তৈরি হচ্ছে ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’, তাই আইনি নোটিস পরীমনিকে

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় গত ৫ নভেম্বর আত্নসমর্পণ করতে আদালতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়েছেন পরীমনি। ফাইল ছবি
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ ও জাতীয় সংগীতকে অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তাকে। নোটিসে পরীমনির সর্বশেষ কর্মকাণ্ডে ‘বিব্রতকর’ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আজ রবিবার শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ঠিকানায় এই নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
নোটিসে ভবিষ্যতে সকল প্রকার অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি প্রদান, অশ্লীল অভিনয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য, যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোন উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যাহার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই– এসব করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নোটিসে আগামী ৭ দিনের মধ্যে শোকজ নোটিস দিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় গত ৫ নভেম্বর আত্নসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় পরীমনির সঙ্গে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। সেই সময় শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন। এমনকি তার ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন।
আদালত প্রাঙ্গণে ওই দিনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার এবং আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হয়েছেন। সেদিন সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের একজন বিচারপ্রার্থীও আহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে বলেও মিডিয়াতে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে প্রত্যেকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাজ। তাই ব্যক্তিগত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ আইনে কারো নাই।
লিগ্যাল নোটিসে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে পরীমনি আদালত থেকে বের হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন যার ডান হাত পুরোপুরি রিজার্ভ (ডান হাত জন্মগতভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ছোট, হাতের তিনটি আঙুল নেই, এই হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম তিনি করতে পারেন না) দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন, ‘এদিকে আয়’। আমার হাত এভাবে ধরলি কেন?
অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করার পাশাপাশি ‘তোকে পাড়িয়ে মেরে ফেলবো’ বলে হত্যার প্রকাশ্য হুমকি দেন। যার ভিডিওচিত্র মিডিয়াতে প্রচারিত হয়েছে। একজন পেশাগত সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির এমন আচরণ শুধু তার পেশাগত মর্যাদার উপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। পরীমনির মতো একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর কাছ থেকে এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড কোনভাবেই কাম্য নয় বলে নোটিসে সতর্ক করা হয়েছে।
আইনি নোটিসে আরও বলা হয়েছে, পরীমনি তার নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত মিউজিক হিসাবে ব্যবহার করে গালি লিখে পোস্ট করেন। এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও করা হয়েছে। পোস্ট হওয়া খবরের কমেন্ট বক্স ভরে গেছে নানারকম নেতিবাচক মন্তব্যে।
অ্যাডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ার আইনি নোটিসে বলেন, ‘আপনি শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিধায় অনেকেই আপনার আচার-আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা, চাল-চলন, নাচ, পোশাক, চলাফেরা অনুকরণ ও অনুসরণ করে থাকে। ফলে আপনার অশ্লীল বাক্য, অঙ্গভঙ্গি, আদালত প্রাঙ্গণে দেওয়া সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে অশ্লীল পোস্ট প্রদানের মতো বিতর্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণরা এই আচরণ দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইলে এসব আলোচিত ঘটনার ছবি বারবার ভেসে উঠছে। সেগুলো তারা দেখছে। এর ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি হচ্ছে।’



