দোয়া
যে দোয়ায় মিলতে পারে বিস্ময়কর উপায়ে ঋণমুক্তি

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে কিছু বোঝা চোখে দেখা যায় না, অথচ তার ভার সবচেয়ে বেশি। ঋণ তেমনই এক অদৃশ্য বোঝা। পকেটের শূন্যতা, পাওনাদারের তাগাদা, সংসারের প্রয়োজন আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা; এগুলো এমন এক বোঝা যেগুলো একসময় কেড়ে নেয় মানুষের ঘুম। দিনের ব্যস্ততার মাঝেও মনে পড়ে যায় বকেয়া টাকার কথা, রাতের নীরবতায় বুকের ভেতর জমে ওঠে অজানা উৎকণ্ঠা। কখনো ঋণ মানুষকে মারাত্মক মানসিক সংকটে ঠেলে দেয়।
এমন ভয়াবহ মানসিক বোঝা থেকে পরিত্রাণের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের একটি খুবই প্রভাবশালী দোয়া শিখিয়েছেন।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, একটি চুক্তিবদ্ধ গোলাম তার নিকটে এসে বলে, আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি। আমাকে আপনি সহযোগিতা করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব না যা আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর (সাবীর) পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেনঃ তুমি বল,
(দোয়াটি হলো)—
اللَّهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
(বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।)
(অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখো এবং তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত করে দাও।) (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৬৩)
দোয়াটির সৌন্দর্য শুধু ঋণ পরিশোধের আকাঙ্ক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে একজন মুমিনের সমগ্র আর্থিক জীবনের একটি গভীর দর্শন। বান্দা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে, তিনি যেন হালাল উপায়ে তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন, হারাম থেকে তাকে দূরে রাখেন এবং নিজের দয়া ও অনুগ্রহে অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত রাখেন। অর্থাৎ দোয়াটি শুধু ঋণমুক্তির জন্য নয়, বরং হালাল রিজিক, আত্মমর্যাদা এবং আল্লাহনির্ভর জীবনেরও এক অনন্য প্রার্থনা।
এই ছোট্ট দোয়ায় যেন একজন ঋণগ্রস্ত মানুষের সমস্ত আকুতি একত্র হয়ে যায়। সে শুধু টাকা চায় না, চায় হালাল পথে স্বচ্ছলতা। শুধু পাওনা পরিশোধ করতে চায় না, চায় এমন রিজিক, যা তাকে হারামের দিকে হাত বাড়াতে বাধ্য করবে না। শুধু মানুষের কাছ থেকে মুক্তি চায় না, চায় আল্লাহর অনুগ্রহে এমন আত্মনির্ভরতা, যেখানে তার অন্তর মানুষের দরজার চেয়ে রবের দরজার প্রতি বেশি আশাবাদী থাকবে।
তাই ঋণের ভারে ক্লান্ত কোনো মুমিনের জন্য এই দোয়া হতে পারে আশার এক দরজা। তবে দোয়ার সঙ্গে থাকবে পরিশ্রম, ঋণ পরিশোধের দৃঢ় সংকল্প, অপচয় বর্জন এবং হারাম উপার্জন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার চেষ্টা। কারণ ইসলামে দোয়া কখনো কর্মবিমুখতার নাম নয়; বরং দোয়া হলো চেষ্টা করতে করতে সেই সত্তার ওপর ভরসা করা, যিনি রিজিকের প্রকৃত মালিক।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



