সাক্ষাৎকারে রুনা খান
কিছুই হবে না যদি আপনি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে কাজ না করতে পারেন

ছবি: রুনা খানের সৌজন্যে
রুনা খান বেসরকারি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই সংস্থার মাধ্যমে তিনি পৌঁছে গেছেন দেশের সবচেয়ে দুর্গম, উপেক্ষিত আর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে। ফ্রেন্ডশিপের লক্ষ্য—এমন একটি বিশ্ব গড়া, যেখানে সবাই, বিশেষত যাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন, তারা মর্যাদা ও আশা নিয়ে বাঁচার সমান সুযোগ পাবে। সামাজিক সমস্যা, পরিবেশগত সংকট, চরম দারিদ্র্য, বৈষম্য আর অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংস্থাটি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে সমন্বিত, সামগ্রিক ও স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক উন্নয়ন সমাধান নিয়ে কাজ করছে। নিরলস এই ধারাবাহিক কাজের স্বীকৃতি মিলল এবার। রুনা খান পেয়েছেন র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার।
পুরস্কার ঘোষণার পর রুনা খান বলেছেন, তিনি গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে এই সম্মাননা গ্রহণ করছেন এবং এটি তাঁর কাছে একই সঙ্গে বড় দায়িত্বও। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারে তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে সম্মানিত হয়েছেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, আইনজীবী, অধ্যাপক ও লেখক টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক রাজনৈতিক বন্দী বো চি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রুনা খান এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন—২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর বাংলাদেশ সফরের সময় তুরাগ নদে নৌকায় তার সঙ্গে সময় কাটানো এবং সহযাত্রী হিসেবে আলোচিত হওয়া এর একটি উদাহরণ।
১৯৫৭ সালে ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের স্মরণে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি ১৯৫৮ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। ৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে প্রতিবছর ম্যানিলা থেকে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এবার ৬৮তম উৎসবের সমাপনী পর্বে আগামী ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। র্যামন ম্যাগসাইসাই ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের বেছে নেওয়া হয়েছে এমন কাজের জন্য, যা অন্যের সেবা, সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করার মতো চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।
রুনা খানের এই অর্জন শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি বাংলাদেশের তৃণমূল উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং মানবিক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো পৌঁছায় না, সেখানে ফ্রেন্ডশিপের মাধ্যমে রুনা খান পৌঁছে দিয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু অভিযোজন আর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নানা উদ্যোগ। বিশেষত চর, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনবাস্তবতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই গড়ে তুলেছেন টেকসই মডেল। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে, সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ালে বদলে যাওয়ার গল্প লেখা সম্ভব। এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল ভিডিও মাধ্যমে ২০১৮ সালে। এখানে রুনা খান তাঁর ব্যক্তিজীবন, কাজ, প্রতিষ্ঠানের যাত্রা ও লক্ষ্য, ফ্রেন্ডশিপের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা ব্যক্তিগত ব্যাপারে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি ধারণ করেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র ভিডিওগ্রাফার সৈয়দ রেজওয়ানুল হাসান। সাক্ষাৎকারটি শ্রুতিলিখন করেছেন কথাসাহিত্যিক সাব্বির জাদিদ। পুরো আলাপটি রইল আগামীর সময়ের পাঠকদের জন্য।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা, অনেক দিন পর দেখা। আমাদেরকে আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। আজকে যে আয়োজনটা এখানে হচ্ছে, চরের শাড়ি, এই আয়োজনটা নিয়ে যদি আমাদেরকে কিছু বলেন।
রুনা খান: আমার মনে আছে, অনেক আগে, বোধহয় ২০০৩ অথবা ২০০৪ সালে, একবার আমি চরে হাঁটছি, একজন মহিলা, সে আমাদের হাসপাতালে কাজ করত, জাস্ট ক্লিনিকের কাজ। সে চরে মাটির কাজ করছে। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, কাজ করছ, টাকা ঠিকঠাক পাচ্ছ? ওরা ছিল ২০/২৫ জন মহিলা। তো বলে, হ্যাঁ আপা, পাই তো, কিন্তু আমাদের মনে হয় ওরা আমাদের কম দেয়। বললাম, কেন কম দেয়? বলে, আমরা তো দিনের টাকা দিনে নিই না। সাত দিন আট দিন পরে নিই, তো হিসাব রাখতে পারি না। বললাম, তাহলে একজনকে দিয়ে লিখিয়ে নাও। সেই ২০/২৫ জন মহিলার মধ্যে একটা মহিলাও লিখতে পড়তে পারে না। আনবিলিভেবল। আমরা কী ডেভেলপমেন্ট করাব বলেন! তখন আমরা শুরু করলাম অ্যাডাল্ট এডুকেশন। রিডিং, রাইটিং, ম্যাথমেটিক্স স্কিল যেন এই মহিলারা পায়। স্কিলসটা ডেভেলপ করার পরে ন্যাচারালি ওরা ইনকাম চাচ্ছে বেশি। তো চরের মধ্যে ওই লিমিটেড স্কোপে ওরা কী ইনকাম করতে পারবে! গরু-ছাগল পালতে পারে। কিন্তু আজকে ঝড় এল, মরে গেল। কালকে বন্যা এল, ডুবে গেল। তো কী করা যায় ভাবলাম। সেলাই মেশিন আনা নেওয়া সো এক্সপেনসিভ। তখন ভাবলাম, তাঁতটা আমরা করতে পারি কি না। আমার কাছে কিছু লোক ছিল যারা তাঁত শেখাতে পারত। জব্বার, আমাদের সাথে অনেক দিন ধরে কাজ করছে। আমার অন্যান্য প্রজেক্টে ছিল। ওকে এটা বললাম। ও বলল, আপা আপনি এটা নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। ইউ উইল স্টার্ট দিস। তো প্রথমে আমরা টাকা দিয়ে কিছু করতে পারব বা একটা বিজনেস...এটা মাথায়ই আসে নাই। কোনো রকম একটা কাজ করে যেন দুটো ভাত খেতে পারে। এমন এমন কেসেস, ইউ নো, এক হাসবেন্ড হ্যাজ লেফট দুটো বাচ্চা, সেই দুটো বাচ্চা নিয়ে বাপের বাড়ি এসেছে। বাপের আবার বাড়ি বলতে একটা কুঁড়েঘর। পানি পড়ে। কোনো রকম খেড়-টেড় দিয়ে বানিয়েছে। সেখানে দুটো বাচ্চা নিয়ে উঠেছে। বাপ নিজেই খেতে পারে না। ওকে আর কী খাওয়াবে। তো তখন আমরা ওদেরকে এডুকেশন দিতাম আর একটুখানি প্রোডাকশন হলে ওদেরকে টাকা-পয়সা দিতাম। সেটা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করল। আরো অনেক লোক আসতে চাচ্ছে। এই মহিলাগুলো বাচ্চাদেরকে খাবার দিতে পারে। বাসা বানাতে পারে। এমন একটা ডিমান্ড ক্রিয়েট হলো, সেটা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি নাই। তখন উই হ্যাভ টু আর্ন মানি। কারণ, তখন আমাদের তো এত টাকা ছিল না, যা আমরা ইনভেস্ট করতে পারি। তখন আমরা বিভিন্ন অর্গানাইজেশনে বিক্রি করতে শুরু করলাম। কিন্তু ডিমান্ডটা এমন হয়ে যাচ্ছে, ইমপ্যাক্টটা এমন হচ্ছে, আমরা যদি একটু বাড়াতে পারি, প্রত্যেকটা সেন্টার, যেখান থেকে শাড়িগুলো আসে, ইচ পারসন, ওদের জীবন পরিবর্তন করে দিচ্ছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: মানুষকে ভালোবেসে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আপনাকে অভিনন্দন। আপা, আমি জানতে চাই যে, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-স্থাপত্যকলা--এর অনেকগুলো জায়গায় আপনার যাতায়াত আছে। আপনি এই জার্নিটা শুরু করেছিলেন কীভাবে? আমরা যদি শুরুর দিকে তাকাই...?
রুনা খান: আমার জীবনে অনেক এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড আই হ্যাভ গন থ্রু সো মেনি পিরিয়ডস অব মাই লাইফ। অনেকের হয়ত এত এক্সপেরিয়েন্স নেই। তো প্রত্যেকটা এক্সপেরিয়েন্স থেকে ওয়ান থিংক আমি করেছি, যতখানি পেরেছি আমি শিখেছি। আর আমার নিজের যে চরিত্র বা ক্যারেক্টার, আই ডিড নট লেট ব্যাড এক্সপেরিয়েন্স চেঞ্জ মাই ক্যারেক্টার ইউ নো। অ্যান্ড আই থিংক দিস অলসো হেল্প মি ইন দ্য ওয়ার্ক, বিকজ আমি অনেক কষ্টও করেছি আবার জীবন থেকে অনেক কিছু পেয়েছিও। বাট আই কেপ্ট মাইসেলফ আনটাচড। আই থিংক তার জন্য আই ক্যান স্টিল ফিল, একটা মানুষের পেইন, এম্প্যাথি, কম্প্যাশন--এটা কিন্তু আমার হার্টকে আই অলওয়েজ কেপ্ট ইট ওপেন। আমি একটা পুরানো ফ্যামিলি থেকে আসি। বাপের তরফ মায়ের তরফ--আপনারা হয়ত সবাই জানেন। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় ঢাকায় তখন দুটো তিনটা গাড়ি। আমাদেরও গাড়ি আছে। গাড়ি করে আমরা করোটিয়ায় যেতাম। চারদিকে দেখতাম। সবই আমাদের ফ্যামিলি প্রপার্টিজ ছিল। সো আমাদের মাইন্ডসেট ওই রকম গ্রো করেছে, যে আমরা লিভ উইথ পিপল ইন দিস কান্ট্রি। তো গ্রামের বাসায় যখন যেতাম, করোটিয়ায় যখন যেতাম, বুঝতেই পারছেন, রাজবাড়ি একটা। সেই এনভায়রনমেন্টে বড় হওয়া। যেদিকে তাকাই সবই আমাদের। সবকিছু নিজেদের।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটার একটা বড় সুবিধা হলো, জনগণের জন্য ভাবা, মানুষের জন্য ভাবা--সেই প্র্যাকটিসগুলো পরিবার থেকেই আসলে হয়ে উঠেছে।
রুনা খান: একদমই। শুধু একটা জেনারেশন না। আমি বলব, টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ফাইভ জেনারেশন থেকে আমাদের এই অবস্থা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা আমরা জানি। কিন্তু এই ইন্টারভিউ যারা পড়বে, তাদের জন্য যদি পারিবারিক ঐতিহ্য মনে করান...আপনার জন্ম বোধহয়...
