হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে করা হয়েছে হামলা। ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর জেলায় আরও বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বুধবার পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি ও ছাত্রদল-যুবদল।
মঙ্গলবার সকালে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ‘জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রায় অংশ নেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে ঘটে হামলার ঘটনা।
হামলার পর কাছের সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় ঘটনাস্থলে একদল লোক ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়। অন্যদিকে পুলিশের নিরাপত্তায় স্থান ত্যাগের সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ।
হামলার জন্য সাবেক হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন সারজিস আলম। তিনি দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, মেয়র পদপ্রার্থী মুবিনের হাত ভেঙে গেছে এবং তিনি নিজেও হাতের আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।
হামলার পর বুধবারের মৌলভীবাজার জেলার দুটি পদযাত্রা স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সারজিস আলম। তার ভাষ্য, বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ওপর বিএনপির ‘সন্ত্রাসী হামলার’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সারজিস আলম বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান, আমরাও দেখতে চাই, আপনি আপনার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কত রক্ত ঝরাতে পারেন, কত কিশোরের চোখ উপড়ে ফেলতে পারেন, কত মানুষের জীবন নিতে পারেন।’
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতেই এনসিপির বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ ও সদস্য সচিব শফিকুর রহমান সিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জেলার সর্বত্র বিক্ষোভ মিছিলের নির্দেশনা দেন। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি পোস্টে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, ‘এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। তারপরও হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গভীর রাতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’






