক কবিতাকে আমরা বলি গীতিকবিতা। না গীতিকবিতা নয়, এটা পারসোনালাইজড পয়েট্রি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: পারসোনালাইজড মানে কি কাস্টোমাইজড দাদা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: একেবারে ব্যক্তিগত উচ্চারণ বলতে যা বোঝায়। নিজের মতো। এখানে গদ্যের মধ্যেও কবিতার সেই গীতসুধাটা থাকে। তো সে অর্থে আমি কোনো নতুন কাজ করিনি। যেটা করেছি, সেটা হলো আমি আমার ভাষায় করেছি এবং আমি মনে করি, যদি গল্প ঢুকিয়েও থাকি কবিতার মধ্যে সেটা কোনো অন্যায় করিনি। (হেসে ওঠা)
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তা অন্যায় করেননি মোটেও। আপনাকে প্রথম চিনেছিলেন আপনার বন্ধু কবি অরুণকুমার সরকার। আপনার প্রথম বই নীলনির্জনে বেরোবার গল্পটা শুনতে চাই। প্রথম বই তো সব কবির কাছেই মহাআরাধ্য হীরকমণিমুক্তার মতো, স্পেশাল—
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: কবিতা না লিখে তো আমার উপায় ছিল না। কিন্তু নিজের পয়সা দিয়ে বই আমার বের করার কোনো ইচ্ছা কোনোকালেই ছিল না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অরুণকুমার সরকার আপনার বই বের করে দিয়ে বলেছিলেন, কবিতা না লিখলে তুই তো মরেই যাবি!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: একদিন হঠাৎ আমার কাছে অরুণ সরকার এসে বলেন, আমার বন্ধু, যে, তোমার কাছে সিগনেট প্রেসের দিলীপগুপ্ত মশাই। সিগনেট তখনকার কালে ভীষণ নামকরা পুস্তক প্রকাশন প্রতিষ্ঠান, তারা তখন নেহরুর ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া বের করেছে এবং বড় কবিদের বড় বড় লেখকদের বই বের করে যাচ্ছে। তার মধ্যে অরুণ এসে বলল, তোমার একটি বই দিলীপবাবু চেয়েছেন। তুমি একটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট তৈরি করে দাও। সত্যি বলছি, আমি বিশ্বাস করিনি। উনি বললেন, সত্যিকথা বলছি, তৈরি করে দাও, তোমার নাম করে চেয়েছেন দিলীপবাবু। তো ওর জোরাজুরিতে বিশ্বাস করতে হলো। একটা পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দিলাম। অরুণকুমারের হাতেই দিয়ে দিলাম, তিনি গিয়ে দিলীপ বাবুর হাতে দিলেন, বই বেরিয়ে গেল। বই বেরোবার পর কিন্তু আমি জানতে পারলাম দিলীপবাবু আমার বই চাননি। তিনি অরুণের বই চেয়েছিলেন। তিনি অরুণকুমার সরকারের বই চেয়েছিলেন, বই বেরিয়ে গেছে আমার।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা কি ইচ্ছে করেই করেছেন তিনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: একদম ইচ্ছে করেই করেছে। আমি জেনে তো রেগেমেগে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা তুমি কেন করলে? তোমার বই উনি চেয়েছেন আর তুমি আমাকে বললে আমার বই চেয়েছেন, এটা তুমি কেন করলে? আমার বই বেরোনো দরকার ঠিকই কিন্তু তোমার বইওতো বেরোনো দরকার! তুমি আমার কাছে চাইলে কেন? আমি চার্জ করলাম।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অরুণকুমার সরকার কি বললেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: অরুণ হেসে বলল, তুমি আমার চেয়ে বড় কবি এমন কথা ভেবে কিন্তু বলিনি। তুমি ভেবো না তুমি আমার চাইতে ভালো লেখো। কিন্তু তোমার বই বেরোনো দরকার আমার চাইতে বেশি। এজন্যে আমি নিজের বই না করে তোমার বই দিয়েছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা আপনি উলঙ্গ রাজার জন্য পেয়েছেন আকাদেমি পুরস্কার, সেই কবিতায় যে সত্যবাদী, সরল, সাহসী একটি শিশুকে খুঁজছিলেন, যে বলবে, ‘রাজা, তোমার কাপড় কোথায়?’ তাকে কি দেখেছেন আপনি আপনার জীবনে? পেয়েছেন তার দেখা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: বাচ্চারা তো এত সব ধান্দাবাজি বোঝে না আমাদের মতো। আমরা বড় যত হই তত ধান্দাবাজ হই। কার প্রশংসা করব, তার কাছ থেকে আমার কিছু পাবার আছে কি না এসব ভেবে কাজ করি। চারদিক কতগুলো চাটুকারের দ্বারা পরিবৃত হয়ে গেছে, এরা আমাদের মন রেখে কথা বলে। বাচ্চারা এসবের ধার ধারে না। এই কারণে সত্য বলতে তাদের কোনো বাধা নেই। সত্য কথাটা একমাত্র তারাই বলে। তো, এটা যেমন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের গল্পে এটা আছে, এই যে একই গল্পের নানান ভার্সন নানান ভাষায় ছড়িয়ে আছে, চালাক জোলা আর বোকা রাজার গল্প, আসলে কোনো রকম কাপড় নেই। সে কাপড় পরাবার একটা ভঙ্গি করে। হাওয়ায় হাত ঘুরিয়ে, রাজাকে বোকা বানিয়ে টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আহা রাজসত্র, চোখে দেখা যায় না!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: হ্যাঁ, এত পাতলা সুতো যে চোখে দেখা যায় না। এ গল্পটা ঠাকুমার কাছে ছেলেবেলায় শুনেছিলাম। তারপর মনে হয়েছে চারদিকের অবস্থা দেখে, যে কেউ সত্য কথাটা বলছে না। সকলেই যে শাসক তার মন রেখে কথা বলছেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, এই কবিতার নির্যাস আপনি যেখান থেকে নিয়েছেন সে সোর্সটা আপনি বললেন, আপনার সবথেকে জনশ্রুত যে কবিতা অমলকান্তি, সেটি ওপার বাংলায় যেমন এখানেও আবৃত্তিশিল্পীরা বহুবার আবৃত্তি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমিও মঞ্চে পড়েছি বহুবার আপনার এ কবিতা, এমনকি অমলকান্তি তো বাংলাদেশে চলচ্চিত্রেও রূপায়িত হয়েছে, পারভেজ চৌধুরী অমলকান্তি চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন, সে কবিতার সোর্স বা নির্যাসটি কিভাবে পেয়েছিলেন? অমলকান্তি কি আপনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: না, আমি নামটা পাল্টাবার কোনো দরকার বোধ করিনি। অমলকান্তি আমার বন্ধু। ইশকুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম। এভাবেই তো কবিতাটা শুরু, এর প্রত্যেকটি কথা সত্য। আমার স্কুলের যে বন্ধু তার নাম অমলকান্তিই বটে। গরীব ঘরের ছেলে। একদিন, খেলার মাঠে বসে ময়দানে কথা বলছিলাম, নিজেদের মধ্যে, কে কি হতে চায়! কেউ মাস্টার হতে চায়, কেউ ডাক্তার হতে চায়।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অমলকান্তি রোদ্দুরই হতে চেয়েছিল? বড় বেশি কাব্যিক না চাওয়াটা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: বটে! কিন্তু ও যে রোদ্দুরই হতে চেয়েছিল। গরীব ঘরের ছেলে, বস্তিতে থাকত। এমন একটা বস্তিতে থাকে যেখানে রোদ্দুর ঢুকতো না। ফলে ওর কাছে রোদ্দুর একটা প্রিয় জিনিস। কিন্তু সেই রোদ্দুরটা সে পাচ্ছে না। সে নিজেই রোদ্দুর হয়ে যেতে চাইছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি পেশায় সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার প্রয়োজনেই প্রচুর গদ্য লিখতে হয়। পিতৃপুরুষ তো ভীষণ আলোচিতও হলো। আপনার যাপিত জীবনে সাংবাদিক ও কবির দ্বৈরথটা কেমন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আমি যখনই গদ্য লিখতে বসি তখনই মনে হয় কবিতা থেকে চুরি করে আমি সময় দিচ্ছি গদ্যকে। কিন্তু আগেই বলেছি গদ্য লিখতে আমার ভালো লাগে না। দেখুন, এই ভদ্রমহিলা (সামনে বসে থাকা বর্ষীয়ান