রুনা খান: নাইনটিন ফিফটি এইট, নভেম্বর। তখন দুনিয়াটা কিন্তু অন্য রকম ছিল।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: পাকিস্তান আমল।
রুনা খান: হ্যাঁ পাকিস্তান আমল। এবং আমাদের ফ্যামিলির যে স্ট্রেংথ তখন ছিল, সেটা কিন্তু কোনো বিজনেস বা চাকরি থেকে না। এটা ওয়াজ, ইট হ্যাজ বিন দেয়ার ইন দ্য ফ্যামিলি ফর দ্য লাস্ট টোয়েন্টি ফাইভ জেনারেশনস। আমাদেরকে শিখতে হয় নাই মানুষদের সাথে কেমন করে ব্যবহার করতে হয়। আমরা কিন্তু জেনারেশন ধরেই করে আসছি। মানুষের জন্য সব করতে হবে--এটা যে নতুন করে শিখতে হয়েছে তা কিন্তু না। বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ আমরা দেখে আসছি দে আর গিভিং। এটা কিন্তু হ্যাজ বিন এ বিগ স্ট্রেংথ ফর মি। বিকজ ইট হ্যাজ বিন আমরা যখন কোনো মানুষকে দিই, তখন কিন্তু তার থেকে চাওয়ার কিছু থাকে না। আপনি জানেন যে, পসিবলি আমি বাংলাদেশের সব থেকে পুরানো ফ্যামিলি থেকে আসছি। আমরা আম্মার ফ্যামিলি, আমার আব্বার ফ্যামিলি ইজ দ্য সেম। আমার দাদার ফ্যামিলিও সেম। আমরা কিন্তু ব্রটআপ হয়েছি উইথ ইন এ ভেরি ভেরি ক্লোজ একটা গ্লাস বাবল একটা অ্যারিস্টোক্রেটিক একটা এনভায়রনমেন্টে। আমরা কিন্তু শুধু দিয়ে আসছি। নেওয়াটা কিন্তু জানি না। আর দিয়ে কিছু নিতে হবে এটা কিন্তু আমি শিখিনি। দেওয়াটা হ্যাজ বিকাম এ ভেরি ইট ওয়াজ উই শুড ডু, অ্যাজ এ হিউম্যান বিয়িং, অ্যাজ দ্য পারসন দ্যাট উই আর, আমাদের করণীয় হলো দ্যাট উই শুড গিভ। দ্যাট ইজ আওয়ার পারপাস। অ্যান্ড আই থিংক, আমার মনে আছে ছোটকালে আমি যখন ঢাকা থেকে করোটিয়ায় যেতাম, ফর এক্সাম্পল, ঢাকাতে তখন দু-তিনটা গাড়ি; আমাদেরও একটা গাড়ি তখন ছিল। ওই গাড়ি করে যেতাম, বাবা চালাত। আর চন্দ্রা-টন্দ্রা পাস করার পর যেদিকে তাকাতাম সবই কিন্তু আমাদের ফ্যামিলি প্রপার্টিজ। করোটিয়াতে আমি নিজে দেখেছি, আমরা তাকে ফুপু বলে ডাকতাম, রান্নাটান্না করতেন, খানাটানা দিতেন। একশো ওনলি ফিমেল সার্ভেন্টস..
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তাহলে তো বিগ ফ্যামিলি।
রুনা খান: ইট ওয়াজ এ বিগ এনভায়রনমেন্ট। ইট ওয়াজ এ গ্র্যান্ড এনভায়রনমেন্ট। কত কত লোক নানার কাছে কত রকম বিচার নিয়ে আসত, তাও দেখতাম বসে বসে, ফুঁকি পেড়ে পেড়ে। এরপরে ঢাকা থেকে লোক আসত আমাদের বাসা দেখার জন্য, করোটিয়া দেখার জন্য। তখন আমাদেরকে মেয়েদেরকে ভেতরে চলে যেতে হতো। পর্দা করতে হতো। আমার মনে আছে, আমার সাঁতার কাটার খুব শখ ছিল। তো সাঁতার কাটব ঠিক আছে, একটা গ্র্যান্ড এপিসোড, লোকজন নৌকা নিয়ে পুকুরটার অর্ধেক কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল পর্দা করার জন্য যে আমরা আসব, সাঁতার কাটব। আমার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড এমন ছিল, ইরান থেকে একজন এসে আমাদের বাসায় থাকতেন শুধু আতর বানাতে। আমরা তাকে আতরশাহ বলতাম। আরেকজনকে শালকোট দাদা বলতাম আমরা। শালকোট দাদা আসতেন আমাদের ফ্যামিলির শাল রিপেয়ার করার জন্য। সো ইট ওয়াজ এ টোটাল ডিফরেন্ট এনভায়রনমেন্ট দ্যাট উই গ্রু আপ। অ্যান্ড সেখান থেকে ইউ নো আস্তে আস্তে করে প্রপার্টি চলে গেল। অফকোর্স আমাদের ওখানে এডুকেশন ওয়াজ ইম্পর্টেন্ট... যেমন সাদাত কলেজ করা হয়েছে, বগুড়ার কলেজ-টলেজ, হাসপাতাল, ইউনিভার্সিটি সবই আমাদের ফ্যামিলির করা। কিন্তু আমাদের মধ্যে অন এ ফার্স্ট নট লাইক পুট ইনটু ইউনিভার্সিটিস অ্যাব্রোড অ্যান্ড অল দ্যাট। বিজনেস টিজনেস করা ওয়াজ নট সো মাচ ইন দ্য ফ্যামিলি। চাকরি বাকরি করা ওয়াজ নট সো মাচ ইন দ্য ফ্যামিলি। তো আস্তে আস্তে করে ইউ নো ওয়েলথ চলে গেল।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তাহলে আপনার শৈশব স্মৃতি খুবই ইন্টারেস্টিং হওয়ার কথা। এই যে গোসল করতে গিয়ে কাপড় দিয়ে পুকুর ঘেরাও করা...
রুনা খান: প্রায় বিশজন লোক সেটা ধরে রয়েছে। পাংখা করত। বড় বড় পাংখা। নানা বসতেন আমরা বসতাম। পাখাওয়ালা আলাদা ছিল, যারা খালি পাখা করত। নানা হুক্কা খেতেন সিলভার সিলভার হুক্কাতে। আমাদের এক রিলেটিভ নওয়াব আলী চৌধুরী সাহেব, উনাদের বাসায় বড় বড় বার্ডস থাকত, মোটা মোটা সিলভার চেইনস দিয়ে জাস্ট পায়ে বাঁধা থাকত। এসবও কিন্তু আমরা দেখেছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: রাজকীয় ব্যাপার। আপা, আপনি প্রথম স্কুলে গেলেন কোথায়?
রুনা খান: তখন ইস্ট পাকিস্তান ছিল। সো আই ওয়াজ ইন মিসেস কভেন্ট্রি স্কুল। মিসেস কভেন্ট্রি ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। তখন বাংলাদেশে একটাই ব্রিটিশ স্কুল ছিল। ইংলিশ স্কুল।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা কোথায় ছিল?
রুনা খান: ইট ওয়াজ ইন তেজগাঁও। সেখানে আদমজীর ছেলেরা ছিল। সব আমাদের বন্ধুবান্ধব। ইস্পাহানিরা ছিল। হানিফরা..আর যারা এক্সপ্যাটস ছিল, ওরাও সব ছিল। আমরা কয়েকজন বাঙালি ছিলাম।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বিকজ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল।
রুনা খান: ইট ওয়াজ দ্য ওনলি ব্রিটিশ মিডিয়াম স্কুল ইন বাংলাদেশ অ্যাট দ্যাট টাইম। সো ওই স্কুলে পড়াশোনা করেছি। তারপর যুদ্ধের সময় চলে গেলাম পাকিস্তানে। কারণ, তখন তো আমরা জানি না কী হবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: করাচিতে গেলেন?
রুনা খান: না, মারিতে। ওখানে খুব ভালো বোর্ডিং স্কুল ছিল। মারি বোর্ডিং স্কুলে ছিলাম। তারপরে ইট ওয়াজ ইন্টারেস্টিং, কারণ পাকিস্তান থেকে আমাদের পালিয়ে আসতে হয়েছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কত সালে?
রুনা খান: এটা সেভেন্টি টু অথবা থ্রিতে। তখন রিপ্যাট্রিয়েশন হচ্ছিল না। ওই সময় আমরা টুক এ রুট প্যারালাল টু দ্য খাইবার পাস। আমি আর আমার আব্বা, ট্রাকে করে পেশোয়ারের ওইদিক থেকে গেলাম। তিন-চারদিন উই হ্যাড টু ওয়াক ন্যারো একটা পাথ, নিয়ার দ্য খাইবার পাস। যেখান দিয়ে খালি খচ্চর যায়। ওরে ঠান্ডা, বাপরে বাপ। মনে আছে, রাতে বসে আছি একটা ক্যারাভান সরাইয়ে। আর ক্যারাভান সরাইয়ের মাঝখানে আগুন, আর পাঠান লোকজন সব চারদিকে। ওরা আফিম খায়, মনে আছে, ওরা আফিম খেয়ে খেয়ে থুতু ফেলত কিন্তু গায়ে লাগত না। ফুটফুট করে কেমন করে যেন ফেলত। এরপর একদিন মনে আছে, রিমেম্বার গোয়িং, তখন আমাদেরকে তাড়াতাড়ি উই হ্যাড টু গো অ্যান্ড হাইড ইন দ্য রকস, বিকজ দ্য আর্মি ওয়াজ শুটিং। সো উই হ্যাড বুলেটস ফ্লাইং অল ওভার আস ইউ নো। তখন আমি রিয়েলি ইয়ং, বাট এক্সাইটিং। বাট এক্সট্রিমলি খুব ভয়...। একদিন রাতে ওরা আমাদেরকে খচ্চরের উপর বসাল। আমরা সবাই ক্লান্ত। আমরা যাচ্ছি। হঠাৎ আকাশে বিজলি চমকানো শুরু হলো। আর আমি নিচে দেখলাম। পাকিস্তানের পাহাড় তো হাজার হাজার ফিট উঁচু। ২ হাজার, ৩ হাজার, ৪ হাজার ফিট ড্রপ। তো নিচে দেখি একদম শিওর ড্রপ। সেই অবস্থায় রাতে খচ্চরের উপর হেঁটে যাওয়া, ইউ নো। আর আমাকে সবাই ডাকত শের কা বাচ্চা। কারণ, আমি বলে খুব সাহসী ছিলাম। মানে ডরাতাম না। বাবাকে বলত তোমার বাচ্চা তো শের কা বাচ্চা। আই থিংক আই হ্যাড এ লট অব স্ট্রেনথ। আই ওয়াজ এ ভেরি জেন্টল পারসন, বাট আই হ্যাড এ লট অব স্ট্রেনথ। যেটা মনে হয় ওরা দেখেছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: দ্য শুদ্ধ ওয়ার্ড ইজ হ্যাড অর হ্যাভ।
রুনা খান: হাহাহা। তখনকার কথা বর্ণনা করছি দেখে হ্যাড বললাম। কিন্তু আমার মনে হয় স্ট্রেনথ না থাকলে পরে আমি যা করেছি, সেটা করা সম্ভব ছিল না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বাংলাদেশে আপনি ফিরলেন বাহাত্তরের দিকে।
রুনা খান: সেভেন্টি ফোর।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তখন আপনার দুটো স্কুলে পড়া হয়ে গেছে। আপনার বয়স তখন প্রায় বিশ। তখন আপনি ঢাকাকে কেমন আবিষ্কার করলেন?
