৫ ঘণ্টা পর মামলার অভিযোগ নিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে এনসিপি নেতারা

অভিযোগ নিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে এনসিপি নেতারা
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় আটকে দিয়েছে পুলিশ। সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থানের পর পুলিশ ক্যাম্প থেকেই অনলাইনে মামলার অভিযোগ দাখিল করেছেন নেতারা।
আজ বুধবার বিকালে হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার উদ্দেশে রওনা হলে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান নেয় প্রশাসন।
এনসিপির নেতারা জানান, আগের দিনের হামলার ঘটনায় তারা হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে সরাসরি মামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় পুলিশ তাদের শহরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকেই অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও জনসমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এনসিপির নেতাকর্মীদের জেলা শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কয়েক দফা আলোচনা হয়। দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।
এর আগে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় বুধবার বিকাল ৩টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী, পৌরসভা মাঠ, তিনকোনা পুকুরপাড়, শায়েস্তানগর, সিনেমা হল সড়ক, চৌধুরী বাজার, টাউন হল রোড, কোর্ট স্টেশন ও ডিসি অফিসসংলগ্ন এলাকাসহ নির্ধারিত স্থানে সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ ও সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল, দেশীয় অস্ত্র বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কোনো বস্তু বহনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগের দিন হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে দলটি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে বুধবার হবিগঞ্জে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পৃথক কর্মসূচি থাকায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।






