আগামীর চোখ
গরিবের রক্তের চেয়ে দামি কমিশন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মহানির্দেশক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী, ঢাকা।
জনাব, চরম শঙ্কা নিয়ে চিঠিটি লিখছি। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২৭টি ভুয়া ও কাগজপত্রহীন হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার মহাসমারোহে তাদের ‘অস্ত্রোপচার মেলা’ চালিয়ে যাচ্ছে! একজন ডাক্তার দিয়েই একই সঙ্গে অজ্ঞান করা আর পেট কাটা, অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মনগড়া ভুল রিপোর্ট তৈরি— স্বাস্থ্যসেবার এমন রোমাঞ্চকর অলিম্পিক বিশ্বের আর কোথায় মিলবে?
যাদের অঢেল টাকা আছে, সামান্য সর্দি-কাশি হলেই তারা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুর ছোটেন। কিন্তু আমাদের মতো হতদরিদ্রদের তো আর সেই সুযোগ নেই! তাই আমাদের জন্য এসব ‘কসাইখানা’ই ভরসা। তবে সমস্যা এক জায়গায় বাধে হুজুর। লাইসেন্সহীন ডায়াগনস্টিকের ভুল রিপোর্ট বা লাইসেন্সহীন হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার নিদান কে দেবে? কারোরই তো লাইসেন্স নেই। এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশু আর মরে যাওয়া রোগীর সার্টিফিকেটের কি আইনি ভিত্তি থাকবে? মরে গিয়েও যদি কাগজপত্রের ঝামেলায় পড়তে হয়, তবে উপায় কী?
মরে গিয়েও যদি কাগজপত্রের ঝামেলায় পড়তে হয়, তবে উপায় কী
কিছুদিন আগে সিটি করপোরেশন ফুটপাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে হকারদের কিউআর কোডযুক্ত ‘হকার কার্ড’ বা লাইসেন্স দিয়েছে। আপনারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও তো চাইলে এই অনন্য মডেলটি অনুকরণ করতে পারেন! হাসপাতাল বানাতে অত ভবন, আইসিইউ বা লাইসেন্সের কী দরকার? সরাসরি ফুটপাতে একটা প্লাস্টিকের শামিয়ানা খাটিয়ে কিউআর কোড ঝুলিয়ে দিন— ‘ফুটপাত হাসপাতাল ও বার্থ-ডেথ সেন্টার’। এতে হকারদের মতো লাইসেন্স ফি বাবদ সরকারের কিছু রাজস্বও আয় হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় লাইসেন্সহীন হাসপাতালের জন্ম ও মৃত্যু সনদের বিড়ম্বনা থেকে আমাদের একটা আপাত মুক্তির ব্যবস্থা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মহোদয়ের অফিসে তালা ঝুলুক বা সহকারী কমিশনার সাহেব ‘ধাপে ধাপে অভিযানের’ যে সান্ত্বনা পুরস্কারের আশ্বাস দেন— তাতে আমাদের আর কোনো আক্ষেপ নেই। আমরা তো জেনেই গেছি, এ দেশে গরিবের রক্তের চেয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশনের মূল্য অনেক বেশি।
বিনীত
জীবন নিয়ে আশাহীন এক জীবন্ত লাশ