রুনা খান: আমি যখন ফিরে আসলাম তখন আমার বয়স পনেরোর মতো। সরি, তেরো চৌদ্দ। তখন কিন্তু আবার সব বাংলা মিডিয়াম হয়ে গিয়েছিল। আমার এই একটা উইকনেস, আমি তখন টেনে পড়ি, কিন্তু ভর্তি হয়ে আমি কিচ্ছু পারি না। আমি কখনো বাংলা মিডিয়ামে পড়ি নাই। এত কষ্ট হচ্ছিল। শেষের বেঞ্চে বসে বসে আমি কাঁদতাম। কারণ, কিচ্ছু বুঝতাম না। তখন আমার দাদি আমাকে কলকাতা নিয়ে গেল। কলকাতা লেডি ব্রাবোর্ন কলেজে ওখানে শেষ করে তারপরে আবার বাংলাদেশে ফিরলাম। আরো এক বছর ছিল, কিছু করার নাই, তখন আবার ইডেনে ঢুকলাম। ওখান থেকেও পাস করে বের হলাম। এম এ তে আর ভর্তি হইনি। কারণ, অলরেডি আমার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছিল আমার কাজিনের সাথে। আপনি বুঝতেই পারছেন, আমাদের মেইনলি ফ্যামিলি টু ফ্যামিলি বিয়ে হয়। সো আমার কাজিনের সাথে আমার বিয়ে হলো। আমার দুটো বাচ্চা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কাজিনকে আগে থেকেই চিনতেন?
রুনা খান: অফকোর্স।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: প্রেম করেছেন?
রুনা খান: প্রেম করার সাহস ছিল না। হাহাহা। আমি বোধহয় উনাকে একলা তিনবার দেখেছিলাম। আমার থেকে বয়সে অনেক বড়। আমাদের ফ্যামিলিতে অনেক প্যাঁচ। ও আমার আব্বারও কাজিন হয় আবার আমারও কাজিন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বড় একান্নবর্তী ফ্যামিলিতে যা হয় আরকি।
রুনা খান: বিয়ে করার পরে আমি চিটাগং চলে গেলাম। আমার দুটো বাচ্চা হলো। দুই ছেলে। কিন্তু একটু ডিফিকাল্ট ছিল। ও খুব ভালো ছিল। ভেরি নাইস। হয়ত আমারই ইয়ে ছিল, মাই প্যাশন ফর লাইফ, দ্যাট আই নিডেড টু ডু সামথিং। কারণ, আপনি বুঝতে পারছেন, একটা কনজারভেটিভ ফ্যামিলি থেকে এসে.. .. আমরা কী করতাম? গলফ খেলতাম, পার্টিতে যেতাম। ইউ নো দ্য হোল চেঞ্জ। আমার শাশুড়ি খুব ভালো মাহজং খেলতেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হোয়াট ইজ দ্য মাহজং?
রুনা খান: মাহজং ইজ চাইনিজ গেম। খুব ভালো খেলতেন। উনি আবার খুব ভালো লিখতেন। অ্যান্ড শি অলসো ঢাকাতে কিন্তু লেডিস ক্লাব-ট্লাব উনিই করেছেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: উনার নাম কী?
রুনা খান: সেলিনা দোজা। আমার বড় খালাও হন উনি। ভেরি অ্যাকমপ্লিশড লেডি। কিন্তু এনভায়রনমেন্টটা.. যেখানে আমি বড় হয়েছি, পার্টিস, পিপল। বাট দ্যাট ওয়াজ নট হোয়াট আই ওয়ান্টেড ফ্রম লাইফ। লাইফ টু মি ওয়াজ হোয়ার ইউ ক্যান গিভ ইউ নো। আই কুড নট ডু দ্য থিংস, আই রিয়েলি ওয়ান্ট টু ডু। টু বি এবল টু শেয়ার উইথ পিপল। এই যে বাংলাদেশে এত লোক, আমি জন্মাব, বাঁচব আর মরব। আমি কী করলাম? ইউ নো, আমার শান্তি ছিল না। বিকজ আই নিডেড টু ডু..
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা তো পারিবারিকভাবেই আপনি পেয়েছেন।
রুনা খান: এক্সাক্টলি। আই টুক ফর গ্রান্টেড, আমি তো করবই। আমি যদি না করি, তাহলে কে করবে? দিস ইজ মাই রেসপনসিবিলিটি। এই রকম করেই ইউ নো ইট ওয়াজ এ বিগ ডিফিকাল্ট, আই থিংক উইথ মাই হাজবেন্ড অলসো। দে ওয়ার ভেরি নাইস পিপল। সো আমি আমার আব্বার সাথে থাকতাম। আমার বাচ্চাগুলো আমার সাথে থাকত।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: সেপারেশনে গেলেন কত সালে?
রুনা খান: নাইনটি ওয়ানের দিকে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তখন বাচ্চারা বড় হয়ে গেছে?
রুনা খান: একটা ছয় একটা বারো। সো আমি তখন আমার আব্বার ওখানে চলে আসলাম। এসে আমি কাজ করতে শুরু করলাম। আমি জানি, এই কারেজগুলো হয়ত একটা মিডলক্লাস ফ্যামিলির হবে না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কিন্তু যেই সময় আপনি শিক্ষিত হয়েছেন, মানে উচ্চ শিক্ষিত হয়েছেন, সেই সময় বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার হার কিন্তু তিন থেকে পাঁচ শতাংশ। ফলে আপনার কারেজ থাকাটা খুব স্বাভাবিক।
রুনা খান: আমার কিন্তু অনেক ভয়ও লাগত। মানুষকে এটা বললে তারা বিশ্বাস করবে না। আমার কিন্তু অনেক ভয় লাগত। কারণ, এত সোশ্যাল নর্মস-এর মধ্যে আমরা ছিলাম, উচিত আর উচিত না, করা যায় করা যায় না— ইট ওয়াজ সাচ এ রিজিড লাইন। সিম্পল থিং যে তুমি চাকরি করতে পারবা না। চাকরি করলে বাচ্চা কে দেখবে! চাকরি করা যাবে না। ফুলস্টপ। বা বাচ্চাকে, ফ্যামিলিকে ইগনোর করে ক্যারিয়ার অব উইমেন ক্যাননট বি ফার্স্ট। ফুলস্টপ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ধরেন একটা সামাজিক কাজ, সেখানেও যাওয়া যাবে না।
রুনা খান: আমি কিন্তু দুটোই করতে পারতাম। এখন তো আমি দুটোই করছি। যাই হোক, আমি যখন এসে কাজ শুরু করলাম, একটার পর একটা, অনেক কাজ, আমি বই লেখা শুরু করলাম। আমার আটটা বই আছে। প্রাইমারি চাইল্ড কেয়ারের উপরে আমি আশোকা ফেলোশিপ পেয়েছি। কারণ পয়সাকড়ি ছিল না তখন একদম। ইভেন আই অ্যাম দ্য কাইন্ড অব পারসন আমি চাই নাই আমার হাজবেন্ডের কাছ থেকে নিতে। এরপর আমি ছয়টা না আটটা বই লিখলাম। এখনো কিন্তু ওগুলো চলে। স্কুলে পড়ায়। হলিক্রসে পড়ায়। ভিকারুন্নিসায় পড়ায়। আমি একটা বুটিক দিলাম। বুটিকেও একটা পারপাস, বিহারিদের নিয়ে কাজ করতাম। এমনি লোকদেরকে তো সবাই কাজে নেয়। ওদেরকে কেউ নেয় না তাই ওদেরকে নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম। হিলট্র্যাক্টসের লোক আনলাম।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার এই মুক্ত মানসিকতার কারণে আপনার এই কিছু কাজ সমালোচিতও হয়েছে। যারা আসলে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে সেইভাবে উদ্বুদ্ধ, যে, আপনি কেন বিহারিদের নিয়ে কাজ করতেছেন! পাহাড় থেকে লোকজন নিয়ে এসে কেন কাজ করতেছেন!
রুনা খান: অ্যাবসুলুটলি। ইফ আই থিংক সামথিং ইজ রাইট, আই ডন্ট কেয়ার। এবং এই স্ট্রেংথটা হয়ত, বিকজ অব মাই ফ্যামিলি। ইউ নো, সিন্স আমরা গ্রু করেছি— সো মাচ কনফিডেন্স। আই রিমেম্বার, আমাকে একজন বলল, বাংলাদেশের খুবই নাম করা, বললে পরে আপনি বুঝবেন, উনি বললেন যে, তোমাকে তো কোনো ফ্যাশন ফলো করার দরকার নেই। বিকজ ইউ আর এ নিউয়ার ফ্যামিলি, সেট দ্য ফ্যাশন। সো ইউ ডন্ট ফলো এ ফ্যাশন। এটা আমাদের পুরোনো এক প্রেসিডেন্টের ছেলে বলেছেন। হিজ সান। সো দিস ইজ দ্য স্ট্রেংথ। কিন্তু জানেন, আমি একজন নারী হিসেবে একটা মিডলক্লাস নারীর যে প্রবলেমগুলো হয়, সেগুলো হয়ত আমার হয় নাই; কিন্তু আমার আবার উল্টো রকমের প্রবলেম হয়েছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: যেমন?
