ডিজিটাল গিবত: যেখানে মুখ বন্ধ হলেও আঙুল সক্রিয়

প্রতীকী ছবি
মানুষের মুখ বন্ধ, অথচ আঙুল চলছে। একটি কমেন্ট, একটি স্ক্রিনশট, একটি মিম কিংবা একটি ফরোয়ার্ড করা বার্তা মুহূর্তেই কারও সম্মানকে মানুষের আলোচনার বিষয় বানিয়ে দিতে পারে। এ জন্যই ডিজিটাল যুগে গিবতের এই নতুন রূপটি আরও ভয়ংকর। কারণ মুখের কথা সীমিত মানুষের কানে পৌঁছায়, কিন্তু অনলাইনের একটি পোস্ট মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে হাজারো মানুষের কাছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)। গিবতের ভয়াবহতা বোঝাতে এর চেয়ে কঠিন উপমা আর কী হতে পারে! রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে।’ সাহাবিরা জানতে চাইলেন, কথাটি সত্য হলেও কি গিবত হবে? তিনি বললেন, ‘তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তবে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি না থাকে, তবে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৯)।
ডিজিটাল মাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা, কারও পুরোনো ভুল নিয়ে মিম তৈরি করা, কমেন্টে কটূক্তি করা কিংবা অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেওয়া অনেক সময় নিছক বিনোদন হিসেবে দেখা হয়। অথচ এসব কর্মকাণ্ডে মানুষের সম্মানহানি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে।
পবিত্র কোরআন নির্দেশ দিয়েছে, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)
তবে অন্যায় থেকে মানুষকে সতর্ক করা, জুলুমের অভিযোগ জানানো কিংবা ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করার ব্যপারটি ভিন্ন হিসেব। তবে সেখানে উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অপমান বা হাস্যরস সৃষ্টি নয়।
তাই ডিজিটাল দুনিয়ায় পোস্ট, কমেন্ট কিংবা শেয়ার করার ভেবে নেয়া জরুরি। যে কথাটি সামনাসামনি বলতে সংকোচ হয়, সেটিই আড়ালে লিখে দেওয়া নৈতিক সাহস নয়। মনে রাখতে হবে, মুখের উচ্চারিত শব্দ যেমন আমলনামায় লেখা হয়, তেমনি আঙুলের টেপা অক্ষরও আল্লাহর অগোচরে নয়।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক





