ইমরান খানের পাশে ব্রায়ান লারা, চাইলেন স্বাধীন চিকিৎসাসেবা

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা। কারাবন্দী ইমরানকে যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি তার প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লারা বলেন, ক্রিকেট মাঠে ইমরানের সঙ্গে তার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছে। তবে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়কের প্রতি যে শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছিল তা ছিল তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘস্থায়ী।
ইমরান খানের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন লারা, ‘নিজ দেশের জন্য একসময় আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠা একজন মানুষ কীভাবে এখন এমন পরিস্থিতিতে পড়লেন যেখানে তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদার সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না? এটা বুঝতে আমার কষ্ট হচ্ছে।’
সাবেক অধিনায়কদের সঙ্গে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে লারাও সোচ্চার হয়েছেন, ‘আমার সাবেক অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে আমিও দাবি জানাচ্ছি তাকে যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হোক এবং প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক।’
নিজের অবস্থান যে রাজনৈতিক নয় সেটিও স্পষ্ট করেছেন লারা, ‘এটি রাজনীতি নয়। এটি আমাদের ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তির প্রতি সাধারণ মানবিকতার দাবি।’
লারা ছাড়াও কয়েক সপ্তাহ আগে কারাবন্দী ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে আবেদন জানান। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষকে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ইমরানকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ইমরানের বোন ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
তারার আরও জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ একদল যোগ্য চিকিৎসক বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইমরানকে সুস্থ ঘোষণা করেন।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করে আসছেন ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।