রুনা খান: যেমন ফর এক্সাম্পল, কেউ বিশ্বাসই করতে পারে না যে আমি এই কাজ করতে পারি। যারা আমাকে একটা দুটো টাকা দেবে, বলবে, আচ্ছা রুনা যখন চাচ্ছে, শি ইজ এ গুড গার্ল। সে কখনো পয়সাকড়ি নষ্ট করে না। ঠিক আছে, ওকে দাও।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কাজটা পছন্দ করে দেওয়া, এই দেওয়াটা কেউ দেয় না।
রুনা খান: কাজ কেউ দেখেই না। আচ্ছা রুনা চাচ্ছে, রুনা ইজ অনেস্ট, উই নো হাউ শি ইজ। টাকা চুরি করার মতো লোক সে না। উই নো হার। আচ্ছা ঠিক আছে, চাচ্ছে, দিয়ে দিচ্ছি। ওটা দিয়ে আমি কী কাজ করছি, ওটা দিয়ে কী হচ্ছে, খেয়াল করে না। কয়েক বছর আগেও আমি যখন গভর্নমেন্টে যেতাম, ওরা যখন জানত আমি অমুক ফ্যামিলির মেয়ে, তখনও কিন্তু আমার কাজটাকে ওরা অত সিরিয়াসলি দেখত না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: একটা ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মেয়ে রুনা, আচ্ছা ঠিক আছে।
রুনা খান: আচ্ছা ঠিক আছে উনাকে বসতে দাও। সো কেউ বিশ্বাসই করে না। মে বি গত বছর বা তার আগের বছর পর্যন্তই, এই যে টুইটার ফেসবুক না হওয়া পর্যন্ত আর এটার ভেতর না এন্টার করা পর্যন্ত কেউ জানেই নি। ইভেন আমাদের ফ্যামিলির মধ্যে বা ফ্রেন্ডস সার্কেলে আমি কী করি কেউ জানে না। পুরা দুনিয়াতে জানে, ওরা জানে না। একবার আই ওয়াজ জার্নিং ফ্রম সাউথ ফ্রান্স টু প্যারিস, অ্যান্ড আই এম সিটিং বিজনেস ক্লাসের লাস্টে আমি বসে আছি, আমার এক কলিগের সাথে কথা বলছি ইন ইংলিশ, অ্যান্ড ওয়ান লেডি গট আপ অ্যান্ড সেড, ইউ রুনা খান? আই সেড, ইয়েস। শি ইজ ফ্রেঞ্চ। শি সেড, আই নো হোয়াট ইউ ডু অ্যান্ড কনগ্রাচুলেশনস। সো ইউ সি দিস হ্যাপেনস ইন ইউরোপ, সো অফেন নাও, বাট ইন বাংলাদেশ, ইট ডাজন্ট হ্যাপেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এর দোষটা আসলে আপনার না। দোষটা আমাদের। আমাদের গণমাধ্যম সেইভাবে গুণী মানুষদেরকে তুলে ধরে না। এটা একটা সমস্যা। এবং আরেকটা বড় সমস্যা হলো, আমাদের আগ্রহের জায়গাগুলো....আমরা কাকে চিনব আর কাকে চিনব না--এর সঠিক চর্চাটা এখনো শুরু হয়নি।
রুনা খান: আমি বিশ্বাস করি, আমার যদি আরো একটু পরিচিতি লাগে, আই ডোন্ট নিড মাই ফেস টু বি দেয়ার, আই নিড মাই ওয়ার্ক টু বি সিন। ইটস ভেরি ইজি ফর মি যে দিনরাত মিডিয়ার সাথে বলব, একটা ছোট কাজ করে মিডিয়াকে বলি, মিডিয়াকে ডাকি। আপনারা কিন্তু সত্যিকারের কাজ বোঝেন। আমাকে যে যাই বলুক মিডিয়া সম্পর্কে, আপনারা কিন্তু পারসিভ করতে পারেন কে কাজ করছে, কী কাজ হচ্ছে, কী কাজ হচ্ছে না। টোটালি আপনারা পারসিভ করতে পারেন। তো আমার কনফিডেন্স ছিল, আমি যদি করে দেখাতে পারি, তাহলে আমার কাজের উপর যেন ফোকাসটা হয়। আমার উপর দরকার নাই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি প্রথম কবে নৌকা জাদুঘরের কথা ভাবলেন? কীভাবে এটা আপনার মাথায় এল?
রুনা খান: নৌকা জাদুঘর এটার বিহাইন্ড দিস অলসো মাই সেকেন্ড হাজব্যান্ড, ইউ নো ইভ। কারণ, ও কিন্তু খুব নৌকা পছন্দ করত। ছোটবেলায় আমি নানাদের সাথে নৌকায় করে শিকারে যেতাম। আমাদের একটা নৌকা ছিল সুলতান নামে। কিন্তু নৌকার প্রতি ভালোবাসা... নৌকা সুন্দর লাগত, কিন্তু নৌকাটা যে কী, সেটা ফিল করতে পারি নাই। ও কিন্তু নৌকা খুব পছন্দ করে। ও বোট নিয়ে কাজ করেছে। বোট নিয়ে সেলিং করেছে। এবং ওর থ্রুতে কিন্তু আই রিয়েলি গট টু নো দ্য রিভারস অ্যান্ড দ্য বোটস অব বাংলাদেশ। ওর জন্য যতটা না অবাক, আমার জন্য বেশি অবাক ছিল জিনিসটা। কারণ নিজের দেশের জিনিস আমি চিনি না। আর তাতে ভালোবাসাটাও বেড়ে যায় বাচ্চা হওয়ার মতো। এরপর যত নৌকায় উঠতাম, নদীতে যেতাম, মাঝিদের সাথে কথা বলতাম--এত মায়া লাগত! এত ভালো লাগত! আর কী সুন্দর দেখতে এসব নৌকা। আমরা অন্যান্য বিদেশি নৌকা দেখি, ভেরি স্মার্ট অ্যান্ড ভেরি বিউটিফুল, কিন্তু আমাদের নৌকা পাল তুলে কাঠের একটা নৌকা যখন আমাদের নদীতে চলে, এর থেকে সুন্দর নৌকা বোধহয় আর নাই। আই জাস্ট লাভড ইট। তখন আমাদের মনে হলো এই নৌকাগুলো বাঁচাব কীভাবে! একবার হলো কী, এক নদীতে গিয়ে দেখলাম বড় বড় অনেক কাঠের নৌকা। এর কয়েক বছর পরে গিয়ে দেখি একটাও বড় নৌকা নাই। দুই-তিন বছরে কমতে কমতে বড় নৌকা শেষ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নদীও তো মরে যাচ্ছে।
রুনা খান: একদম। নদী মরে যাচ্ছে। বড় নৌকার কারিগররা মরে যাচ্ছে। আর জানেন, সবচে’ ডিফরেন্ট কাইন্ড অব কনস্ট্রাকশন আমাদের বাংলাদেশে। দুনিয়ার আর কোনো জায়গায় এই টেকনোলজির নৌকা বানানো হয় না। আমার হাজব্যান্ড, নট অনলি মাই হাজব্যান্ড, অলসো হিজ ফ্রেন্ডস হু আর অল ভেরি মাচ ইন দ্য বোট ওয়ার্ল্ড। ওরা এসে এগুলোর সংরক্ষণের কথা বলে। কিন্তু করার জন্য উদ্বুদ্ধ হওয়া আর করা কিন্তু এক না। আমরা যেমন বিদেশে গিয়ে একটা সুন্দর জিনিস দেখি, বলি যে, এটা ঠিক করা উচিত। কিন্তু করেটা কে! করে তো ওখানকার লোকেরা। তো এখানে আমাকেই কিন্তু করতে হবে জিনিসটা। একবার যখন আমি রিয়ালাইজ করলাম যে জিনিসটা করা উচিত, আর কেউ দেখছে না। সবাই উপরে উপরে করে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে বোটটাকে ধরে রাখা, এদের নলেজটাকে প্রিজার্ভ রাখা...এর চ্যালেঞ্জটা কী? আমরা যদি এখন সবাইকে বলি কাঠের নৌকা বানাতে, আমাদের কাঠই নাই। ইকোনমিক্যালি একদম ভায়াবল না। তার কারণ কাঠের নৌকা অনেক এক্সপেনসিভ। তাই আমরা কিন্তু জনগণকে গিয়ে বলতে পারব না তোমার করা উচিত। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো এটাকে প্রিজার্ভ করা। হেরিটেজটাকে প্রিজার্ভ করা। এই টেকনোলজিটাকে লিখে রাখা। এক হাজার বছর পরে যখন সব কার্পেন্টাররা মরে যাবে, যখন আর এই বোট চলবে না, মানুষ যেন তখন একটা বই খুলে দেখতে পারে যে, আরে বাংলাদেশে এত রকমের নৌকা ছিল! এত সুন্দর ছিল! এমন করে নৌকা বানাত! এবং কিছু স্যাম্পল রাখা। এটা আমাদের রেসপনসিবিলিটি। আমাদের দেশের রেসপনসিবিলিটি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার হয়ত মনে নেই। আমিসহ আরো কয়েকজন...
রুনা খান: মনে আছে আমার। সাভারে গিয়েছিলেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ওখানেই কি জাদুঘরটা হচ্ছে?
রুনা খান: ওখানের নদীটা কি দেখেছেন এখন?
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: খুব বাজে অবস্থা।
রুনা খান: ওখানে বোধহয় হবে না। আমরা আরো দুটো জায়গা দেখেছি। আশুলিয়ার বেড়িবাঁধের কাছে আমরা কিছু জমি নিয়েছি। এইটা একটা। আরেকটা জায়গা আমরা দেখছি পূর্বাচলের কাছে। আমরা অ্যাপ্লিকেশন করেছি গভর্নমেন্টে। এবং আই হোপ গভর্নমেন্ট আমাদেরকে হেল্প করবে। কারণ আমাদের মতো একটা দেশে কিন্তু কালচারাল প্রিজারভেশন ইজ এ কোশ্চেন অব ডিগনিটি অব আওয়ার কান্ট্রি অব দ্য পিপল হু আর ওয়ার্কিং উইথ দ্যাট কালচার, যেটা ডেভেলপ করেছে। অন্য মানুষ টাকা দেয় না। বাংলাদেশকেই টাকা দিতে হবে এটা করার জন্য। পার্টির সাথে এটার কোনো সাধ নাই। যে পার্টিই আসুক দিস ইজ এ হেরিটেজ অব বাংলাদেশ উইচ মাস্ট প্রিজার্ভ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নৌকা জাদুঘরের অগ্রগতি আসলে কতদূর?