আসমা আক্তারকে দেখিয়ে) আমার গদ্যের অনুরাগী পাঠিকা। তিনি আমার বই দুখানা কিনে এনেছেন, গদ্যের বই, একই বই, এসেছেন আমার স্বাক্ষর নেবেন বলে। কিন্তু কী করবো, আমি যখনি গদ্য লিখতে বসি আমার মনে হয় এই সময়টা আমার কবিতাকে দেয়া উচিত ছিল। আমি আবার স্পষ্ট করে বলছি, গদ্য লিখতে আমার ভালো লাগে না, আমার মনে হয় আমি অন্যের ভাষায় কথা বলছি। গদ্য আমার নিজের ভাষা না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নিজের ভাষার যে কবিতা, তাকে এই নব্বই বছর পর্যন্ত যত সময় দিলেন, তাকে কি যথেষ্ট মনে হয়? না মনে হয়, যে, আরো দেওয়া উচিত ছিল?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আরো অনেক দেওয়া উচিত ছিল। আমি কীভাবে কবিতা লিখি, এই যে আমার বড় মেয়ে এখানে রয়েছে, এনাকে (আসলে পুত্রবধূ কাকলী চক্রবর্তীকে দেখিয়ে) জিজ্ঞেস করে নাও, ওরা আরো ভালো বলতে পারবে আমার চেয়ে। আমি তো আমাকে দেখি না, ওরা যতটা দেখে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার কবিতা সম্পর্কে একটা উক্তি তো বহুল-আলোচিত, আপনি বলেন, কবিতা কল্পনালতা নয়— এই কথা কেন? কবিতা ক্ষেত্রে তো সব সময়ই কল্পনার অবকাশ থেকে যায়। কয়েক দশকে তো আমরা এমন অনেক কবিদের দেখছি তারা তাদের কল্পনার অন্য এক জগতের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চান। কিন্তু আপনার কবিতা অনেকাংশেই সমাজবাস্তবতানির্ভর। সেখানে তেমন করে কল্পনার সুযোগ নেননি কেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আমার কল্পনা অত্যন্ত দরিদ্র। যে জগতে আমি বসবাস করি, বিরাজ করি কবিতার জন্য তাকে জানা-বোঝাই আমার যথেষ্ট মনে হয়েছে। কল্পনার প্রয়োজন হয়নি আমার। কিংবা বলতে পার, কল্পনার ধার আমি ধারিনি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কিন্তু যারা কল্পনালতায় ভেসে কবিতা লেখেন তাদের কবিতা কি আপনি পছন্দ করেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তা করি। সকল ধরনের কবিতাই আমি পছন্দ করি। সেটা কোনো কথা নয়। কিন্তু আমার কল্পনা এত দরিদ্র আমি কিছু কল্পনা করতে পারি না, আমি চারপাশের মানুষদের দেখি, তাদের সুখদুঃখের খবর রাখি। হাঁটে বাজারে যাই তাদের কথা শুনি। বাসে-ট্রামে চলাফেরা করি, মানুষ দেখি, আমার হালে একটা গাড়ি হয়েছে, আমার গাড়িও ছিল না, আর গাড়ি আমি পছন্দও করিনি, সারাজীবন ট্রামে-বাসে যাতায়াত করেছি, লোকের কথা শুনেছি, যা শুনেছি, যা নিয়েছি তা থেকেই আমার কবিতা হয়ে যায়। আমার কিছু কল্পনা করতে হয় না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার কবিতা এত নিখুঁত ছন্দে ঢালা কিভাবে হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার নামে আপনার একটা কবিতা আছে। প্রিয়তমাসু। আমি নিজেও প্রচুর পড়েছি সেটি মঞ্চে। (আমি পড়তে শুরু করি স্মৃতি থেকে)
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: বাহ! খুব সুন্দর পড়েছ কবিতাটি, ছন্দটা ধরতে পেরেছ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: দাদা এই যে এ কবিতায় আপনি বলছেন, ‘এবং তুষার মৌলি পাহাড়ে কুয়াশা গিয়েছে টুটে,/ এবং নীলাভ রৌদ্রকিরণে ঝরে প্রশান্ত ক্ষমা,/ এবং পৃথিবী রৌদ্রকে ধরে প্রসন্ন করপুটে।