বিএনপির এমপি চাঁদ নিলেন আখচাষির প্রণোদনা

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে প্রণোদনার চেক গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ
আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার চেক নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এ চেক গ্রহণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে প্রণোদনার চেক গ্রহণ করেছেন আরও ১৪ জন। তাদের কেউ কেউ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা বলে জানা গেছে।
এদিকে একজন সংসদ সদস্যের আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা গ্রহণের ঘটনায় রাজশাহীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও অনেকে একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেছেন, ‘আজকে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। একজন সংসদ সদস্য কীভাবে আখচাষি হিসেবে প্রণোদনার টাকা পান? এ ঘটনায় দলের পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি জানালেন, এখন অনেকেই বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত খালেক। আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, ‘আবু সাঈদ চাঁদ এমপি হলেও পুরোদস্তুর একজন নিবন্ধিত আখচাষি। তাকে এমপি হিসেবে বিবেচনা না করে একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখলে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি প্রণোদনা পেয়েছেন আখচাষি বা ব্যক্তি আবু সাঈদ চাঁদ হিসেবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সংসদ সদস্যের প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সমাজে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বা বিশেষ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা সরকারের প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল বা উচ্চশ্রেণির লোকদের জন্য প্রণোদনার প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রণোদনার অর্থ গ্রহণ যথার্থ মনে হয়নি।’
তার মতে, ওই সংসদ সদস্য নিঃসেন্দেহে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নন। কারণ নির্বাচনে তাকে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানীও পেয়ে থাকেন। এখন তিনি নিজেই প্রণোদনা নিলে সেটা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন তিনি।
এই আইনজীবী আরও বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়তো আগে থেকে জানতেন না যে তালিকায় কার কার নাম রয়েছে। জানলে হয়তো তিনি এই সুযোগ দিতেন না। এ ধরনের কার্যক্রমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।’
এর আগে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৩৮ মিনিটে রাজশাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভা থেকে কম্পিউটারের একটি বাটন চেপে আখচাষিদের ব্যাংক হিসাবে সরকারি সহায়তার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় তিনি জানান, দেশের ১৫টি মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য সরকার মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
কার্যক্রম উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতাকে বলেছেন, ‘কম্পিউটারের বাটনে চাপ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আখচাষিদের হিসাবে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
এরপর তিনি সবাইকে একসঙ্গে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলার আহ্বান জানান। উপস্থিত জনতা তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। পরে বাটন চেপে অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।
এ সময় উপস্থিত আখচাষিদের নিজেদের মুঠোফোন দেখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের ফোনে অর্থ জমার বার্তা পৌঁছানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যাবে।’ এরপর উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনি দেন তিনি।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর মঞ্চে ১৫ জন আখচাষিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের হাতে পর্যায়ক্রমে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমেই রাজশাহী সুগার মিলের আখচাষি হিসেবে আবু সাঈদ চাঁদকে চেক গ্রহণের জন্য ডাকা হয়।
এরপর আরও ১৪ জন আখচাষি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক নেন। তারা হলেন- আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মণ্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম। তাদের অনেকেই বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।