রুনা খান: বাংলাদেশের অবস্থা আপনি জানেন। বিটুইন ফ্লাডস, রোহিঙ্গা, আমাদের ডেভেলপমেন্ট ফান্ড.. মানুষ বিদেশ থেকে কিন্তু কালচারাল প্রিজারভেশনের জন্য কিন্তু টাকা দিতে চায় না। নৌকার হেরিটেজটা কিন্তু বাংলাদেশের। বাংলাদেশের রেসপনসিবিলিটি হলো নৌকার যে টেকনোলজি, ডাইভারসিটি, এর দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের সিটিজেনদের উপর না; এটা কিন্তু ফর অল হিউম্যানিটি। বিকজ ইট সাচ এ ইম্পর্টেন্ট টেকনোলজি, যেটা দুনিয়াতে কোনোখানে নাই। এটা কিন্তু আমাদেরকে করতে হবে এবং বাংলাদেশকেই করতে হবে। বাইরে থেকে টাকা এনে কিন্তু আমরা এটা করতে পারব না। অ্যান্ড ইট ইজ রাইট দ্যাট দিস ইজ আওয়ার হেরিটেজ উই শুড ডু ইট। সো এই প্রোপোজাল দিয়েছে গভর্নমেন্ট। এবং আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি টু সে দ্যাট আওয়ার অনারেবল মিনিস্টারস, কালচারাল মিনিস্টারস, ফাইন্যান্স মিনিস্টারস হ্যাভ ব্রট দিস সাবজেক্ট আপ। আর আপাও খুব খুশি এটা নিয়ে। সো উই হ্যাভ গিভেন দ্য প্রোপোজাল টু দেম অ্যান্ড উই আর হোপিং এবার হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আমি শুনেছি, উনাদের জবান, উনাদের কথা, এবার এটা পাস হয়ে যাবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: জায়গাটা নিয়ে যদি বলেন। সাভারে তো হচ্ছে না।
রুনা খান: সাভারে হচ্ছে না। নদীটা একটু বেশি ছোট হয়ে গেছে। ওখানে করা যাবে না। আপনি জানেন যে, আগে আমরা সাভারে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সাভারে নদীর অবস্থা খুব খারাপ। এখন আমরা কয়েকটা জায়গা দেখছি। পূর্বাচলের কাছে একটা। আশুলিয়াতে একটা। এখন আমাদের প্রবলেম হলো, নাম্বার ওয়ান, আমাদেরকে ইমিডিয়েট অ্যাকশনে যেতে হবে। কারণ, কার্পেন্টাররা মরে যাচ্ছে। তারা আর এই কাজ করছে না, অন্যান্য কাজে চলে যাচ্ছে। ওদেরকে আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। আমাদের ওভার এইটি সেভেন ডিফারেন্ট কাইন্ডস অব বোট মেড ইন অ্যাটলিস্ট ফিফটি ডিফারেন্ট কাইন্ডস অব কার্পেন্টারস উইথ ডিফারেন্ট স্কিলস। এই কার্পেন্টারগুলোকে আমরা ধরে রেখেছি এতদিন। কিন্তু এরা চলে যাবে। এরা টেবিল-চেয়ার বানাতে শুরু করবে। ইমিডিয়েটলি আমাদেরকে শুরু করতে হবে। আর একটা মিউজিয়ামের কিন্তু ইনকাম লাগবে। নয়তো চলবে কেমন করে!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বাংলাদেশের এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তাদের প্রতীক নৌকা। পাকিস্তানের যে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম, সেখানে সত্তরের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাস করেছে। আমরা একটা প্রস্তাবনা শুনেছি যে, এই জাদুঘরটা বঙ্গবন্ধু যেখানে শুয়ে আছেন, গোপালগঞ্জে হওয়ার কথা। সেই বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
রুনা খান: আমার মনে হয় সার্টেনলি একটা পার্ট ওখানে হওয়া উচিত। কারণ, ইউ নো, দ্য ফাদার অব দ্য নেশন ইজ দেয়ার। দ্যাট দেয়ার শুড বি সামথিং। কিন্তু প্রবলেমটা হলো, এটা তো চালাতে হবে আমাদের। আর এটা ইমিডিয়েটলি করতে হবে। সো আমরা চাচ্ছি যে, ঢাকার কাছে হলে এটার একটা বিরাট অ্যাওয়ারনেস হবে, কারণ, ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি, লোকাল কমিউনিটি.. এক্সপোজারটা মাল্টিপ্লাইড হয়ে যাবে। আর এক্সপোজারটা মাল্টিপ্লাইড হওয়াটা কিন্তু ইজ ওয়ান অব দ্য থিং দ্যাট উই ওয়ান্ট। এভরিবডি ওয়ান্টস। এনিবডি, হু লাভস বোটস, ওয়ান্টস দ্যাট। যার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি, আমরা ঢাকার কাছে করি। কিন্তু ইট ইজ সামথিং হুইচ ইজ সার্টেনলি নিডস টু বি ডান ইন গোপালগঞ্জ অলসো। আমরা এটা করে তারপর...। এটা করতে আমাদের এক-দেড় বছর লাগবে। ইটস নাথিং, ইটস এ স্মল মিউজিয়াম। তারপরে সরকার যদি আমাদেরকে হেল্প করে, ইনশাআল্লাহ ওই ফান্ডটা দিয়ে আমরা ওখানে ইজিলি করতে পারব।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: নৌকার প্রচুর কাজ আপনারা করেছেন। এখন পর্যন্ত কী কী কাজ হয়েছে যদি বলেন আমাদের।
রুনা খান: একটা মিউজিয়ামে কী কী দরকার? ডিসপ্লেস দরকার। ডকুমেন্টেশনস দরকার। আইটেমস দরকার। এক্সপার্টিজ দরকার— এই জিনিসগুলো। উই হ্যাভ ডান এভরিথিং। উই হ্যাভ ডান ইনক্লুডিং অ্যাওয়ারনেস, নলেজ, অল দিজ। কো-অপারেশনস, পার্টনারশিপস উইথ আদার মিউজিয়ামস, অল দিজ উই হ্যাভ ডান। আমাদের খালি বাকি আছে স্ট্রাকচার। টাকাটা পেলে আমরা মিউজিয়ামের স্ট্রাকচারটা বানাব। উই হ্যাভ ডান এইটি সেভেন ডিফারেন্ট টাইপস অব বোটস। আমরা গত বিশ-পঁচিশ বছর ধরে কাজ করছি। আর এইটি সেভেন ডিফারেন্ট কাইন্ডস অব বোটস আমরা পেয়েছি। এই রকম রেঞ্জ আর নাই বাংলাদেশে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: জাতীয় জাদুঘরে যে প্রদর্শনীটা আপনারা করেছিলেন, আমি সত্যিই মুগ্ধ। এবং সেখানে সব নৌকাগুলো আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি। এই কাজগুলো কত বছরের পরিশ্রমের উপর দাঁড়িয়ে আছে দেখলেই বোঝা যায়। আপনি আপনার হাজবেন্ডের কথা বলছিলেন। তার এই ভালোবাসাটা আপনাকে কীভাবে আক্রান্ত করল?
রুনা খান: আসলে ও তো নৌকার কিছু জানত না। হি লাভস বোট। ও আমাকে বোট দেখিয়েছে। দেখ কত সুন্দর। তারপরে কিন্তু আমরা দুজনে একসাথে নৌকার নেশায় পড়েছি। আর আমি বাংলাদেশের লোক, এদেশের মানুষদের সাথে কথা বলা, আলাপ করা, স্পটে যাওয়া— এটা আমি করেছি। আমার মনে হয় বাংলাদেশে একমাত্র মাঝি ছাড়া আর কোনো মহিলা এত নৌকায় চড়েনি, নদীতে যায়নি, যতটা আমি গিয়েছি। মহিলা দূরে থাক কোনো পুরুষও হয়ত আমার মতো এত নৌকায় চড়েনি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা, নৌকা জাদুঘরের স্বপ্নদ্রষ্টা আপনি। দীর্ঘ সময় ধরে এটা নিয়ে আপনি কাজ করছেন। নৌকা জাদুঘর এখন কী পর্যায়ে আছে?
রুনা খান: এটার অনেকগুলো কাজ ডিফারেন্ট স্টেপে আছে। ডকুমেন্টেশন মোস্ট ইম্পর্টেন্ট ফাইন্ডিং আউট। আমরা এইটি সেভেনের উপর নৌকার ভ্যারাইটিজ আমরা বের করেছি। কার্পেন্টারগুলোকে জোগাড় করা, ডকুমেন্টেশন করা, অ্যাওয়ারনেস তৈরি করা, ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ারনেস তৈরি করা, নৌকার প্রতি মানুষের ভেতর ভালোবাসা জাগানো। বাংলাদেশের মিনিমাম সিক্সটি পার্সেন্ট মানুষ কোনো না কোনোভাবে নদীর সাথে কানেক্টেড, নৌকার সাথে কানেক্টেড। ইটস এ রিভারাইন কান্ট্রি। বাংলাদেশ হ্যাজ দ্য লার্জেস্ট রিভার বোট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। অ্যান্ড টেকনোলজি ইজ ইউনিক। সুইডিশ লিটারেচারে, সুইডিশ বোট হিস্ট্রিতে আইকোনোগ্রাফিক রেফারেন্স আছে কিন্তু এটার কোনো ডকুমেন্টেশন ওখানে নাই। আর আমাদের এখানে লাস্ট জেনারেশন অব কার্পেন্টারস। এরা মরে গেলে পরে এটা শেষ। বাংলাদেশের মানুষ এটা বুঝতে পারছে না, কী ইম্পারেটিভ এটা, আমরা ইমিডিয়েটলি এটাকে বাঁচিয়ে রেখে একটা ট্র্যাডিশনাল হেরিটেজ ইমিডিয়েটলি করি। এখানকার মানুষ নৌকা এত পছন্দ করে, ভালোবাসে, এটা কেন আমি বোঝাতে পারি না, ইফ ইউ ডোন্ট কিপ ইট রানিং, ইফ ইউ ডোন্ট কিপ ইট ডকুমেন্টেড, ইফ ইউ ডোন্ট কিপ দ্য ডিজাইনস, দে আর লস্ট ফর হিউম্যানিটি। আর আপনারা জানেন, এটার জন্য কত বছর ধরে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা আনতে। বাংলাদেশের কালচারাল হেরিটেজ--কোন বিদেশি টাকা দেবে বলেন! এটা আমাদের জিম্মা, আমাদেরকেই করতে হবে। ফাইনালি গভর্নমেন্টকে আমরা অ্যাপ্লাই করেছি। অফকোর্স উই আর ভেরি হ্যাপি। আমাদের ফাইন্যান্স মিনিস্টার, কালচারাল মিনিস্টার, ইভেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপাও এটা খুবই পছন্দ করেছেন। আমাদের কিন্তু সব ব্যাকগ্রাউন্ড করা আছে। জাস্ট শুধু টাকাটা পাওয়ার দরকার। ইভেন আমাদের আর্কিটেকচারাল প্ল্যান হয়ে গেছে। কস্টিং হয়ে গেছে। রানিং হয়ে গেছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আর্কিটেকচারাল প্ল্যান কে করেছে?
