আমেরিকান ফুটবলে খেলার ইচ্ছা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের

ফুটবল মাঠের গোলমেশিন হ্যারি কেইন কি তবে একদিন আমেরিকান এনএফএলে পা রাখাবেন? সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার পরবর্তী অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর এক পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। আগামী শনিবার উয়েফা নেশনস লিগে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই ৩৩ বছর বয়সী তারকা।
ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে গত মৌসুমে অবিশ্বাস্য ৭৩টি গোল করে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা কেইন জানিয়েছেন, ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর তিনি আমেরিকান ফুটবলের ‘প্লেসকিকার’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছেন। বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে তার নতুন চুক্তির আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই সময়ে তার এই এনএফএল প্রীতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফুটবল থেকে আমেরিকান ফুটবলে রূপান্তরের বিষয়টি কাল্পনিক নয় বলে মনে করেন কেইন। ডালাস কাউবয়সের কিকার ব্র্যান্ডন অব্রে (যিনি একসময় এমএলএস ক্লাব টরন্টো এফসি কর্তৃক ড্রাফট হয়েছিলেন এবং বর্তমানে এনএফএলের অন্যতম সেরা কিকার হিসেবে বিবেচিত হন) কিংবা অতীতে টটেনহ্যামের সাবেক স্ট্রাইকার ক্লাইভ অ্যালেনের এনএফএল ইউরোপে খেলার উদাহরণ টেনেছেন কেইন। তার মতে, পেনাল্টি নেওয়ার অভিজ্ঞতা ও টেকনিক আমেরিকান ফুটবলের কিকের চাপের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায়।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কেইন বলেন, ‘হতে পারে ভবিষ্যতে আমি যদি এমএলএসে খেলি কিংবা ওই ধরনের কোথাও যাই, তবে সিজনের সঙ্গে মিলিয়ে দুটোকে যুক্ত করার মতো কোনো বিষয় হতে পারে। এটি এমন একটি বিষয় যা আমি আরও একটু গুরুত্বের সঙ্গে দেখার চেষ্টা করব। আগামী পাঁচ বা ছয় বছরে আমার ক্যারিয়ারে কী ঘটে, প্রেরণা এবং আমি কী করতে চাই—তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। অন্তত গলফের চেয়ে এনএফএলের বিষয়টি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত, এটুকুই বলতে পারি।’ টেকনিক্যাল দিকটি ব্যাখ্যা করে কেইন বলেন, ‘আমি পেনাল্টি নেই এবং সেখানে ঠিক একই ধরনের চাপ ও টেকনিক কাজ করে। যদি আমি এটি করি, তবে অনুশীলনের দিক থেকে অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে এটির সঙ্গে মিল আছে। আমি যদি এটি করি, তবে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গেই ভাবব। মাঠে নামার আগে হয়তো ছয় মাস থেকে এক বছর ধরে অনুশীলন করার চেষ্টা করব।’
বর্তমানে অবশ্য বায়ার্ন মিউনিখে নিজের শীর্ষ ফর্ম ধরে রাখাই তার মূল লক্ষ্য। তবে ফুটবল জীবনের পর আমেরিকার মাটিতে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ভাবনা যে তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।





