বিব্রতকর
পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের শরণার্থী ভেবে জনতার বিক্ষোভ!

অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সতর্ক অবস্থানে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।
যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে এক অদ্ভুত ও বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে। ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় এশীয় যুবকদের দেখে আন্দোলনকারীরা তাদের শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী ভেবে বসেন। এতেই ঘটে বিপত্তি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পোর্টসমাউথের কোশাম এলাকার একটি ম্যারিয়ট হোটেলের বাইরে। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই ওই বন্দর নগরীর কাছাকাছি এলাকায় অভিবাসীদের একটি দলের অবতরণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ছোট নৌকায় করে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থীর যুক্তরাজ্যে আগমন দেশটির রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এর জেরে প্রায়ই দেশটিতে তীব্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার একটি বাসে করে বেশ কয়েকজন এশীয় তরুণকে ওই হোটেলে প্রবেশ করতে দেখার পর পরই কিছু বিক্ষোভকারী হোটেলটির সামনে এসে জড়ো হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের একজন স্থানীয় কাউন্সিলর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং যুবকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর ভিড় সরাতে সাহায্য করেন।
হাম্পশায়ার পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোটেলের বাইরে লোকজনের জটলা তৈরির খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। তিনি বলেন, ‘অফিসাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে সমবেত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন, যারা এলাকায় একটি বাসে কিছু যুবককে দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে।’ পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ জনের মতো মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং পুলিশ বুঝিয়ে বলার পর তারা দ্রুত সরে যায়। কোনো অপ্রীতিকর বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন স্ট্যান্ড আপ টু রেসসিজম-এর জাতীয় সংগঠক মাইকেল ব্র্যাডলি। শরণার্থীবিরোধী এই মানসিকতা কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে, তা নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যখন পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলকে শুধু এশীয় হওয়ার কারণে অভিবাসী ভেবে বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়, এর অর্থ দাঁড়ায়- শহরে প্রবেশকারী যেকোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা এশীয় জনগোষ্ঠীই উগ্র ডানপন্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।’
একদিকে যখন পোর্টসমাউথে অনূর্ধ্ব-১৯ দল এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, ঠিক একই সময়ে পাকিস্তানের জাতীয় সিনিয়র পুরুষ দলও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বার্মিংহামের এজবাস্টনে সিরিজের শেষ টেস্ট খেলছে।