রুনা খান: কাশেফ। উনি আমাদের ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার করেছেন। যেটা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড উইন করেছে। কাশেফই ডিজাইন করেছে। অপূর্ব! বাংলাদেশে এরকম বিল্ডিং আর একটাও আপনি দেখতে পাবেন না ইনশাআল্লাহ এটা হলে পরে। ইফ ইউ উইল বি একটা ইন্টারন্যাশনাল সিম্বল হয়ে দাঁড়াবে। আর অল উইথ বাংলাদেশি জিনিস। বিদেশি কোনো কিছুই না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: পিঠ চাপড়ানো ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য এই পর্যন্ত পেয়েছেন জাদুঘরের জন্য?
রুনা খান: আমি বলব, আমাদের মিনিস্ট্রি হ্যাজ বিন বিহাইন্ড আস টু গেট দিস প্রজেক্ট থ্রু। মিনিস্ট্রিতেও অনেকের পছন্দ না, হওয়া উচিত কি উচিত না এই ব্যাপারে। কেন বাংলাদেশের মতো একটা দেশে বোট মিউজিয়ামে আমরা টাকা দেব। দিস হ্যাজ বিন দ্য ডিলে। বাট দ্য মিনিস্টারস অ্যান্ড এনি ওয়ান, যার মধ্যে একটু কালচারাল হেরিটেজের কোনো অ্যাওয়ারনেস আছে, সে বুঝবে যে এটা আমাদেরকে করতেই হবে। কিন্তু আপনি জানেন প্রবলেমস কি হয়। ওই প্রবলেমসগুলোর জন্যই কিন্তু আমাদের ডিলে হচ্ছে। নট বিকজ অব দ্য ইনটেনশন, হাই সোর্স থেকে যদি একটা বলা যায় প্রবলেমসগুলোর কথা..
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এটা কি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা?
রুনা খান: অ্যাবসুলুটলি। জাস্ট বিউরোক্রেটিক প্রবলেমস। অ্যান্ড আমি যদি একটু স্ট্রেংথ পাই যে এটা হয়ে যাক, এটা কিন্তু হয়ে যাবে। এভরিথিং ইজ রেডি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ফ্রেন্ডশিপের এই সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে যদি বলেন।
রুনা খান: ফ্রেন্ডশিপ আমি ২০০২ সালে শুরু করেছি। অ্যান্ড ইউ নো ইট ওয়াজ বেসড অন গোয়িং টু দ্য মোস্ট রিমোট ইনঅ্যাক্সেসিবল এরিয়াস বাংলাদেশে যেখানে আর কেউ যায় না। আমি যখন কাজ শুরু করি চরে সেখানে কিন্তু অ্যাডহক ইন্টারভেনশন হতো অনেক অর্গানাইজেশনের, কিন্তু ডিপেন্ডেবল কোয়ালিটি সার্ভিস, যেটা ডিপ চেঞ্জেস আনতে পারে মানুষের ভেতরে, কমিউনিটিতে, সেটা কিন্তু হতো না। আমরা সেই জায়গাগুলোতে শুরু করেছি। বেছে নিয়েছি সেই জায়গাগুলো। চর, একেবারে কোস্টাল বেল্ট। যেখানে ট্রুলি আদার কোনো ইন্টারভেনশন নাই, বা থাকলেও ওই কোয়ালিটির না, যা চেঞ্জ আনতে পারে। সো প্রথমে আমরা শুরু করলাম স্বাস্থ্য নিয়ে। কারণ, আপনি জানেন, যখন একটা মানুষ সাফার করে, তখন কিন্তু তার ইম্পাওয়ারমেন্ট, তার এডুকেশন, তার ইনকাম জেনারেশন, কিছুই কিন্তু সেই লোকটা চায় না। সে খালি একটা জিনিস চায়,তার ব্যথাটা যেন কমে যায়। সে জন্য আমরা প্রথমে স্বাস্থ্য দিয়ে শুরু করলাম। কিন্তু কমিউনিটির মধ্যে এত গরিব, সেখানে শুধু একটা প্রজেক্ট নিয়ে কিন্তু কাজ হয় না। দু বছরের প্রজেক্ট, প্রজেক্ট শেষ হয়ে গেল, আমি চলে গেলাম, এটা হয় না। আপনি যখন একটা কমিউনিটির ডেভেলপমেন্ট চাচ্ছেন, তখন কিন্তু আপনাকে একটা লংটাইম কমিটমেন্ট নিয়ে যেতে হয়। যেটা আমরা নিয়েছি। সো আমরা ফ্রেন্ডশিপে এখন হেলথ নিয়ে কাজ করছি। আমরা থ্রি টিয়ার হেলথ কেয়ার সিস্টেম করেছি। আর গভর্নমেন্টের সাথে তো কাজ করতেই হয়। ইপিআই, ফ্যামিলি প্ল্যানিং যা-ই করি, গভর্নমেন্টের সার্ভিসেস, চেইন অ্যান্ড গুড উইল এটা লাগেই। তারপরে আমরা দুর্যোগঘটিত জায়গাতেই বেশি আছি। সাইক্লোন, ফ্লাডস এটার জন্য প্রিপেয়ার্ডনেস, সাইক্লোন শেল্টার, ফ্লাড শেল্টার, রিলিফ ডিস্ট্রিবিউশন— সব করতেই হয়। এরপর ওখানকার ইনকাম জেনারেশনের সোর্স, ট্রেনিং সব করছি। ওটার ভেতর দিয়েই আজকে আমাদের একটা জিনিসের ওপেনিং হচ্ছে। সেটা হলো কাপড়। যে শাড়ি আমরা পরে আছি এটার একটা ওপেনিং হচ্ছে। আমাদের সেভেনটিন স্কুলস আছে, সাতটা সেকেন্ডারি স্কুল আছে। ইনক্লুসিভ সিটিজেন প্রজেক্ট আছে। আর আছে কালচারাল প্রিজারভেশন। ফ্রেন্ডশিপ পাঁচ লাখ সার্ভিসেস পার মান্থ ডেলিভার করছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা আমি যদি একটু আগে যাই, আপনাদের পরিবারের যে দুর্দান্ত ঐতিহ্য, তাতে একটা বড় জায়গা জুড়ে ছিল ক্লাসিক্যাল মিউজিক। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ক্লাসিক মিউজিকের ফেস্টিভ্যাল দিয়ে পুনর্জাগরণ শুরু করেছে। আমি যদ্দুর জানি, এই চিন্তার পেছনের মানুষগুলোর একজন ছিলেন আপনি। এবং আপনি চট্টগ্রামের এক ধরনের কাজ করেছিলেন ক্লাসিক্যাল মিউজিক নিয়ে। সেটা নিয়ে যদি কিছু বলেন।
রুনা খান: আমি যখন চিটাগাং-এ ছিলাম, তখন কিন্তু ক্লাসিক্যাল মিউজিক বাংলাদেশে হার্ডলি প্রচার ছিল। তো আমি যেটা করলাম, ওয়ান অব দ্য টপ গুরুস ক্লাসিক্যাল মিউজিকে যারা ছিলেন, ওস্তাদ বেলায়েত খাঁ সাহেব, ইমরাত খাঁ সাহেব, উনাদের ছেলেদের একদিন আমি ডাকলাম। ডেকে আমি চিটাগাঙে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের একটা সার্কেল করলাম। আপনি বিশ্বাস করবেন না, তখন খুব ভয় পেয়ে আমি মানুষদেরকে ডেকেছি। ক্লাসিক হয় কখন? যখন ইট ইজ বিয়ন্ড দ্য টেস্ট অব টাইম, তখনই কিন্তু ক্লাসিক্যাল মিউজিক হয়। আর যেমন গ্রো করছি, কাজের লোক আসছে, কাজ দিচ্ছি আমরা লোকদেরকে, এতে আমার ওভারঅল রেসপনসিবিলিটিটা অসম্ভব বেড়ে যাচ্ছে। আর আমি কিন্তু ফিল্ডের সাথে টাচ না রাখলে আমার মনে হয় না যে আমি জানি বা বুঝতে পারি। পারসিভ করা যায় না জিনিসটা। এটা হলো একটা জিনিস। তো ফিল্ড ইজ মাই রিয়েল লাভ। কেউ যদি আমাকে বলে, কোন জিনিসটা সবচে’ বেশি ভালো লাগে, আমি বলব, আমার সবচে’ বেশি ভালো লাগে ফিল্ডে যাওয়া। এটা হলো নাম্বার ওয়ান। অফিসটা তো করতে হয়। কারণ, ফিল্ডে যদি আমি ভালো কাজ করতে চাই, তাহলে একটা এনজিও বলে অফিসকে একটা নন-প্রফেশনাল কাজ দেব বা একটা কর্পোরেট থেকে আমার কাজ লেস হবে, এটা যেন না হয়। উই ওয়ার্ক অ্যাজ প্রফেশনালি অ্যাজ এনি কর্পোরেট। ইউ নো, ইউ হ্যাভ গট প্রফেশনাল পিপল ডুইং আওয়ার সেক্টর, আওয়ার ওয়ার্কস এটা কিন্তু মেইনটেইন করি। একটা অফিসের মতোন এটা মেইনটেইন করতে হয়। আমি যখন কাজ শুরু করি, আমি এনজিও কি জানতাম না। তখন আমি একটা জিনিস রিয়ালাইজ করলাম— আমাদের দেশে এত টাকা-পয়সা আসে, মানুষের এত গুডউইল আছে, এবং এমন না যে গভর্নমেন্ট অ্যালাউ করে না; তাও না কিন্তু। গভর্নমেন্টে যথেষ্ট লোক আছে, যারা চায় ভালো কাজ হোক। তাহলে ফিল্ডে কেন কাজ হচ্ছে না ঠিকমতো? আমি দেখলাম অনেক জায়গায় সেবা ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। যা রিপোর্ট করা হচ্ছে তা লোকে পাচ্ছে না। তখন আমি ভাবলাম, আমি জানি না, মানুষ কেমন করে কাজ করে, তবে আমার নীতি নিয়ে আমার কাছে যেটা ভালো মনে হয়, উইথ মাই কনশেন্স লেট মি ট্রাই টু ডু মাই বেস্ট। আমি স্মল প্লেয়ার বাট কয়েকজনের জীবনকে