আফগান পেসার শাপুর জাদরান আর নেই

আফগান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম রূপকার ও সাবেক বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান আর নেই। মঙ্গলবার ভারতের গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আগামীকালই তার ৩৯তম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল। কিন্তু এক দিন আগেই মরণব্যাধির কাছে হার মেনে চিরবিদায় নিলেন এই গতি তারকা।
শাপুর জাদরান বেশ কিছু দিন ধরে ‘হিমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ নামের একটি বিরল এবং প্রাণঘাতী রোগে ভুগছিলেন। এটি এমন একটি রোগ যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে শরীরের ক্ষতি করে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
শরণার্থী শিবির থেকে উঠে এসে আফগানিস্তানকে বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে যে কজন প্রথম প্রজন্মের ক্রিকেটার অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, শাপুর জাদরান তাদের অন্যতম। লম্বা রান-আপ, আগ্রাসী বোলিং আর গতি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডে এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিসহ মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন শাপুর। ওয়ানডেতে ৪৩টি এবং টি-টোয়েন্টিতে তাঁর শিকার ৪৩টি উইকেট। আফগানিস্তানের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ (২০১৫) এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পেছনে তাঁর অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ উইকেটে শাপুরের ব্যাট থেকে আসা জয়সূচক রানটি আফগান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত হিসেবে অমর হয়ে আছে। শাপুরের ছোট ভাই ঘামাই জাদরান জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকেই অসুস্থ বোধ করছিলেন শাপুর। আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তাঁকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। গত মে মাসে ভারতের হাসপাতালে শাপুরকে দেখতে গিয়েছিলেন আফগান ক্রিকেটের দুই বড় তারকা মোহাম্মদ নবি ও রশিদ খান। হাসপাতালে শাপুরের বিছানায় শুয়ে থাকার একটি আবেগঘন ছবি শেয়ার করে নবি লিখেছিলেন, সাবেক সতীর্থকে এই অবস্থায় দেখা কতটা যন্ত্রণাদায়ক।
শাপুর জাদরানের এই অকালপ্রয়াণে ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাবেক সতীর্থ, ক্রিকেট কর্মকর্তা ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আফগান ক্রিকেটের কঠিন শুরুর দিনগুলোতে তাঁর সেই নিবেদন আর অবদান ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।