/ দ্যাখো, কোনোখানে কো্নো বিচ্ছেদ নেই। //’’ আপনার কবিতা এত নিখুঁত ছন্দময়, অথচ আপনি যেন পাঠককে সেটা বুঝতে দিতে চান না, গদ্যছলনার মুখোশে ঢেকে দেন যেন, এটা কেন করেন? সচেতন ভাবেই করেন? নাকি লিখতে লিখতে আপনার সেই প্যাটার্নটা দাঁড়িয়ে গেছে, এখন আপনার ভেতর থেকে স্বতর্স্ফূতভাবেই এরকমই আসে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: দীর্ঘ সময় ধরে লিখছি, একটা ব্যাপার তো তৈরি হয়েছেই। যাকে আমি বলি আমিত্ব, তুমি হয়তো স্বতস্ফূর্ততা বলছো। আমি যেভাবে মানুষ কথা বলে সেটা ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছি কবিতায়।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, আপনি কি মুখের ভাষার কথা মানে প্রাত্যহিক ব্যবহারিক ভাষার কথা বলছেন? কতটা নিলেন মুখের ভাষা থেকে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: হুম, যাপিত জীবনে মানুষের ব্যবহার করা ভাষা। মুখের ভাষা। আমি মনে করি, তার থেকে কবিতার অনেক কিছু নেবার আছে। আমি সবটা এখনো নিয়ে উঠতে পারিনি। খামতি থেকে গেছে। কিন্তু মানুষ মুখের ভাষায় যেভাবে কথা বলে, এর চেয়ে ভালো কবিতার উপাদান আর হয় না। আমার কবিতার ভাষা একটা বানিয়ে তোলা নয়। গদ্যটা মানুষ নিজের প্রয়োজন মেটাবার জন্য বলে যায়, নির্মাণ করে। কিন্তু মুখের ভাষার মতো অথেনটিক, অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ এবং অত্যন্ত জেনুইন ভাষা আর কিছু হতে পারে না, নির্মিত গদ্যের ভঙ্গি স্বতস্ফূর্ত হতে পারে না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, আমাদের এখানেও তো, মানে ঢাকায়, যদিও আপনার অনেক পরে, মুখের ভাষায় লেখা হচ্ছে কবিতা, আপনি কি পড়েছেন সেগুলো?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তোমাদের এখানে বা আমাদের ওখানে বলে কিছু আমি বিশ্বাস করি না, পুরোটাই আমার, একই ভাষায় আমরা লিখি। মুখের ভাষায় যারাই লিখেছে তারা ভালো করেছে বলে আমার মনে হয়। ঢাকার কিছু পত্রপত্রিকা পাই, অনেকের সংলাপনির্ভর লেখা, বা আঞ্চলিক কবিতা আমি আগ্রহ করে পড়ি। ভালো লাগে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বাংলাদেশের কাদের কবিতা পড়েছেন বা ভালো লেগেছে নাম করতে পারেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: নাম করতে চাই না, অনেকের কবিতাই আমার ভালো লাগে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তাহলে নাম করবেন না। অন্য প্রসঙ্গে যাই,ছেলেবেলায় তো ওস্তাদ রেখে গান শিখেছিলেন, গান ছেড়ে দিয়ে কবিতায় কেন মনোনিবেশ করলেন? কবিতায় যে এলেন সেটা কি কোন একটা মিরাকলের কারণে? কোন একটা গোধুলীর কারণে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তালিম করে গান শিখতে হয়েছে। সেটা আমার কান তৈরি করে দিয়েছিল সেই ছোটবেলাতেই। গান নিয়ে চাওয়াটা বোধহয় ছিল না। গান আমি এখনো ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু কবিতা আমাকে নিজের মধ্যে ডুবিয়ে নিয়েছে। গান খুব ভালোবাসি, কালকেই যেখানে গেলাম, একটি মেয়ে, কৃষ্ণকলি বলে নাম, কি গাইলো, ভগবান কি গলা ওকে দিয়েছেন! ওর গলাটা, ওখানে সুর নিয়ে ও যে খেলা করছে, অসাধারণ, আমার, আমার তো রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে পড়ে গেল, গাইছে কাশিনাথ, নবীন যুবা, ধ্বনিত সভাগৃহ আজি, ডানা মেলিতেছে সাতটা সুর, সাতটা যেন পোষা পাখি, এই্ মেয়েটির কালকে গান শুনছিলাম, গলায় খেলা করছে যেন পোষা পাখির মতো, গানের কথাও খুব চমৎকার।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কৃষ্ণকলি শুনলে খুবই আপ্লুত হবে নীরেনদা! সহোদরা কবিতায় আপনি বলছেন,
‘না, সে নয় । অন্য কেউ এসেছিল । ঘুমো তুই ঘুমো ।