ডিফারেন্স করতে পারব। সেই জিনিসটা যেন আমি আমার নীতি নিয়ে করতে পারি। অ্যান্ড আই ওয়াজ অ্যাকচুয়ালি দ্য ফার্স্ট অর্গানাইজেশন, ফ্রেন্ডশিপ ওয়াজ দ্য ফার্স্ট অর্গানাইজেশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড টু হ্যাভ স্টার্টেড ফ্রেন্ডশিপ ইন বাংলাদেশ, নট ইন বাংলাদেশ, থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি, যেখানে কাজ হয়। আমরা কাজ করি, সার্ভিস ডেলিভারি করি। এবং আই টুক দ্য স্টেপ অব মেকিং ইট অ্যান ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। নট ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ, বাট আই লঞ্চড ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল। ফ্রেন্ডশিপ কিন্তু একটা বিলেতি অর্গানাইজেশন অলসো। বাংলাদেশেরটা কিন্তু পুরা বাংলাদেশি। ইন্টারন্যাশনালটা অলসো ডান বাই মি। কেন? সো দ্যাট আই ক্যান বি দ্য ভয়েস অব দ্য পিপল অব দ্য চরস অ্যান্ড দ্য পিপল হু আর অ্যাকচুয়ালি সার্ভিস ডেলিভারি পাচ্ছে। সো দ্যাট আই ক্যান বি সরাসরি টেলিং দ্য ডোনার্স উইথআউট একগাদা মিডিয়াট্রি অর্গানাইজেশন। আমি ওদের কথা যত ভালো করে বলতে পারব, আমি কিন্তু দশটা অর্গানাইজেশনকে বলে বলে ওদের কানে যাওয়া--এটা এক হবে না। বুঝতে পেরেছেন? আরেকটা হলো, দু বছরের কাজ নিয়ে আমি মনে করছি বাচ্চাদের পড়ানো উচিত, দু বছর পরেই আমার প্রজেক্ট শেষ, আমার কাজ শেষ, তাহলে কিন্তু হয় না। আপনিই বলেন একটা সিগারেটের হ্যাবিট বাদ দিতে কত দিন লাগে? একটা মানুষের হ্যাবিট বদলাতে কিন্তু দু বছর যথেষ্ট না। এটা কিন্তু বছরের পর বছর লাগে। এই ধৈর্যটা আমাদের রাখতে হবে। এই ধৈর্য নিয়ে আস্তে আস্তে যেন আমরা কমিউনিটিকে বদলাই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: বাংলাদেশে আপনি যে ধরনের কাজ করছেন, ফ্রেন্ডশিপের ইন্টারন্যাশনাল ওয়েতেও কি সেই ধরনের কাজ করছেন?
রুনা খান: একেবারে ডিফারেন্ট। ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল হলো টু বিকাম দ্য ভয়েস অব ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ। তার মানে ওরা আমাদের ফান্ড রাইজিংয়ে হেল্প করে। ফ্রেন্ডশিপ যে রকম কাজ করছে, ওরা লোকজনকে নিয়ে এসে দেখায় যে, অনেক অর্গানাইজেশন ওই সিস্টেমে কাজ করে কিন্তু ফ্রেন্ডশিপ এই সিস্টেমে কাজ করছে। কিন্তু দ্যাখ ইম্প্যাক্ট কেমন হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনালি একটা জিনিস আমরা খুবই স্ট্রংলি প্রচার করি— কোনো কমিউনিটি, কাজ ডিগনিটি মানুষের সাথে নার্চার না করলে ডিগনিটি রেসপেক্ট দিয়ে কাজ না করলে কোনো কাজ হয় না। আপনি স্তূপ স্তূপ টাকা আনেন, আপনার স্তূপ স্তূপ গুড ইনটেনশন থাকুক, আইডিয়াস থাকুক, কোনো কিছুই হবে না যদি আপনি মিউচুয়াল রেসপেক্টে কাজ না করতে পারেন। আর এটা কিন্তু সব সময় হয় না। আপনারা তো দেখেছেন। অনেক সময় হয়। মোস্ট অব দ্য টাইম কিন্তু হয় না। আমি তোমাকে টাকা দিচ্ছি, তোমাকে এই কাজটা করতে হবে। এইটাই কিন্তু বেশিরভাগ কাজের ধাঁচ। এরকম করে কিন্তু কাজ হয় না। শুনতে হবে। খুব খুব ইম্পর্টেন্ট হলো আমাদেরকে শুনতে হবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: কাশেফ ভাইয়ের সাথে আপনার নিশ্চয় পারিবারিকভাবে চেনাজানা আছে। কাশেফ ভাই তার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের জন্য আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পেল, মানে আপনারাও পেলেন, সেটা আমি কাভার করতেও গিয়েছিলাম; তো স্থাপত্য নিয়ে ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনালের আলাদা কী চিন্তা বা পরিকল্পনা আছে?
রুনা খান: আর্কিটেকচার মানুষ মনে করে ফর দ্য রিচ। মানুষ মনে করে পয়সা থাকলেই আর্কিটেক্টকে আনা যায়। প্রবলেম কী জানেন? আমি যেটা সব সময় বলি, দ্য পুওর ক্যান অনলি অ্যাফোর্ড পিওর সলিউশন। গরিবদেরকে আমরা যখন কিছু দিই, সেটা কিন্তু টপ লেভেলের হতে হবে। টপ লেভেলের না হলে চেঞ্জ আপনি আনতে পারবেন না। আপনি যদি বাচ্চাদেরকে কোয়ালিটি এডুকেশন না দেন, জাস্ট এডুকেশন দেন, হবে না। মনে করেন একটা স্বাস্থ্যসেবা আমরা দেব, সেই স্বাস্থ্য যদি কিওর না করে আপনার যে ডিজিজ, আপনার কোনো লাভ হয় এতে? কোনো চেঞ্জ হয়? কিছুই হয় না। আর্কিটেকচার ইজ অলসো এ বিট লাইক দিস। যখন আমরা ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটা করতে যাই, আমি ফার্স্ট থিং কী বলেছিলাম জানেন? কাশেফ, কার জন্য করছি আমরা এটা? এখানে ট্রেনিং হবে আমাদের চরের টিচার্সরা। আমাদের চরের কমিউনিটি মেডিক্সরা। আমাদের প্যারাভেটেরিনারি টেকনিশিয়ান। গ্রামের লোকজন, যারা হয়ত কোনোদিন গাইবান্ধাতেই আসে নাই, তাদেরকে এনে আমরা ট্রেনিং করাব। এমন একটা এনভায়রনমেন্টে ট্রেন্ড যেন না হয়, যেটা ওদের জন্য অ্যালিয়েন। অ্যানাদার প্ল্যানেট। তাহলে কিন্তু ওরা ওই ট্রেনিংটা মাথায় রাখবে না। ভুলে যাবে। ভাববে, যাই হোক ট্রেনিং পাইছি তো পাইছি। এখন তো আমি রিয়েলিটি। এ জন্য আমাদেরকে এমন একটা এনভায়রনমেন্ট দিতে হবে, এখানে আসলেও যেন ওরা নিজের জীবনটাকে ক্যারি করে নিয়ে আসতে পারে। আর যখন ফেরত যায়, সে যেন ওই ট্রেনিংটাকে সাথে করে নিয়ে যায়। ইউ সি, দিস ওয়াজ দ্য কনসেপ্ট অন হুইচ উই স্টার্টেড। অ্যান্ড আই সেড কাশেফ, দিস ইজ হোয়াট আই ওয়ান্ট। কাশেফ এটা রিয়ালাইজ করেছে। এর জন্য কাশেফ আমার বন্ধুও। হি ইজ রিয়েলি মাই ফ্রেন্ড অলসো। বিকজ হি ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড দিস। আমরা ওখান থেকে যখন ইট নেব, ইটের দুটো চয়েস ছিল। একটা ঢাকার ভালো ইট। সিরামিক ব্রিকস। আরেকটা নরমাল ব্রিকস। সিরামিক ব্রিকস বেশি দাম, পারব না। নরমাল ব্রিকস নিতে হবে। নরমাল ব্রিকস বেস্ট কোয়ালিটি ঢাকার আশেপাশে আছে। কিন্তু এটা গাইবান্ধার কাজ। আমরা ভাবলাম, এটা আমরা গাইবান্ধা থেকেই নিই। এতে মানুষের ওনারশিপ থাকবে। ইট খারাপ হবে? হোক। প্রত্যেকটা ইট ওরা হাতে করে ভালোবেসে বানিয়েছে। আর গাইবান্ধার লোক ভালোবেসে লাগাবে। আপনি দেখবেন, আমাদের যে সেন্টার, এটা পারফেক্ট না। বাংলাদেশে হাজার হাজার বিল্ডিংস আছে। কিন্তু এই বিল্ডিংটার প্রত্যেকটা জিনিস আমরা চিন্তা করে, মন লাগিয়ে করেছি। প্রত্যেকটা ইট হাতে বেছে বেছে নেওয়া। এটা খারাপ ইট, এটা মাটির নিচে যাবে। এটা ভালো ইট, এটা মাটির উপরে যাবে। এইভাবে করা। ওখানকার কোনো চেয়ারে কুশন পাবেন না। কেন জানেন? কারণ, মেইনটেইন করে কে? যারা বানিয়েছে বিল্ডিংটা। যারা ইট দিয়েছে, সেই মহিলাগুলোই কিন্তু ইটের মেইনটেইন করছে আমাদের বিল্ডিংয়ের। ইউ সি, এই ভালোবাসা দিয়ে কাজটা করা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: তার মানে আমরা কি বলতে পারি, আপনার এই দীর্ঘ জীবনে প্রচুর কাজের সাফল্যের সূত্র আসলে ভালোবাসা?
