রিজভী
লং মার্চের কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের বহর রংপুর যাওয়ার পথে বেশ কিছু গাড়ির টোল পরিশোধ করেনি— অভিযোগ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর। যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় লং মার্চের সব গাড়ি টোল দেয়নি জানিয়ে তিনি বললেন, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষ দেখে টোল আদায়কারীরা হয়তো ভয় পেয়েছিলেন।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলছিলেন তিনি। বললেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল ভিন্ন সুরে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে। জনস্বার্থে কর্মসূচি হলে তাতে আপত্তি নেই। তবে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই কর্মসূচি— মত রিজভীর। তিনি বললেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে কথা বলবে, রাজপথে আন্দোলন করবে, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ কারণে তাদের কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি সরকার। অথচ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলে না ধরে তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।’
সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী নাসিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুখপাত্র এসএম শাহাদাত। আলোচনায় অংশ নিয়ে রিজভী বললেন, ‘বাংলাদেশকে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২০৫ টাকা দিয়ে কিনতে হয়, অথচ জনগণের কাছে তা ১১৫ টাকায় বিক্রি করা হতো। এতে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হতো। সম্প্রতি মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে।’
নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম এখনো কম উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলছিলেন, ‘যেখানে কোনো পণ্যের দাম বেশি এবং অন্যত্র কম, অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ অনুযায়ী পণ্যটি কম দামের স্থান থেকে বেশি দামের স্থানে চলে যায়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবাহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’লং মার্চে
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও লং মার্চ, প্রতিবাদ সভা বা বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।’



