গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন
মনে হয় সরকার যেন দখলবাজদের পক্ষে : হাসনাত কাইয়ূম

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেছেন, ‘দখলবাজির চূড়ান্তপনায় মনে হয় যেন দেশে কোনো সরকার নেই অথবা সরকার আছে কেবল দখলবাজদের পক্ষে। সাধারণ মানুষের পক্ষে না।’
আজ রবিবার রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
হাসনাত কাইয়ূম ছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে দিনের পর দিন স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা ও টিকা নিতে আসত— সেই জায়গাটাকে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো; অথচ প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা আমরা দেখিনি।’
মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মামলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গতকাল (শনিবার) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ বেশ কিছু স্থাপনায় একইভাবে রাতের অন্ধকারে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরপর এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, রাজধানীতেই দখলবাজ চক্র বেপরোয়াভাবে সক্রিয়; আর সরকার ও প্রশাসন তাদের ফ্যাসিলিটেইট করছেন,’ যোগ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, তার সমাধান হওয়ার কথা আদালতে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া আর তা প্রতিরোধে পুলিশের ব্যর্থতা দেখে মনে হয়— এই রাষ্ট্রে আইন-কানুন, প্রশাসন, সরকার বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।’
পরিদর্শন শেষে জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন যৌথভাবে চারটি দাবি জানায়।
১. রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সাম্প্রতিক সময়ে দখলবাজি-হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ যেন বলপ্রয়োগে নয়, আইনি প্রক্রিয়াতেই নিষ্পত্তি হয়— তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দ্রুত কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপু, প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী রোমান; রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ রানা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, রাষ্ট্র সংস্কার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আবুল হোসেন অলি, রাবেয়া মুহিব ও রোকন রকি প্রমুখ।