রুনা খান: হাহা। ভালোবাসার মধ্যেই। আই থিংক, ইউ নো, ইফ ইউ কান্ট লাভ হোয়াট গড হ্যাজ ক্রিয়েটেড, হাউ ক্যান ইউ লাভ গড? তাই না? আপনাকে একজন ভালোবাসে কিন্তু আপনার বাচ্চাকে যদি কেউ ভালো না বাসে তাহলে কি এটা ভালোবাসা হলো? সো এভরিথিং দ্যাট উই হ্যাভ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অবসর সময়ে আপনি কী করেন?
রুনা খান: টেলিফোনে কথা বলি। হাহাহা। তিন-চার বছর পর সেদিন মুভি দেখার সুযোগ হলো। অবসর নেই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি বাচ্চাদের জন্য বই লিখেছেন, রিডিং ওয়ার্কবুক লিখেছেন, রানী কাঞ্চনমালার স্টোরি নিয়ে বই লিখেছেন; বাচ্চাদের জন্য এই কাজগুলো আসলে কবে থেকে করা?
রুনা খান: আমার কাজের শুরুই বাচ্চাদের কাজ নিয়ে। আমার আশোকা ফেলোশিপ কিন্তু বাচ্চাদের টিচিংয়ের উপর। টিচিং মেথডোলজির উপর।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা, আপনি সারা জীবন মানবকল্যাণে কাজ করে গেছেন। আপনার পরে যারা আছে, যারা সেবামূলক কাজ করছে, আপনি তাদের আইকন, তাদের ব্যাপারে কী বলবেন?
রুনা খান: ইয়ুথ যারা আছে, ইউ নো, দে আর দ্য ফিউচার। এবং আমরা যাই করি, একটা জিনিস আমাদের কাজের থ্রেডে রাখতে হবে--হুইচ ইজ দ্য ভ্যালুজ উইথ হুইচ উই ওয়ার্ক। যদি আমরা ভ্যালু ছাড়া কাজ করি, উইথআউট এথিক্স কাজ করি, অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে আমরা সবাই কবরে যাচ্ছি, অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে ইউর ওয়ার্ক উইল হ্যাভ নো মিনিং অ্যান্ড পারপাস। এটা কিন্তু ক্যারি অন হবে। ভ্যালু দিয়ে যদি কাজ করি ইট উইল ওয়ার্ক। সো ইউ নিড টু হ্যাভ এ ভিশন। অ্যান্ড দ্যাট ভিশন হ্যাজ টু বি ইন দ্য স্টারস। বাট দেয়ার ইজ নো কম্পেনসেশন ফর হার্ডওয়ার্ক। সো ইউর ফিট হ্যাজ টু বি ইন দ্য মাড। অ্যান্ড ইউ হ্যাভ টু মুভ লাইক দ্যাট।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা, আর্ট-কালচার নিয়ে আপনার প্রচুর কাজ আছে। আমাদের এখানকার শিল্প-সাহিত্যের সংগঠনগুলো— বেঙ্গল বলি বা শিল্পকলা একাডেমি বলি— এদের সাথে আপনি প্রচুর কাজ করেছেন। বাংলার যে সংস্কৃতি, এটা নিয়ে কি আপনাদের ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের কোনো কাজ আছে?
রুনা খান: কালচারাল প্রিজারভেশনে আমরা যতটা করতে চাই এখনো অতটা আমরা করতে পারি নাই। সামনে আমাদের আরো অনেক কাজ আছে। আমরা প্রথমে নৌকাগুলো ধরলাম, কারণ, এটা কেউ ধরছিল না। বেঙ্গল যে জায়গাটায় উচ্চাঙ্গসংগীত নিয়ে এসেছে, অ্যাওয়ারনেস ক্রিয়েট করেছে, ভালোবাসা ক্রিয়েট করেছে, এটার জন্য উই আর অল গ্রেটফুল অ্যান্ড আই হোপ পিপল উইল কপি বেঙ্গল। অ্যান্ড আই হোপ আমরা ওদের সঙ্গে হোক, প্যারালালি হোক, আমরা যাই পারি, ওদের সাথে যেন কমপ্লিমেন্ট করতে পারি। কারণ, আপনি জানেন, আমাদের কিন্তু কালচারাল ফ্যামিলি। আমাদের বাসায় সবাই এসেছেন। বেলায়েত খাঁ সাহেব। এরপর ওস্তাদ আমানত আলী। ইনারা কিন্তু আমাদের বাসায় গান গেয়েছেন। পারিবারিকভাবে অনেক দিন ধরে আমরা কিন্তু আর্ট অ্যান্ড কালচারে আছি। কিন্তু এটা ভেরি আনফরচুনেট দ্যাট, যতটা আমি করতে চাই অতটা আমি করতে পারি নাই। অ্যান্ড ইট হ্যাজ মেইনলি বিন ফাইন্যান্সিয়াল কনস্ট্রেইন্ট অ্যান্ড অলসো দ্য ফ্যাক্ট আদার পিপল হ্যাভ স্টার্টেড ডুইং দিস। এনিবডি ডুইং ইট, ইটস ফাইন। দেখেন, যখন একটা ভালো ক্লাসিক্যাল মিউজিশিয়ান আসে, আপনারা দেখেছেন বেঙ্গলের ফেস্টিভ্যালের থ্রুতে, একটা রিকশাওয়ালা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে শোনে। তাই আমাদের প্রত্যেক অর্গানাইজেশনের, প্রত্যেক ইনস্টিটিউটের জন্য কালচারের জন্য কিছু না কিছু করা উচিত। যা করছে তার থেকে আরো বেশি করা উচিত।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা, আপনার জীবন-দর্শন নিয়ে যদি কিছু বলতে বলি... এই যে সুন্দর করে বেঁচে থাকা, এটা কেন পারতেছেন?
রুনা খান: ইউ নো, আই ওয়ান্ট টু স্লিপ অ্যাট নাইট পিসফুলি। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ডু এনিথিং হুইচ ইজ এগেইনস্ট মাই কনশেন্স। অ্যান্ড আই থিংক, আই অ্যাম এ কনশেন্স ড্রিভেন পারসন। আর ন্যায়-অন্যায় ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট ফর মি টু রেসপেক্ট হিউম্যানিটি, টু রেসপেক্ট পিপল। আই থিংক ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট ফর মি। আমি যখন শুরু করি কাজ, তখন আমাকে অনেকে বলেছিল, তুমি হিউম্যান রাইটস নিয়ে কাজ করো না কেন? আমি বলেছিলাম, ফ্রেন্ডশিপের বয়স যখন দশ বছর হয়ে যাবে, তখন যদি আমার বেনিফিশিয়ারিরা বলে, হ্যাঁ, ফ্রেন্ডশিপ কিন্তু ন্যায্য কাজ করে এবং আমার অর্গানাইজেশনে যারা কাজ করে, আমার কলিগস যারা আছে, এমনকি যারা চলে গেছে তারাও যেন বলতে পারে, ইটস অ্যান অর্গানাইজেশন, হুইচ ইজ জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার। ইউ নো, অনলি দেন, আই উইল স্টার্ট হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ক। অ্যান্ড ইউ নো, আই স্টার্টেড আমাদের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ দশ বছর পরে। বিকজ আমি যা, আমি ওই সত্যটা হতে চাই। আমি যেটা বলি এটা করা উচিত না, আমি যেন সেটা না করি। হোয়াট আই সে, আই ট্রাই টু ডু হোয়াট আই সে। আর এটা বিরাট শান্তি আনে। অ্যান্ড দ্য ফ্যাক্ট দ্যাট, জিরোজ ডু নট ডিক্টেট হোয়াট আই শুড ডু অ্যান্ড হোয়াট আই শুড নট ডু। যেমন, একটা কাজ আমাকে করতে হবে যার মূল্য এক হাজার টাকা। ভাবলাম, মাত্র এক হাজার টাকা তো, দরকার নাই করার। এরপর ওইটা যখন এক মিলিয়ন টাকা হয়ে যায়, তখন বলি যে এটা করা উচিত—এটা যেন কখনো না হয়। কাজটার মূল্য এক হাজার টাকাতেও যা, এক লক্ষ টাকাতেও তা, এক কোটি টাকাতেও তাই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা আপনি দেশে বিদেশে প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন। অভিনন্দন পেয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। আপনার জীবনের সবচে’ বড় অর্জন কী?
রুনা খান: ইটস সো সিম্পল। ইটস রিয়েলি সিম্পল। মানুষ সুখে থাকলেই আমি সুখী।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এই যে জীবন কাটালেন, কোনো অতৃপ্তি কি আপনাকে কষ্ট দেয়?
রুনা খান: মানুষের জীবনটাই তো কষ্ট। অ্যান্ড লাইফ ইজ ডিফিকাল্ট। হাউ মাচ ডু ইউ লেট দ্যাট মেক ইউ বিটার ইজ দ্য কোশ্চেন। আই ডোন্ট লেট লাইফ মেক মি বিটার। ধরেন কোনো লোক আমার সাথে কোনো খারাপ কিছু করেছে, ধরেন ওকে বিদায় করে দিতে হয়েছে, এরপর ধরেন এমন সিচুয়েশন এল, আমি আবার ইন্টারভিউ নিলাম এরপর জাজ করলাম একে রাখা উচিত, তখন কেউ বলল, আপা, এ কিন্তু আবার অমন করতে পারে! আই সেড নো, বিকজ ইউ নো হোয়াই! একটা খারাপ এক্সপেরিয়েন্স আমার চরিত্রটাকে যেন চেঞ্জ না করে। আমি যদি একটা খারাপ এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে আমার চরিত্রকে ডিসিশন মেকিং বানাই, আমার চরিত্রের অ্যাকশন যদি ওই খারাপ এক্সপেরিয়েন্সের উপর হয়, আমি বলি, হোয়্যার ইজ মাই স্ট্রেংথ? এটা শুধু একটা এক্সপেরিয়েন্স। আমার উইজডম একটা বাড়ল। দ্যাটস ইট। ওটা নিয়ে আমি আমার ডিসিশন বা আমি আমার দ্য ওয়ে আই গিভ ডিসিশন অব দ্য ওয়ে আই ওয়ার্ক, আই ডোন্ট লেট ব্যাড এক্সপেরিয়েন্স টাচ মি লাইক দ্যাট। অ্যান্ড আই থিংক দিস হ্যাজ বিন মাই স্ট্রেংথ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপা অনেক ধন্যবাদ। আপনি অনেক সময় দিলেন। আপনাকে অনেক জ্বালালাম। আশা করি ভবিষ্যতে আরো জ্বালাব।
রুনা খান: হাহাহা। একদমই না। থ্যাংক ইউ সো মাচ।

















