চিঠি পাঠাবেন? দ্বিগুণ হচ্ছে খরচ

প্রতীকী ছবি
চিঠি লিখে হলুদ খামে ভরে প্রিয়জনকে আবেগ-অনুভূতি জানানোর দিন ফুরিয়েছে অনেক আগেই। ডিজিটাল যুগে চিঠির স্থান দখল করেছে মেসেজ, ই-মেইল। তবে সরকারি নথি, বাণিজ্যিক পার্সেল আর ই-কমার্স পণ্যের জন্য ডাকঘর এখনো বড় ভরসার নাম। এবার সেই ডাক সেবার মাশুল এক লাফে দ্বিগুণ করল সরকার।
সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে অনলাইন ব্যবসায়ীদের কেনাকাটা ও চিঠিপত্র পাঠানোর খরচ বাড়ছে আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে। লোকসান কমাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানালেন ডাক বিভাগের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। তিনি বলছিলেন, ‘আয় বাড়বে, এটা ঠিক। লোকসান কমিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
সর্বশেষ ২০২২ সালে ডাক মাশুল বাড়ানো হয়েছিল। চার বছর পর ২০২৬ সালের অক্টোবরে সব ধরনের সেবায় আবার মাশুল বাড়তে যাচ্ছে।
এবার সবচেয়ে বেশি মাশুল বেড়েছে আন্তর্জাতিক পার্সেল ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস বা ইএমএসে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সাধারণ চিঠিপত্র, বুকপোস্ট এবং প্রদেয় বার্তা বা এডি গ্রাহক সেবাতেও মাশুল বেড়েছে।
আগের মাশুলের সঙ্গে বর্তমান মাশুলের ব্যবধান বেশ বড়। আগে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সাধারণ চিঠির জন্য ন্যূনতম ডাকমাশুল ছিল ৫ টাকা, এখন তা হয়েছে ১০ টাকা।
একইভাবে প্রদেয় বার্তা বা এডি ফি ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফি ৩ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা। ই-কমার্স পার্সেলের ক্ষেত্রে আগে যেখানে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা লাগত, এখন প্রথম কেজির জন্য দিতে হবে ২০ টাকা।
তবে সেবার তুলনায় মাশুল এখনো কম, এমন যুক্তি দিচ্ছেন ডাক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পোস্ট-মাস্টার জেনারেল শেখ সাইফুল আলম।
তিনি বললেন, ‘ডাক বিভাগের সার্ভিসের তুলনায় মাশুল বাড়ানো হয়েছে ন্যূনতম। সব খাতে একইহারে মাশুল বাড়াইনি। এখনো বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়েও আমাদের খরচ অনেক কম।’
বেসরকারি পার্সেল ও দেশি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সঙ্গে মাশুলের তুলনা করলে অবশ্য তার কথায় সত্যতা পাওয়া যায়।
বেসরকারি কুরিয়ারে সাধারণ ডকুমেন্ট পাঠাতে শহরের ভেতরে ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং শহরের বাইরে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হয়। সে তুলনায় ডাক বিভাগের নতুন মাশুলও চিঠিতে ২৩ টাকা বা সাধারণ পার্সেলে ৫০ টাকা।
তবে এর একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরলেন ই-কমার্স উদ্যোক্তা মিশকাতুল আজম। তিনি বললেন, ‘শহর জুড়ে দ্রুত প্যাকেজ পণ্য পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ারকে বেছে নেওয়া হয়। আর কম খরচে পণ্য পাঠাতে ডাক বিভাগের বিকল্প ছিল না। এখন ধীরে ধীরে সেই মাশুলও বাড়ছে।’
আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বেসরকারি বা বিদেশি ডাক সার্ভিস বেশ ব্যয়বহুল। এর মধ্যে ডাক বিভাগেরও আন্তর্জাতিক চিঠিপত্র ও নথি পাঠানোর সর্বনিম্ন ফি আগের চেয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ছোট বুকপোস্ট ও ছোট পার্সেলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চল বা জোনভেদে খরচ বাড়ছে।
বিমান ডাক ও সাধারণ ডাকের মাশুলে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ফুয়েল ও হ্যান্ডলিং চার্জ। আগে যেখানে এশিয়া বা ইউরোপের দেশে সর্বনিম্ন ওজনের পার্সেল পাঠাতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা লাগত, নতুন হারে তা বেড়ে ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
লোকসান ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা ডাক অধিদপ্তরের আয় মাশুলের নতুন হারের মাধ্যমে বছরে কয়েকগুণ বাড়বে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন। বিশেষ করে ই-কমার্স পার্সেল, মানি অর্ডার কমিশন ও রেজিস্ট্রেশন ফি থেকে বড় অঙ্কের বাড়তি আয়ের লক্ষ নির্ধারণ করেছে বিভাগটি।



