প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই আখচাষিদের ব্যাংক হিসাবে গেল ১২ কোটি টাকা

উদ্বোধনের আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সামনে থাকা কম্পিউটারের বাটনে চাপ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আখচাষিদের হিসাবে সরকারি সহায়তার অর্থ পৌঁছে যাবে।
কম্পিউটারের একটি বাটন চেপে আখচাষিদের ব্যাংক হিসাবে সরকারি প্রণোদনার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৩৮ মিনিটে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভা থেকে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানালেন, দেশের ১৫টি মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য সরকার মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
উদ্বোধনের আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, তার সামনে থাকা কম্পিউটারের বাটনে চাপ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আখচাষিদের হিসাবে সরকারি সহায়তার অর্থ পৌঁছে যাবে। এরপর তিনি সবাইকে একসঙ্গে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলার আহ্বান জানান। উপস্থিত জনতা তার সঙ্গে ধ্বনি তোলেন। পরে বাটন চেপে অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত আখচাষিদের মুঠোফোন দেখতে বলেন। ফোনে বার্তা পৌঁছানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যাবে। পরে উপস্থিত জনতার সঙ্গে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর ১৫ জন আখচাষির মধ্যে চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য তাদের পর্যায়ক্রমে মঞ্চে ডাকা হয়। প্রথমে রাজশাহী সুগার মিলের আখচাষি মো. আবু সাঈদ চাঁদকে চেক গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সরকারি এ সহায়তা আখচাষিদের উৎপাদন ব্যয় সামলাতে এবং আখ চাষে উৎসাহ জোগাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় পৌঁছান তিনি।
জনসভার কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তার। এরপর চট্টগ্রামে গিয়ে রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এক দিনের সফরে তিন বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন তিনি।