এখনো রয়েছে রাত্রি, রোদ্দুরে চুমো
লাগেনি শিশিরে । ওরে বোকা,
আকাশে ফোটেনি আলো, দরজায় এখনো তার টোকা
পড়েনি । টগর-বেলা-গন্ধরাজ-জুঁই
সবাই ঘুমিয়ে আছে, তুই
জাগিসনে আর । তোর বরণডালার মালাগাছি
দে আমাকে, আমি জেগে আছি ।
না রে মেয়ে, নারে বোকা মেয়ে,
আমি ঘুমোবো না । আমি নির্জন পথের দিকে চেয়ে
এমন জেগেছি কত রাত,
এমন অনেক ব্যথা-আকাঙ্ক্ষার দাঁত
ছিঁড়েছে আমাকে । তুই ঘুমো দেখি, শান্ত হ’য়ে ঘুমো ।
শিশিরে লাগেনি তার চুমো,
বাতাসে ওঠেনি তার গান ।
ওরে বোকা,
এখনও রয়েছে রাত্রি, দরজায় পড়েনি তার টোকা ।’—
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: সহোদরা, দুই বোনের দুঃখের কথোপকথন। বুঝতেই পারা যাচ্ছে যে এক বোন যে কষ্টের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, রাত জেগে জেগে, সেই কষ্টের ভেতর দিয়ে তার দিদিও একদিন গিয়েছিল, দিদির মনে পড়ে যাচ্ছে তার নিজের জীবনের কথা, এই্ কষ্টটা সেও একদিন ভোগ করেছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: দাদা, এই কবিতাটা এজন্য শোনালাম আপনাকে বেছেবুছে কারণ আপনি সবসময় Key-Line (কী-লাইন) বলে একটা শব্দ ব্যবহার করেন আপনার কবিতা প্রসঙ্গে। আপনি বলেন যে, আপনার প্রতিটি কবিতা একটা কী-লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সাক্ষাৎকার নেবার প্রস্তুতিগ্রহণকালে আমি ইউটিউব ভিডিওতে দেখেছি আপনি একটা সাক্ষাৎকারে কোন কবিতার কী-লাইন বা চাবি লাইন বলে একটা শব্দবন্ধ ব্যবহার করছেন। এই কবিতায় আপনার কী-লাইন কোনটা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: দিদির সহানুভূতিটা, সহানুভূতিটা দিদির হচ্ছে সহোদরার প্রতি, চাবিশব্দ যদি তুমি বলো তবে সহোদরা, And She reminds her, to her old agony, এই যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে বড়দি একদিন নিজেই এসেছিল, এখন ছোটবোনটা সেই বেদনাপথ দিয়ে যাচ্ছে সে এখন সেটা দেখছে, এটা ভাবা যায় না। ছোটবোনটা তার প্রেমাস্পদের জন্যে মালা গেঁথে রেখেছে, অপেক্ষা করছে, অপেক্ষার কষ্ট বড় বোনও করেছিল, কিন্তু ছোটবোনেরটা সে দেখছে। তাকে স্বান্ত্বনা দিচ্ছে। তুই ঘুমো, আমি ডেকে দেব।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বাহ্! দাদা, চল্লিশের দশকের শুরুতে আপনার আত্মপ্রকাশ। তখন তো তিরিশের কবিদের প্রবল দাপট। চল্লিশ কবিরাও কম যান না। ওই দাপুটে কবিদের প্রভাব কি আপনি বা আপনার সময়ের কবিদের ওপর কোনওভাবে পড়েছিল?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: একেবারেই না। কারণটা বলে দিচ্ছি। একজনের পড়েছিল।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তিনি কে? জীবনানন্দ দাশ?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: একমাত্র জীবনানন্দ দাশ। আর কারো না। তিরিশের কবিতা যতই লম্ফঝম্প করুন, বুদ্ধদেব বসু বলুন, যেই বলুন,
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বিষ্ণু দে, অমীয় চক্রবর্তী?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: এরা প্রত্যেকে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় লিখেছেন। নিজের কোনো ভাষা নয়। সঞ্জয় ভট্টাচার্য এটা প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এবং তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন। লিখেছেন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তো তিরিশের তাদের মতো আমরা রবীন্দ্রনাথকে ভাঙাইনি। মুখে বলছে রবীন্দ্রবিরোধী, আর লিখছে রবীন্দ্রনাথের ভাষায়। সঞ্চয় ভট্টাচার্য বললেন, রবীন্দ্রনাথের নির্মিত ভাষাকে তিরিশের কবিতা ভাঙতে পারেনি। তিনি লিখেছেন, রবীন্দ্রপ্রভাবের বাইরে তিরিশের কেউ যদি নিজের ভাষা তৈরি করে থাকতে পারেন, তিনি জীবনানন্দ বৈ কেউ নয়। অন্য কেউ নয়। সুতরাং, জীবনানন্দ ছাড়া, তিরিশের দশকের প্রত্যেকে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় লিখেছেন, রবীন্দ্রবিরোধীরাও।