ফিলিস্তিন ম্যারাথনে হাজারও মানুষের অংশগ্রহণ

ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন শিশুরাও
অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরে অনুষ্ঠিত হলো ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের দশম আসর। একই সময়ে গাজায়ও আয়োজন করা হয় দৌড় প্রতিযোগিতা। ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার আবার গাজায় ফিরে এসেছে এই আয়োজন।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় শুরু হয় ৪২ কিলোমিটারের এই ম্যারাথন। বেথলেহেমের ঐতিহাসিক ন্যাটিভিটি গির্জার সামনে জড়ো হন হাজারও স্থানীয় ফিলিস্তিনি ও বিদেশি দৌড়বিদ।
ম্যারাথনের সমন্বয়ক ইতিদাল আবদুল গনি জানান, এবারের আয়োজনের মূল বার্তা ছিল ‘মাতৃভূমির ঐক্য’। তার ভাষ্য, ইসরায়েলি বিভাজন প্রাচীরের দুই পাশে অবস্থান করেও একসঙ্গে দৌড়ে অংশ নিয়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা।
গাজার মধ্যাঞ্চলেও পাঁচ কিলোমিটারের একটি দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াদি গাজা সেতু থেকে শুরু হয়ে উত্তর দিকে এগিয়ে যায় এই প্রতিযোগিতা।
১৭ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভার্চ্যুয়াল ম্যারাথনেরও আয়োজন করেন আয়োজকেরা। এতে ৮৮টি দেশের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। সব মিলিয়ে এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে গাজায় অংশ নেন ২ হাজার ৫২৩ জন এবং প্রায় ৭৫টি দেশের এক হাজারের মতো বিদেশি দৌড়বিদ যোগ দেন।
পূর্ণ ম্যারাথনের পাশাপাশি ছিল ২১ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটারের দৌড় এবং পাঁচ কিলোমিটারের পারিবারিক দৌড়। ফলে পেশাদার ক্রীড়াবিদ, অপেশাদার দৌড়বিদ ও পরিবারসহ নানা বয়সী মানুষ এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
ফিলিস্তিনি যুব ও ক্রীড়া উচ্চ পরিষদ, ফিলিস্তিনি অলিম্পিক কমিটি এবং বেথলেহেম পৌরসভা যৌথভাবে এই আয়োজন করে।
গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ১৫৫ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে।
বেথলেহেমের রাস্তায় সামরিক চৌকি ও বিভাজন প্রাচীরের পাশ দিয়ে দৌড়াতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, কারও গায়ে ছিল কেফিয়েহ।
তাই এই ম্যারাথন শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং গাজার মানুষের প্রতি সংহতি, ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের এক শক্তিশালী প্রতীক।

এই ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও

বিজয়সূচক চিহ্ন দেখাচ্ছেন ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী দুইজন

এই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন দেশি ও বিদেশি দৌড়বিদরাও

'ফ্রি প্যালেস্টাইন' দেয়ালচিত্রের সামনে দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিযোগিরা

পেশাদার ক্রীড়াবিদ, অপেশাদার দৌড়বিদ ও পরিবারসহ নানা বয়সি মানুষ অংশ নেওয়ার সুযোগ পান এতে

রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিদের উৎসাহ দিচ্ছেন দর্শকরা





