শত্রুতা ভুলে রোনালদোকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জেসুসের

দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার হুট করেই জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা। মূলত কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে তিনি পর্তুগাল দলের বাইরে ছিলেন। শোনা গেছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ; রোনালদোর শাস্তিও জুটেছে। তবে মহাতারকার বিদায়লগ্নে শত্রুতা ভুলে মুখ খুলেছেন জেসুস।
পর্তুগিজ ব্রডকাস্টার ‘ক্যানাল ১১’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোর্হে জেসুস জানান, রোনালদোকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন, ‘প্রথম দল ঘোষণার আগেই আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আমি তাকে পর্তুগালের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ আমার পাশে তার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে আমার ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তবে আমি তার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মেনে নিয়েছি।’ গত সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না, বদলি হিসেবেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। ডেনমার্কের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও একাদশে জায়গা পাবেন না জানার পর কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। পর্তুগাল কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে তখন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এ ফুটবলার।
এভাবে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য তাকে জরিমানা ও সাময়িক নির্বাসন দিয়েছিল পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। সেটা শেষ হওয়ার আগেই রেকর্ড ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আল-নাসরে একসঙ্গে এক বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে জেসুস আরও বলেছেন, ‘তরুণ প্রজন্মের জন্য রোনালদো সবসময় এক অনন্য অনুপ্রেরণা এবং পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।’ ২০০৩ সালের আগস্টে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। তার হাত ধরেই ২০১৬ সালে ইতিহাসের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি হিসেবে ইউরো জিতেছিল পর্তুগাল। পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২৫ সালেও উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা ঘরে তোলে পর্তুগিজরা। এছাড়া ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে গোল করে প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। জানা গেছে, কোচ জেসুসকে সরাসরি কিছু না জানিয়ে এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রেন্সার কাছে নিজের অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান রোনালদো।





