সেরাদের ছাড়া মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পর ডারউইন জয়

ছবি: বিসিবি
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডকে মুমিনুল হকের দল হারায় ৮ উইকেটে। সেটাই ছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। অথচ সেই সফরে যাননি বাংলাদেশের সেরা দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।
তামিম ইকবাল পড়েছিলেন আঙুলের ইনজুরিতে। আর সাকিব যাননি ব্যক্তিগত কারণে। কোভিডের কড়া নিয়মে এই সফরে না গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটান তিনি। মুশফিকুর রহিম খেললেও ছিলেন বিবর্ণ। প্রথম ইনিংসে আউট হন ১২ রানে। ‘পঞ্চপাণ্ডব’-এর অপর দুইজন মাশরাফি বিন মর্তুজা আর মাহমুদউল্লাহ ততদিনে টেস্ট দল থেকে আলোকবর্ষ দূরে।
এই পঞ্চপাণ্ডব ছাড়াই (মুশফিকের অবদান সীমিত) নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারানোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সাফল্য। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মাহমুদুল হাসান জয় ৭৮, নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৪, মুমিনুল হক ৮৮ আর লিটন দাস খেলেছিলেন ৮৮ রানের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ৩২৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ৪৫৮।
বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে আগুন ঝড়ান ইবাদত হোসেন। এই পেসারের ৪৬ রানে ৬ উইকেটে পুড়ে ছাই কিউইরা। তারা গুটিয়ে যায় কেবল ১৬৯ রানে। জয়ের জন্য বাংলাদেশ পায় ৪০ রানের লক্ষ্য, যা ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় টাইগাররা।
সেই ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন,‘সবসময় ভাবা হয়, আমরা চার-পাঁচজন ছাড়া খেলোয়াড় নেই। তো আমার ধারণা, সেটা একটা ভুল প্রমাণ হলো। তাদেরকে (অন্য ক্রিকেটারদের) যদি এভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পর ডারউইনেও ঐতিহাসিক জয়ে সেরা দুই পেসার ছিলেন না বাংলাদেশের। সময়ের অন্যতম সফল পেসার নাহিদ রানা পড়েছেন ইনজুরিতে। শরিফুল ইসলামও চোটের কারণে ছিলেন প্রথম টেস্টের বাইরে। এই দুজনকে ছাড়া ঠিকই দায়িত্বটা ভাগ করে নিয়েছেন অন্যরা। হাসান মাহমুদ সুইংয়ের জাদুতে দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ৯ উইকেট।
ছুটি কাটিয়ে ফেরা ইবাদত হোসেন প্রথম ইনিংসে ফিরিয়েছিলেন মার্নাস লাবুশেন ও অ্যালেক্স ক্যারিকে। তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই করেছেন সেঞ্চুরি। মেহেদী হাসান মিরাজ ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তাতেই গড়া হল গৌরবগাঁথা।