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: সুতরাং, একমাত্র জীবনানন্দের প্রভাবকেই স্বীকার করেন আপনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: নিশ্চয়ই। (অনেক জোর দিয়ে) নিশ্চয়ই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তবে জীবনানন্দের কবিতা আমি পছন্দ করতাম। প্রভাবিত হইনি এমন বলবো না। তবে আমার ভাষা নিয়ে আমি সচেতন ছিলাম। তবে জীবনানন্দের ভাষা বিষয়ে সঞ্চয় ভট্টাচার্য আমাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই যে জীবনানন্দের ভাষা, এই ভাষাকে যে নকল করতে যাবে, সে মরবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: জীবনানন্দ যে কারণে একটা স্কুল তৈরি করে যেতে পারেননি। তিনি জীবনানন্দের মতো লেখেন এরকম একটা লোক পাওয়া যাবে না। কারণ, তাকে নকল করা যায় না। সে নকল করতে যাবে, He is being sucked into –
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: জীবনানন্দ দাশ?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: হ্যাঁ, তাকে গিলে খেয়ে নেবে জীবনানন্দ দাশ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তাহলে দাদা, আপনার বক্তব্য অনুযায়ী বাংলা কবিতার গত শতকের পর থেকে আমরা পরিষ্কার একটি বিভাজক রেখা দেখতে পাচ্ছি। একদল রবীন্দ্রনাথ নামের বটবৃক্ষকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন অথচ তার ভাষাতেই লিখছেন, আরেকদল জীবনানন্দের প্রভাবের কথা বললেন, সেদিকে ধাবিত—
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: জীবনানন্দ কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকারও করেননি, নকলও করেননি, নিজে একটা আলাদা ভাষা, বলা ভালো নিজের ভাষা তৈরি করেছেন, যেটা তার পরে আমরাও করার চেষ্টা করেছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এ আপনার বিনয় নীরেনদা, কি পেরেছেন সে আপনি ভালো করেই জানেন। দাদা, রবীন্দ্রনাথের প্রভাব আপনার শিল্পমানসে কেমন? কতটা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: যথেষ্ট আছে। অস্বীকার করব না। কেন অস্বীকার করব? আমার জীবনে, সত্যি কথাটা বলি তাহলে!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অবশ্যই।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: (পাশে থাকা একটা কাঠের র্যাকে চাপড় দেন কবি, দুবার) আমি কি এর মতো একটা মরা কাঠ! এই যে এইটের মতো? তা তো নয়। এই কাঠে মারলাম। এর সাড়া নেই। এ কারো দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। কিন্তু আমি মরা কাঠ না, আমি একটা জ্যান্ত গাছ। জ্যান্ত গাছ সবকিছুর দ্বারা প্রভাবিত হয়। রোদ্দুরের প্রভাব একটা জ্যান্ত গাছের ওপরে পড়ে। বৃষ্টির প্রভাব একটা জ্যান্ত গাছের ওপরে পড়ে। এই ছটা ঋতুর প্রত্যেকটার প্রভাব একটা জ্যান্ত গাছের ওপরে পড়ে। আমার ওপরে কার প্রভাব আছে যদি এই প্রশ্ন কেউ করেন, আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করি, আমার ওপরে কার প্রভাব নেই ভেবে দেখুন। আমার জীবনে যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি প্রত্যেকের প্রভাব আমার ওপরে আছে। এই যে এই ভদ্রমহিলা (আসমা আক্তার) এখানে এসে কিছুক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বলে গেলেন, আমার গদ্য এত ভালোবাসেন বললেন, এই যে তুমি এত বড় প্রশ্নমালা নিয়ে, দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছো, এরও প্রভাব আমার মধ্যে পড়ছে। আমার মধ্যে আমার অগ্রজ কবিদের প্রভাবও আছে। কিন্তু একজন কবির কাজ সেটাকে, সেই প্রভাবকে নিজের করে নেয়া। একটা গাছ যা করে, একটা জ্যান্ত গাছ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অনেক ধন্যবাদ দাদা, সত্য কথাটা তীব্রভাবে বললেন। একাত্তর পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের কবিতা নিয়ে যদি বলেন। আপনার জন্ম কিন্তু ফরিদপুরে। আমার দেশে।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আমার জন্য এই যে আসা এটা হোমকামিংয়ের মতো। আমি আপনাদের, তোমার বাড়িতে আসিনি। আমি আমারই বাড়িতে এসেছি। আমার জন্ম এখানে। তুমি প্রথমে জানতে চেয়েছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা যেটা, সেটা হচ্ছে, আমার জন্মভূমি আমার স্বদেশ নয়। এইটা আমার জন্মভূমি কিন্তু আমার স্বদেশ নয়। আমার স্বদেশ হচ্ছে ভারত।
আল মাহমুদ অত্যন্ত ভালো কবি। যেমন শামসুরের (কবি শামসুর রাহমান) সঙ্গে আমার মতের মিল হয়েছে, সে ভালো কবি, তেমনি আল মাহমুদের সঙ্গে মতের মিল হয়নি আমার, সেও ভালো কবি। বড় কবি। মতের মিল হয়নি বলে, কবিতা যে ভালো লিখে তা অস্বীকার করবো কি করে! ‘একবার পাখিদের ভাষা যদি শেখাতেন সোলেমান পয়গম্বর’। কি ভালো কবিতা
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা কি যন্ত্রণাদায়ক?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: এটা মেনে নিতে হয়। মেনে নিয়েছি। মহাভারতে একটা কথা আছে, বকরূপী যক্ষ যুধিষ্ঠিরকে কয়েকটা প্রশ্ন করেছিলেন, উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, অঋণী, অপ্রবাসী, যে ঋণী না, যে প্রবাসে সময় কাটায়নি, সে নিজের জন্মভূমি চেনে না। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে গিয়ে, কাকে আমি আমার স্বদেশ বলবো, মাদার টেরিজার পক্ষে এটা কি বিদেশ ছিল? ড. সোয়াইঙ্কার জন্য আফ্রিকা কি বিদেশ? যেখানে কাজের সুবিধে,যেখানে স্বজনের সুবিধে, মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে থিতু হওয়ার সুবিধে সেটাই স্বদেশ। তবে খুব ভালো হত আমি যদি আমার জন্মভূমিতে থাকতে পারতাম। চাইলে এখানে থাকতে পারতাম। ১৯৩০ এর দিকে আমরা পশ্চিমবঙ্গে যাই। সপরিবারে। আমরা কিন্তু দাঙ্গাফ্যাসাদে জড়িয়ে যাইনি। কাজের সুবিধার কথা ভেবে গেছি। থাকতে পারতাম কষ্ট করে। থাকিনি। কারণ এখানে কাজের সুবিধা পাচ্ছিলাম না। তবে আমি অসুখী মানুষ নই। খারাপ লাগে যখন কেউ বলে, আমাদের দেশে এসে আপনার কেরম লাগছে!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হা হা হা, যদি আদার করে দেয়!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: (হাসতে হাসতে) আমি তখন ঝেড়ে দিই। আরে বেটা এ তো আমার দেশ। হা হা হা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার প্রিয়তমাসু কবিতার শেষটা মনে আছে! “এবং তুষার মৌলি পাহাড়ে কুয়াশা গিয়েছে টুটে, /এবং নীলাভ রৌদ্রকিরণে ঝরে প্রশান্ত ক্ষমা...
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: (কবি পরের লাইনগুলো পড়েন...)
