শিক্ষার্থীকে হতে হবে বিনয়ী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতেই আমাদের চেতনায় ভেসে ওঠে স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা। শৈশবে শিক্ষকের স্নেহ ও শাসনের মধ্য দিয়ে যে সুদৃঢ় নিয়মানুবর্তিতা আমরা লাভ করেছি, তা-ই আমাদের জীবন গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। অথচ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চিন্তাভাবনাহীন সিলেবাস চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী— উভয়ের জন্যই এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বিশ্ব প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা যেন ক্রমে পিছিয়ে পড়ছি।
অতীতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে পরম শ্রদ্ধার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। শিক্ষকমণ্ডলী ছিলেন শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক ও নিবেদিতপ্রাণ। কিন্তু বর্তমানে সে সুসম্পর্ক যেন মরীচিকায় পরিণত হয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষকের লাঞ্ছিত হওয়া, অন্যদিকে শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীর অনিরাপত্তা ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার খবর আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর নেতিবাচক ঘটনা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আগে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের অফুরন্ত সুযোগ ছিল। ফলে পড়া না পারলে শাস্তির ভয় থাকা সত্ত্বেও স্কুল কখনো আতঙ্কের কারণ ছিল না। কিন্তু এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভারী বইয়ের বোঝা ও পড়াশোনার তীব্র চাপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আনন্দহীন করে তুলছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী— এই তিনের পারস্পরিক মেলবন্ধনেই শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষককে হতে হবে আন্তরিক অভিভাবক ও সঠিক পরিচর্যাকারী আর শিক্ষার্থীকেও হতে হবে বিনয়ী ও শ্রদ্ধাভাজন। প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর মানসিক দূরত্ব দূর করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য পুনর্দখল করাই এখন সময়ের দাবি।
লেখক: সহকারী কাস্টোডিয়ান, রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর, খুলনা



