হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ

হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকাতে দাঁড়িয়েছে পুলিশ— সংগৃহীত
১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হবিগঞ্জে প্রবেশের পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। বহরে আছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীনসহ আরও অনেকে।
আজ বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের প্রবেশপথ সাতগাঁও এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে। একই সময়ে দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন আগামীর সময়কে জানান, হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ পথে বাধা দিয়ে তাদের আটকে দিয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা বললেন, ১৪৪ ধারার কারণে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে না। তবে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছেন।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। বুধবার সকাল থেকেই টাউন হল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর মডেল থানা, আদালত এলাকা, টাউন হল রোড, চৌধুরীবাজার, কালীবাড়ি রোড, রাজনগর ও শায়েস্তানগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাউন হলের সামনে পথসভা শেষে সার্কিট হাউজে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ নেতারা সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।
হামলার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে বুধবার মৌলভীবাজারের দুটি পদযাত্রা স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, ড. আতিক মুজাহিদ ও সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় সারজিস আলম তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে কড়া বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে তারেক রহমানকে নিয়ে 'মিথ্যাচারের' অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও পৌর বিএনপি। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ এবং সদস্যসচিব শফিকুর রহমান সিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। একই ধরনের কর্মসূচি দেয় পৌর বিএনপিও। এ সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা যায়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’





