জামায়াত আমির
জীবন যাবে, তবুও মাথা নত করব না

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। জীবন যাবে, তবুও মাথা নত করব না, ইনশাআল্লাহ।’ আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই গণসমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম নেই বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে। রাজপথ ও সংসদ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে নদীর জোয়ার বা সমুদ্রের জোয়ার থামাতে পারবে না।’
‘৭১ সালে জনগণের রায়কে মান্য না করার কারণে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। যারা রায় অস্বীকার করেছিলেন, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও যারা রায় অস্বীকার করছেন, নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ মনে করেন তারা। আমরা বলি, সেই মুক্তিযুদ্ধকেই সম্মান করে রায়টা মেনে নেন। এই রায় মেনে নিলে এই স্টেজে দাঁড়িয়ে এই দাবিতে আর বক্তব্য দেব না,’ বলছিলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলছিলেন, ‘আজকে যে মঞ্চে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি, এই মঞ্চের সঙ্গে দুইটা জিনিস কখনো যাবে না। একটা আধিপত্যবাদ আরেকটা ফ্যাসিবাদ। এই দুইটাকে এই মঞ্চ কখনো কবুল করবে না, বরদাশত করবে না।’
অতীতের কথা টেনে তিনি বলেছেন, ‘একসময় সবাই মজলুম ছিলাম, রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। তাদেরই একটা অংশ আজকে সরকারে যাওয়ার পরে অতীতের সবকিছু ভুলে গেছে। কেন আজকে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের রাজপথে আসতে হলো? তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এই কারণে আসতে হলো। তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকরী আইনি পদ্ধতি হিসেবে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। এই জন্য সেই গণভোটের প্রস্তাব তাদেরই একজন করেছিলেন। তাদের নেতা নির্বাচনী প্রচার অভিযানে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি স্মরণ করে বলেছিলেন—প্রিয় দেশবাসী ভোট দেবেন দুটা, একটা দেবেন আমাদের মার্কায় আরেকটা দেবেন গণভোটে; আপনারা সকলে গণভোটে হ্যাঁ বলবেন। এখন তারা বলছেন গণভোট অবৈধ।’
সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছিলেন সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবেন। এখন আপনারা কী করছেন? এক দলকে পাঠায় দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেক দলকে আরব দেশে, আর দেশের জমিদার সেজে দখল নিচ্ছেন নিজেরাই। মনে রাখবেন- দুইটা স্লোগান ছিল বড় শক্তিশালী—একটা উই ওয়ান্ট জাস্টিস আরেকটা দেশটা কারও বাপের নয়। শত আলেম-ওলামা বুকের রক্ত এবং জীবন দিয়ে এই দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই আলেম-ওলামার সঙ্গে বেইমানি করব না আমরা।

