কন্যাদায়গ্রস্তদের পাশে সোহেল রানা

‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’ সংগঠনের উদ্যোগে কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়
নীলফামারীর সৈয়দপুরের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যে কয়েকজন তরুণ সংগঠক মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম সোহেল রানা। মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’। সংগঠনের উদ্যোগে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজের পাশাপাশি কন্যাদায়গ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আলোচিত হয়ে উঠেছেন তিনি।
হাতেগোনা কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে নিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন ইতিবাচক কাজ দেখে সৈয়দপুরের বিভিন্ন পেশার অনেক মানুষ এই সংগঠনে যোগ দেন। সংগঠনটির সদস্যরা আট বছর ধরে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ে সম্পন্ন করা, দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য দোকানঘর নির্মাণ, বসতঘর নির্মাণ, ছাগল ও সেলাই মেশিন বিতরণ, খতনা কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, ত্রাণ বিতরণ, মাদক-শব্দদূষণ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সৈয়দপুর পৌরসভার নিয়ামতপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে সোহেল রানা (৩০)। এসএসসি পাসের পর পারিবারিক নানা জটিলতায় আর পড়াশোনা হয়নি তার। বর্তমানে চাকরি করছেন একটি শস্যবীজ কোম্পানিতে। তারপরও মানবসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন এই সংগঠক। সোহেল রানা জানালেন, সমাজের অবহেলিত-সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাগিদ থেকে সমমনা বন্ধুদের নিয়ে ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। একসময় কয়েকজন বন্ধু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় সংগঠনের প্রথম কার্যক্রম ছিল পিইসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ বিতরণ। সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরে বড় পরিসরে মানবসেবার পথ খুলে দেয়। সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আইসক্রিম বিক্রেতা মিস্টল ইসলাম। সামান্য আয় দিয়েই কোনো রকমে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলে তার সংসার। তিন মাস আগে মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হলেও অর্থাভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বশুরবাড়িতে তুলে দিতে পারছিলেন না। পরে সোহেল রানার নেতৃত্বে হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠনের সদস্যরা রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে জাঁকজমকভাবে তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মিস্টল ইসলাম বললেন, ‘আমার অসহায় পরিস্থিতিতে সহযোগিতার জন্য হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুত তারা সমস্যার সমাধান করে দেয়।’



