হজ ২০২৭: স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া মিলবে না ভিসা

সংগৃহীত ছবি
হজ শুধু ইবাদতের সফর নয়, এটি শারীরিক সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা। প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ পথ হাঁটা, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম এবং একটানা বিভিন্ন ইবাদত পালনের কারণে হাজিদের সুস্থতা ও শারীরিক সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নতুন বাধ্যবাধকতা জোরদার করেছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের (MOHU) নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি তথা ২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে হলে প্রত্যেক হাজিকে নির্ধারিত চিকিৎসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে হবে। এ স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া হজের ভিসা ইস্যু করা হবে না। সৌদি আরবে প্রবেশের সময়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সনদটি যাচাই করতে পারে।
নুসুক মাসারে হবে স্বাস্থ্য ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া
হজে যেতে ইচ্ছুকদের নিজ নিজ দেশে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। দেশভেদে এ পরীক্ষা এক বা একাধিক ধাপে হতে পারে। চিকিৎসা পরীক্ষায় হজ পালনের উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হলে তার ফলাফলের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ‘হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ প্রক্রিয়া সৌদি আরবের নির্ধারিত নুসুক মাসার (Nusuk Masar) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। হজের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ সনদকে পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরবে প্রবেশের সময়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সনদ যাচাই করতে পারে।
তবে স্বাস্থ্য ছাড়পত্রের পাশাপাশি টিকাদানের শর্তও বহাল থাকবে। বিশেষ করে মেনিনজোকক্যাল ACWY টিকাসহ সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অন্যান্য টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ টিকাদানের এ শর্তের বিকল্প নয়।
যাদের জন্য হজের অনুমতি নাও মিলতে পারে
সৌদি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দেশনায় গুরুতর কিছু রোগ ও শারীরিক অবস্থাকে হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস-নির্ভর কিডনি রোগ, গুরুতর হৃদ্রোগ, সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট হয় এমন হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা এবং অক্সিজেননির্ভর দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ।
এ ছাড়া জ্ঞান ও উপলব্ধির সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করে এমন স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, উল্লেখযোগ্য শারীরিক অক্ষমতা, অতিবৃদ্ধ বয়সের সঙ্গে ডিমেনশিয়া, উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থা এবং গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসও স্বাস্থ্যগত অযোগ্যতার আওতায় পড়তে পারে।
সক্রিয় ক্যানসারের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বা তীব্র রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা-দমনকারী চিকিৎসা চলা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন উন্মুক্ত পালমোনারি যক্ষ্মা, থাকলেও স্বাস্থ্য ছাড়পত্র না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য হাজির শারীরিকভাবে যতটা সম্ভব স্বনির্ভর হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। হালকা সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহার অনুমোদিত হতে পারে। তবে চলাফেরার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে হুইলচেয়ার বা স্কুটারের ওপর নির্ভরশীলদের বিষয়ে স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।
হজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই সম্ভাব্য হাজিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজ দেশের জাতীয় হজ কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
সৌদি আরবের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, ইবাদতের এই মহাসমাবেশে হাজিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা।
সুত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন





