সাত কার্গোতে ডিসেম্বরের মধ্যে আসবে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) সরবরাহ প্রক্রিয়া আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সাতটি পৃথক কার্গোর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম)।
আকাশসীমার অনুমোদন নিয়ে জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে এই জ্বালানি রাশিয়া থেকে দেশে এসে না পৌঁছানোয় গত কয়েক দিন ধরে বিষয়টি বেশ আলোচিত। এমন পরিস্থিতিতে আজ রাতে এক বিবৃতিতে ওই তথ্য জানায় রসাটম।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রসাটম ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশের প্রথম পারমাণবিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ করছে।
দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও নানা জটিলতায় উৎপাদনে যাওয়ার সময় পিছিয়েছে। চলতি মাসে এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ত্রুটি মেরামতে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসেছে। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশও আনা হয়েছে। এটি মেরামত শেষে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। মূলত এখন আসবে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি।
রাশিয়া থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি গত বৃহস্পতিবার আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় তা বাংলাদেশে আসতে পারেনি। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১ অক্টোবর জ্বালানি দেশে আসতে পারে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময় পরিবর্তন হতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হয়। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে, সেসব দেশের অনুমতিও নিতে হয়। বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও বাংলাদেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।
সূত্রের তথ্য বলছে, কার্গো বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ঠিক কী কারণে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এখন চীন, মিয়ানমার হয়ে কিংবা বিকল্প কোনো রুটে জ্বালানি আনার চেষ্টা করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাতটি ফ্লাইটে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দুই ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্যও কিছু জ্বালানি আসবে।
প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। সে কারণেই প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর দুই বছর পরপর নির্দিষ্ট হারে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে এবং তখন বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।
নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বিশেষ উড়োজাহাজে করে জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।





