চ্যাম্পিয়নস লিগ
রুনি, স্টার্লিংয়ের পর ইতিহাস গড়লেন ফোডেন

বিগত দুই মৌসুমের অফফর্ম ও হতাশা ঝেড়ে ফেলে অবশেষে স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করলেন ফিল ফোডেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে হ্যাটট্রিক করে নিজের জাত চেনালেন এই ২৬ বছর বয়সী ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডের অনুপস্থিতি বুঝতেই দিলেন না। এইকে এথেন্সকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে এনজো মারেস্কার দল।
গত ম্যাচে পায়ে চোট পাওয়ায় নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন হলান্ডকে স্কোয়াডে রাখা হলেও বেঞ্চেই বসিয়ে রাখেন সিটি কোচ মারেস্কা। তার জায়গায় ফলস নাইন পজিশনে মাঠে নামান ফোডেনকে। তার এই বাজি শতভাগ সফল প্রমাণিত হয়। ওয়েইন রুনি (২০০৪) ও রহিম স্টার্লিংয়ের (২০১৯) পর ইতিহাসের তৃতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে হ্যাটট্রিক ও অ্যাসিস্টের অনন্য নজির স্থাপন করেন ফোডেন। ম্যাচ শেষে টিএনটি স্পোর্টসকে অনুভূতি ব্যক্ত করে ফোডেন বলেন, ‘ম্যাচটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি। সতীর্থেরা অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। ফরোয়ার্ড হিসেবে ক্রমাগত গোল করা এবং দলকে সাহায্য করাই আমার প্রধান লক্ষ্য, যা আমার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে আমি সেরা ফর্মের দিকে যাচ্ছি। এখনও লম্বা পথ বাকি, তবে আমি সঠিক পথেই এগোচ্ছি। দলের জন্য নিজের সেরাটা দিতে চাই।’
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ৩১ ম্যাচে গোলহীন থাকায় জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন ফোডেন। এমনকি গত মাসে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড পেয়ে জড়িয়েছিলেন বিতর্কেও। তবে গত শনিবার ইপসউইচের বিপক্ষে গোল করে লিগে ১০ মাসের খরা কাটাই যেন তার জন্য উন্মোচনের দরজা খুলে দেয়। ফোডেনের এমন বিধ্বংসী ফর্মে উচ্ছ্বসিত সিটির সাবেক ডিফেন্ডার জোলিয়ন লেসকট বলেন, ‘তার ফিনিশিং ছিল একেবারেই নিখুঁত। আমার মনে হয় সে কোচকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়েছে যে, আর্লিং হলান্ড যদি কোনো কারণে খেলার জন্য প্রস্তুত না থাকে, তবে ৯ নম্বর পজিশনের জায়গাটি নেওয়ার জন্য সে-ই সবচেয়ে যোগ্য লোক।’
সিটি কোচ এনজো মারেস্কাও শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে জানান, শুরু থেকেই ফোডেনকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনে করেন তিনি। বিগত দুই বছরের নানা শারীরিক ও মানসিক বাধা কাটিয়ে ফিল ফোডেন আবারও দলের অন্যতম কাণ্ডারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন।





