‘বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না’, তারেক রহমানকে ট্রাম্প

বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ মত প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের কথাও তিনি ভুলবেন না বলে উল্লেখ করেন।
গতকাল রবিবার রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এক এক্স পোস্টে ‘নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ’ এই তথ্য জানান। এ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব চুক্তি’ হয়েছে বলেও সার্জিও গর উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের এই তথ্য প্রকাশের এক দিন পর দেশটির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের করা টুইট সম্পর্কে জানতে চাইলে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আমাদের বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখছি।’
‘যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। আমরা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করব’— যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের বিমান বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এশিয়ায় একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে আমাদের আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি বড় এয়ারক্রাফট ফ্লিট প্রয়োজন।’
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের উদাহরণ দিয়ে বললেন, ‘তাদের বহরে ১৫০টিরও বেশি এয়ারক্রাফট রয়েছে। অথচ আমাদের আগামী ১০-১৫ বছরে ৭০-৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে।’
বোয়িং নাকি এয়ারবাস— কোন ধরনের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বললেন, ‘আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বোয়িং বিমান কিনব।’
এই সিদ্ধান্ত কোনো চাপের কারণে নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘না, কোনো চাপের কারণে নয়। এটি আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশে আমাদের প্রয়োজনীয় এয়ারক্রাফট ফ্লিট নেই। আমাদের ফ্লিট সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে আমরা নতুন রুট চালু করতে পারব না এবং ব্যবসা হারাব।’
দীর্ঘমেয়াদে উড়োজাহাজ কেনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে। আমরা আমাদের প্রয়োজন ও কেনার সক্ষমতা অনুযায়ী কেনাকাটা চালিয়ে যাব।’
হুমায়ুন কবির বললেন, ‘আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা পূরণ করতে হবে, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের রুটগুলোর একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে তৈরি করতে হবে।’








