৮০০ কোটি কমিয়েও ভারতে বিশ্বকাপের টিভি স্বত্ব বিক্রি হচ্ছে না

লিওনেল মেসিকে একনজর দেখতে যে দেশে ‘যুদ্ধ’ বেঁধে যায়, টিকিটের দাম ওঠে লাখ টাকা; সেই ভারত নাকি আর্জেন্টাইন তারকার শেষ বিশ্বকাপ দেখতে আগ্রহী নয়! শুনে কি একটু খটকা লাগছে? ঘটনা সে রকমই। ৮০০ কোটি টাকা কমিয়েও ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে পারছে না ফিফা।
অলিম্পিকের পর ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। দর্শকচাহিদায় যেটি আবার অলিম্পিককেও ছাড়িয়ে। ফিফার মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয় এক টিভি স্বত্ব থেকেই। উপমহাদেশের কোনো দেশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় না, তবে বিশ্বকাপ নিয়ে আবেগ খুব সম্ভবত এই অঞ্চলেই বেশি। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ ভারতকে আলাদা ‘টার্গেট’ করে টিভি স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থাকে ফিফার।
আগের আসরগুলোর হিসাবে এবারও নিশ্চয় ভারত থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আয়ের পরিকল্পনা ছিল ফিফার। কিন্তু প্রায় দেড়শ কোটির দেশ ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি ২ মাস, এখনো ঝুলে ভারতের টিভি স্বত্বের প্রক্রিয়া।
১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ২২০ কোটি টাকায় ভারতে টিভি স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। মোটা অঙ্কের অর্থে কোনো সাড়া মেলেনি। কমতে কমতে ৩৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪২০ কোটি টাকার প্রস্তাবে নেমেছে। তাতেও কাজ হচ্ছে না। ভারতের জিও হটস্টার নাকি ২৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করতে রাজি। এই প্রস্তাবে আবার ফিফার আপত্তি।
ভারতের টিভি স্বত্ব নেওয়ার সঙ্গে আবার বাংলাদেশ জড়িত। কারণ ভারতে ‘টিভি রাইটস’ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই খেলা দেখার স্বত্ব কেনে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল। ফলে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখার ব্যাপারটাও ঝুলে আছে।
বিশ্বকাপের পরিধি বেড়েছে। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপেই শেষবার খেলতে নামবেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই অঞ্চলে তাদের জনপ্রিয়তা অন্যরকম। এরপরও কেন ভারতে টিভি স্বত্ব বিক্রি করতে পারছে না ফিফা?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস নাও। দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিতে আগ্রহী একটি প্রতিষ্ঠানের সূত্রের বরাত দিয়ে তারা ছেপেছে, এই অঞ্চলে এবারের বিশ্বকাপ ম্যাচের সময়সূচির কারণেই মোটা অঙ্কে স্বত্ব কেনার সাহস পাচ্ছে না কোনো প্রতিষ্ঠান।
ওই সূত্রের দাবি, ‘এক মাসের ব্যবধানে ১০৪ ম্যাচ। এর মধ্যে মাত্র ১২-১৩টি হবে ভারতীয় প্রাইম টাইমে। প্রায় ৯০ শতাংশ ম্যাচ মধ্যরাতে কিংবা ভোররাতে হবে। এখানেই দর্শকসংখ্যা অনেক কমে যাবে। ফুটবল ও ক্রিকেটের কিছু পার্থক্য আছে। ফুটবলে ম্যাচ চলার সময় তেমন একটা বিজ্ঞাপনের ব্যাপার নেই, ক্রিকেটে যা অনেক বেশি। ম্যাচের আগে, হাফটাইমে ও ম্যাচের পরের বিজ্ঞাপনের ওপরেই পুরোটা নির্ভরশীল হতে হবে।’
কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে দিয়ে সূত্রটি বাস্তবতা বোঝানোর চেষ্টা করেছে পরের কথায়, ‘ভায়াকমএইটটিন গত বিশ্বকাপে প্রায় ২৫০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছিল। এখন পর্যন্ত তারা সেটা পুষিয়ে উঠতে পারেনি। আগের বিশ্বকাপ হয়েছিল কাতারে, ম্যাচগুলোও ছিল ভারতের জন্য উপযোগী সময়ে। তবুও আশানুরূপ লাভ করা যায়নি।’
ভারতের মিনারভা একাডেমির মালিক রঞ্জিত বাজাজ অবশ্য টিভি স্বত্ব বিক্রি না হওয়ার যৌক্তিক কারণই খুঁজে পাচ্ছেন না, ‘যে দেশের মানুষ মেসিকে একনজর দেখতে ১০-২০ হাজার রুপি খরচ করে, সেখানে ফুটবলের দাপট সবসময়ই থাকবে। যারা পুরো বছর ফুটবল দেখেন না, তারাও বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচও তো মধ্যরাতে হয়। আইপিএলের কল্যাণে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা অবশ্যই অনেক বেড়েছে, তবে ফুটবলের আবেদন একটুও কমেনি।’
১১ জুন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কত টাকায় বিশ্বকাপের টিভি স্বত্ব বিক্রি হয় ভারতে?
















