অজি পেসারদের থেকে লিস্ট করে ‘পরামর্শ’ নেবেন তাসকিন

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটার ক্যারে ও জ্যাকের সঙ্গে সমুদ্রপাড়ে ফটোসেশনে তাসকিন। ছবি: ফেইসবুক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে ঘিরে রোমাঞ্চিত বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। ছোট থেকেই অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসারদের খেলা দেখে তাসকিনের বড় হওয়া। যেখানে একের পর এক লিজেন্ড পেসাররা এসেছেন যুগে যুগে।
সেই অস্ট্রেলিয়ায় এবার খেলার সুযোগ হচ্ছে তাসকিনের। বিশেষ করে মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে। মুখোমুখি হওয়ার এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, সেই অপেক্ষা শেষ করতে আর তর সইছে না তাসকিনের। শুধু তা-ই নয়, খেলার পাশাপাশি অজি পেস কোয়াট্রেটের সঙ্গে কথা বলে পরামর্শের লিস্ট নেওয়ার অপেক্ষা বাংলাদেশ পেসারের।
১৩ আগস্ট থেকে ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
প্রথম টেস্টের আগে দারুণ একটা সময়ও কাটিয়েছেন তাসকিন। অ্যালেক্স ক্যারে ও জ্যাক ওয়েদারাল্ডের সঙ্গে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফিশিং (মাছ ধরা) উপভোগ করেছেন। ছিল ফটোসেশনও। দারুণ সময় কাটানো তাসকিন বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের দেখছি, বিশেষ করে তাদের দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার ও কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। এখন সত্যিই তাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছি। তাই আমি খুবই রোমাঞ্চিত।’
অস্ট্রেলিয়াকে নিজের পছন্দের বোলিং কন্ডিশন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তাসকিন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আমার বোলিংয়ের জন্য প্রিয় জায়গা। আমি তাদের সবাইকে দেখছি—স্টার্ক, হ্যাজলউড, কামিন্স, এমনকি বোল্যান্ডও ভালো করছে। সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলতে চাই, যতটা সম্ভব পরামর্শ নিতে চাই।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এখনো টেস্ট খেলা হয়নি তাসকিনের। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে ৯ ম্যাচে তার শিকার ১৪ উইকেট। এর মধ্যে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপেই নিয়েছিলেন ৯ উইকেটের ৬টি।
ঘরের মাঠের জয় আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে তাসকিনদের
টেস্ট সিরিজ শুরুর মাত্র দুই মাস আগে অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তাসকিন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই সাফল্য টেস্ট সিরিজে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমাদের জন্য সেটি সত্যিই দারুণ একটি সিরিজ ছিল। সাধারণত মিরপুরে ঐতিহ্যগতভাবে মন্থর ও টার্নিং উইকেট থাকে। কিন্তু সর্বশেষ সিরিজে কন্ডিশন ছিল বেশ স্পোর্টিং। আমরা সবাই ভালো খেলেছি এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি। সেটি তাদের বিপক্ষে খেলার জন্য আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।’
তবে ওয়ানডে ও টেস্টের পাশাপাশি ঘরের মাঠ ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের পার্থক্যও মনে করিয়ে দিয়েছেন এই পেসার। তার ভাষায়, ‘তারপরও ঘরের মাঠ ও অ্যাওয়ে কন্ডিশনের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও এগিয়ে বাংলাদেশ
চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চারটি টেস্ট খেলে ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে।
অন্যদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে দারুণ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে তারা। আগামী বছর দ্য ওভালে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি অস্ট্রেলিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ডারউইনে ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে তাই মুখোমুখি হবে দুই ভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে থাকা দুই দল—অস্ট্রেলিয়া চাইবে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে, আর বাংলাদেশ চাইবে দেশের বাইরে বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা টেস্টেও ধরে রাখতে।