এবং পৃথিবী রৌদ্রকে ধরে প্রসন্ন করপুটে।
দ্যাখো, কোনোখানে কো্নো বিচ্ছেদ নেই।
আছে অনন্ত মিলনে অমেয় আনন্দ, প্রিয়তমা।’
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এই যে আপনার এই কবিতায় একটা টোটালিটি রয়েছে, আপনার অনুজদের কারো কবিতায় কি আপনি সেই সামগ্রিকতার দেখা পেয়েছেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: ক্ষমা ছাড়া কিচ্ছু নেই, যে যত ক্ষমা করতে পারবে সে তত সুখী হবে। আর আমার পরে যারা লিখছে বাংলা কবিতায় খুব ভালো লিখছে। দারুণ ভালো লিখছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কারা কারা লিখছে ভালো? তাদের নিয়ে যদি বলেন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আমার পরে এইতো শ্যামলকান্তি দাস। তোমাদের এখানে আসে মাঝেমধ্যে। খুব ভালো লিখছে। কবিসম্মেলন বলে একটা বই বের করে। এখন কয়েকজন, পরপর কয়েকজন কবির নাম করতে হবে। জয় গোস্বামীর নাম করতে হবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মারা গেছেন, আপনি খুব পছন্দ করতেন তার লেখা।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: জানো কি করে!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আনন্দবাজারের রবিবাসরীয়কে দেয়া আপনার সাক্ষাৎকার থেকে। আপনি সেখানে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: বাহ্! তোমার এ প্রস্তুত হয়ে আসাটা আমার খুব ভালো লাগল। হ্যাঁ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব ভালো। বলতে পারো আমার অনুজদের মধ্যে প্রিয়তম কবি, ওর কবিতা খুব পছন্দ করি আমি, তবে ওরও গদ্যের জন্য কবিতাকে কম দেয়া হয়ে গেল। শুধু কবিতাই লেখা উচিত ছিলো ওর। কিন্তু এমন পৃথিবীতে কবিতা ভাত যোগায় না। বাধ্য হয়েই গদ্য লিখতে হয়। ব্যবহারিক গদ্য।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, এখন তো তথ্যবিশ্ব ছোট হয়ে আসছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার। আপনি কতটা প্রযুক্তিবান্ধব?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: আমি প্রযুক্তির যেসবের কথা তুমি বলছো মোটেও এসব ব্যবহার করি না। আমি প্রযুক্তিবান্ধব না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: মোবাইল?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: না, মোবাইলও আমি কম ব্যবহার করি, যেটুকু না করলেই নয়। কাকলী আছে, যেটুকু প্রয়োজন লেখাটেখা পাঠাতে হলে, সেটা ওরাই করে দেয়। আমি এখনো হাতেই লিখি। এইসব মেইলফেইল এসে মানুষের চিঠি লেখার অভ্যাসটাই নষ্ট করে দিয়েছে। হাতে মোবাইল সারাদিন টেপে মানুষ, এসএমএসেই কাজ শেষ। এরকম এসএমএস লাইনের লোক আমি নই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, বাংলাদেশের কবিতা পড়েন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: হ্যাঁ, অবশ্যই। বাংলাদেশের যারা কবি, যারা অনেকেই ওখান (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে এখানে (বাংলাদেশে) চলে এসেছেন তারা অনেকেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আহসান হাবীব, ফররুখ আহমেদ, আবুল হোসেন। তাদের কবিতা তো পড়ি, পড়তেই হতো। তা আবুল হোসেন যেমন আমার বন্ধু, আবুল হাসান কি আমার শত্রু! বাচ্চা একটা ছেলে, এত সুন্দর কবিতা পড়ল কলকাতায় গিয়ে, সবাই থ, তারপর মারাও গেল শুনেছি, রাজহংস বলে একটা কবিতা লিখেছিল আবুল হাসান। অসম্ভব ভালো কবি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: (আমি পড়ি, আবুল হাসানের কবিতা) ‘নোখের ভেতর নষ্ট ময়লা/চোখের ভেতর প্রেম/ চুলের কাছে ফেরার বাতাস দেখেই শুধালেম// এখন তুমি কোথায় যাবে/ কোন আঘাটার জল ঘোলাবে/ রক্তে কি প্রবলেম?’
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: দারুণ লিখেছে। ওর কবিতায় আবেগের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। অত্যন্ত ভালো কবিতা। তারপর আমাদের আল মাহমুদ। তার মতবাদ যাই হোক। আল মাহমুদ অত্যন্ত ভালো কবি। যেমন শামসুরের সঙ্গে আমার মতের মিল হয়েছে সে ভালো কবি, তেমনি আল মাহমুদের সঙ্গে মতের মিল হয়নি আমার, কিন্তু সেও ভালো কবি। বড় কবি। মতের মিল হয়নি বলে, কবিতা যে ভালো লিখে তা অস্বীকার করবো কি করে! ‘একবার পাখিদের ভাষা যদি শেখাতেন সোলেমান পয়গম্বর’। কি ভালো কবিতা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নীরেনদা, আপনার বক্তৃতার ওখানে যেতে হবে, ওরা তাগাদা দিচ্ছে, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, এত ব্যস্ত সময়ের মধ্যে থেকেও আমাদের এতটা সময় দিলেন বলে। ভালো থাকবেন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: তোমরাও ভালো থেক, বাংলাদেশের কবিদের আমি তোমার মাধ্যমে শুভেচ্ছা দিচ্ছি, আশীর্বাদ করছি।






