আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট: রাশেদ খাঁন

বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ‘ওপেন সিক্রেট’।
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিজ্ঞেস করেন জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই?’
তিনি দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছেন, জামায়াতের আমির অনেক দর-কষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটি ছাড়েননি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ‘নাহিদ ইসলামের ভাষায় জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিল, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি।’
তিনি আরও দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘প্রয়োজনে আরও ২-৩টা আসন বেশি ছাড়ব, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করিয়েন না!’
জামায়াতের আমিরের ওই অবস্থানের প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতের আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রয়োজন এই বিষয়ে সন্দেহ লাগলে উপরিউক্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ তুলতে পারেন।’
আসিফ মাহমুদকে ঘিরে এনসিপির সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘আজকের সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোনো নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট!’
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, ‘এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিল!’
তিনি আরও বলেন, ‘দুদকের কোনো কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিল, যেটা আমি নিজে জানি।’
এ বিষয়ে একজন উপদেষ্টাকে জানানোর পর তার কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘বেতন থেকে তো কেউ এত টাকা দিতে পারে না। আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিল অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম।’
তবে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে অন্যরা আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান নিলেও নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না বলে জানান রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষায়, ‘বিরোধিতার কারণে, বিরোধী দলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাব, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল!’






