আগামীর চোখ
বাতাসের ঘ্রাণেই সতর্কবার্তা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মহাপরিচালক
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা
মহোদয়, সালাম ও নদীর পলিমাটির সুবাস জানবেন। পত্রিকায় প্রকাশ, আপনাদের ১ হাজার ৩৩৮টি পদের বিপরীতে লোকবল আছেন মাত্র ৫৮০ জন! কোটি টাকার আধুনিক রাডার, স্যাটেলাইট আর নিউমেরিক্যাল মডেল ডুকরে কাঁদছে, কিন্তু বোতাম টিপে ‘ঘূর্ণিঝড় আসছে’ ঘোষণা দেওয়ার লোক নাকি নেই। এ সংবাদে আমরা নদীমাতৃক দেশের মাঝি আর মাঠের কৃষকরা বেজায় দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
ইতিহাস সাক্ষী, আমাদের পূর্বপুরুষরা কোনো স্যাটেলাইট না দেখেই নদীর জলের গন্ধ, পুবালি বাতাসের শিরশিরানি আর পিপীলিকার ডিম মুখে নিয়ে ছোটাছুটি দেখে বলে দিতেন কখন কালবৈশাখী নামবে। কৃষক বুঝত কোন মেঘে জল আছে আর কোন মেঘ শুধু ফাঁকা গর্জন। কিন্তু হায়! আপনাদের টিভি আর রেডিওর ‘১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত’-এর ওপর ইমান এনে আমরা সেই ধ্রুপদি জ্ঞান ভুলতে বসেছি। এখন আমরাও পকেটের যন্ত্র খুঁজি, অথচ আপনাদের অফিসে লোকবলের অভাবে যন্ত্রগুলো নাকি নিঃসঙ্গ অলসতায় জং ধরছে!
স্রেফ দিগন্তের মেঘের রঙ গাংচিলের ওড়াউড়ি আর বাতাসের আর্দ্রতা শুঁকেই আমরা প্রতিদিনের বুলেটিন তৈরি করে দেব
জানতে পেলাম যে প্রায় ১০ বছর ধরে আপনাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ। অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলেও নিয়োগ বিধি বা সার্ভিস রুল (এসআরও) এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে নতুন নিয়োগে যাওয়া যাচ্ছে না। আগের নিয়োগ বিধি বাতিল হওয়ায় সেটিও বর্তমানে কার্যকর নেই।
আপনাদের এই ‘প্রযুক্তি আছে, কিন্তু লোক নেই’ মার্কা সংকট কাটাতে আমাদের একটি নিরীহ প্রস্তাব আছে। সার্ভিস রুল বা রিট মামলার জট ছোটাতে তো আপনাদের ২০২৬ সাল পার হয়ে যাবে। ততদিন কোটি কোটি টাকার বিদেশি যন্ত্রপাতি কিনে বাজেট সাবাড় করার কী দরকার? তার চেয়ে বরং আমাদের মতো কয়েকজন অভিজ্ঞ মাঝি ও প্রবীণ কৃষককে প্রেষণে আবহাওয়া অধিদপ্তরে নিয়োগ দিন। আমরা কোনো এয়ারকন্ডিশন ঘর কিংবা স্যাটেলাইট ডেটা চাইব না। ভবনের ছাদে বসে স্রেফ দিগন্তের মেঘের রঙ, গাংচিলের ওড়াউড়ি আর বাতাসের আর্দ্রতা শুঁকেই আমরা প্রতিদিনের বুলেটিন তৈরি করে দেব। এতে কোটি টাকার রাডার কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝক্কি থেকে রাষ্ট্র বাঁচবে আর চাকরির অভাবে আপনাদের যে ‘অবসন্নতা’ তৈরি হয়েছে, তাও দূর হবে।
মহোদয়, প্রযুক্তি যখন বোবা এবং প্রশাসনিক ফাইলে যখন লাল ফিতার গিঁট, তখন আবার প্রকৃতির নিজস্ব পাঠশালায় ফিরে আসাই কি শ্রেয় নয়? আশা করি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভুলে আমাদের এই দেহাতি বিদ্যাকে মূল্যায়নের বিবেচনায় নেবেন।
ইতি
নদীর বুক থেকে—
রহমত সারেং



