সংঘাত এড়াতে চরে তরমুজ চাষ বন্ধের পরামর্শ দিলেন প্রতিমন্ত্রী নুর

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনার চরাঞ্চলে তরমুজ চাষের জমি ইজারা নিয়ে সংঘাত এড়াতে প্রয়োজনে চাষ বন্ধ রেখে লাল নিশান টাঙানোর পরামর্শ দিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ রবিবার গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
চরাঞ্চলে তরমুজ চাষের জমি ইজারা নিয়ে সম্ভাব্য বিরোধের বিষয়ে নুরুল হক নুর বললেন, গলাচিপা ও দশমিনার চরাঞ্চলে প্রতিবছর ব্যাপক পরিমাণে তরমুজ চাষ হয়। আগে এসব চরে এক মৌসুমের জন্য জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করা হতো। তবে বিভিন্ন কারণে এবার এখন পর্যন্ত জমি ইজারা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেছেন, সরকারি দল, জোট ও এলাকার জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব আছে, যাতে চর নিয়ে কোনো ধরনের মারামারি, হানাহানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। প্রয়োজনে এসব চরে তরমুজ চাষ বন্ধ রেখে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হোক। তবু কোনোভাবেই সংঘাত হতে দেওয়া যাবে না।
চর দখল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী জানালেন, অতীতে যারা এসব চর দখল করে ভোগদখল করেছেন এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছেন, তাদের কেউ কেউ এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বললেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর গলাচিপা-দশমিনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ হামলা, মামলা বা হয়রানির শিকার হননি। তারা বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, দোকান চালাচ্ছেন এবং স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বললেন, অতীতে আমাদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা একই আচরণ করতে চাইনি। এলাকার মানুষ এলাকায় থাকুক, সেটিই আমরা চেয়েছি। তবে যারা অতিরিক্ত অন্যায় করেছেন, তাদের নিজেদেরই এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। প্রকৃতিরও একটি বিচার আছে, যাকে বলা হয় ন্যাচারাল পানিশমেন্ট।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদারতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে কারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের তালিকা ও অডিও প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
নুরুল হক নুর বলেন, শেখ হাসিনা একজন দণ্ডিত ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। উদারতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঢাকায় লোক পাঠানো বা বাস ভাড়া করার মতো কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের ওপর নজর রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করে নুর বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে সব সময় এলাকায় আসা সম্ভব হয় না। জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন কাজ করতে হয়। তাই এলাকায় থাকা নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। নিজেদের মধ্যে বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে নির্বাচনের অর্জন অর্থবহ হবে না। এ জন্য গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে একসঙ্গে বসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনের সহযোগিতা ও পরামর্শে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ বের করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলতাব হোসেন খান। এতে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতিয়ার রহমান কবির, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খানসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।




