ক্রিস ওয়াডল
ইয়ামাল নয়, হ্যারি কেইনই ব্যালন ডি’অরের যোগ্য

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবং স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা লামিনে ইয়ামালের নাম। তবে কেইনকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে এই পুরস্কার দিলে সেটা হবে সম্পূর্ণ ‘বাজে ও অদ্ভুত’ সিদ্ধান্ত- এমনটাই মনে করেন ইংলিশ ফুটবলের সোনালী প্রজন্মের তারকা ক্রিস ওয়াডল।
বিশ্বকাপ জয় এবং ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের পর বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল কিংবা রদ্রির মতো নামগুলোও ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় উঠে এসেছে। ব্যালন ডি’অরের ভোটাভুটিতে দলীয় শিরোপা জয় সবসময়ই বড় ভূমিকা রেখে থাকে। পিএসজির ইউরোপ জয় উসমান দেম্বেলে এবং বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়া কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও আলোচনায় এনেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে না পারায় মাইকেল অলিসের মতো তারকারাও কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন।
এই সমস্ত সমীকরণকে পাশ কাটিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের জার্সিতে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানো কেইনকে ফেভারিটের আসনে দেখতে চান ওয়াডল। ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা জয়ের পথে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন রেকর্ড ৬১ গোল। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া এবং ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ তৃতীয় স্থান অর্জন ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কেইনকে কিছুটা পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দলীয় পারফর্ম্যান্স দিয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মাপায় তীব্র আপত্তি আছে ওয়াডলের। ‘গোলডটকম’-কে তিনি বলেছেন, ‘অনেক খেলোয়াড়ই হয়তো এটি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য দলগত ট্রফি জিততেই হবে—এই নিয়মটা আমার কাছে একদমই অদ্ভুত লাগে। ফুটবল একটি দলগত খেলা, কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্ট নয়। পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে বলেই হুট করে তাদের খেলোয়াড়দের নাম সামনে চলে আসছে। কিন্তু হ্যারির দিকে তাকালে দেখা যায়, সে একজন দারুণ একটি ক্লাবে খেলেছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জেতেনি, তাই হয়তো তার সুযোগ কিছুটা কমবে।’
তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালকে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এগিয়ে রাখার বিরোধীতা করে ওয়াডল বলেন, ‘এখন কি তবে ইয়ামাল কিংবা কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড় এটি পেয়ে যাবে? সে বার্সেলোনার হয়ে ভালো মৌসুম কাটিয়েছে, লিগ ও বিশ্বকাপ জিতেছে; কিন্তু সত্যি বলতে বিশ্বকাপে খুব একটা ভালো খেলেনি। বেশিরভাগ সময়ই ইনজুরিতে ভুগেছে। কিন্তু স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে বলেই হঠাৎ এসব নাম সামনে চলে আসে। ব্যালন ডি’অর সবসময় মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত। আর আমার চোখে হ্যারি কেইনেরই এটির যোগ্য।’







